স্টাফ রিপোর্টার,বিজয় বার্তা ২৪
একতরফাভাবে নির্বাচনী ফসল আওয়ামী লীগ নিজেদের গোলায় তুলেছে অভিযোগ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রশাসনের ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগ সমর্থকরা বিপক্ষ প্রার্থী ও নীরব ভোটারদের রক্ত ঝরিয়েছে।
তিনি বলেন, অবৈধ শাসকগোষ্ঠী জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত, তাই পরাজয়ের আশঙ্কা থেকে স্বদর্পে বেরিয়ে আসার জন্য তারা এই মারমুখী নীতি অবলম্বন করেছে, সন্ত্রাসের রক্তগংগা বইয়ে দিয়েছে।
শনিবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শেষ ধাপের ইউপি নির্বাচনের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনগোষ্ঠী ইউপি নির্বাচনকে এক বিশেষ পরিবেশ দান করেছে, সেটি হোল বেপরোয়া হানাহানি, প্রানসংহার, প্রতিপক্ষের ওপর আকস্মিক আক্রমণ, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, বিএনপি’র নেতাকর্মীসহ ভোটারদেরকে বেধড়ক মারধর, তাদের বাড়ির দরজার সামনে বোমা বিস্ফোরণ, নিঃশব্দ ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করা, বয়স্ক মহিলা ও শিশুর ওপর হামলা, মারনাস্ত্রের অবাধ ব্যবহার, সব মিলিয়ে এক চরম অরাজকতার মধ্যে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে সরকার দলীয় প্রার্থীর অনুকুলে। প্রতিপক্ষ প্রার্থী ও ভোটারদের বাধা দিতে এই হিংসা ও রক্তক্ষরণের আয়োজন।
তিনি আরো বলেন, ইউপি নির্বাচনের এই শেষ ধাপে এসে বিএনপি’র এই ভবিষ্যৎ বাণীটি অক্ষরে অক্ষরে প্রমানিত হয়েছে। সরকার এক বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়। একদলীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করতে হলে জাতিকে ভাবনা চিন্তাহীন, কল্পনাহীন, স্বপ্নহীন, বিচার-বিবেচনাহীন ও নির্বোধ করতে হয়। আর এজন্য একদলীয় রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি তৈরী করতে সরকারী প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ স্থানীয় সরকারে নিজেদের লোক দরকার।
৭৫ এর বাকশাল এভাবেই সৃষ্টি করা হয়েছিল। যেহেতু তারা জনগণ কর্তৃক কোণঠাসা হয়ে পড়েছে তাই স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠান করে বিজয়ী হওয়া সম্ভব নয়। তাই স্থানীয় সরকারে তাদের একতরফা নিজেদের লোক দরকার, তা না হলে একদলীয় ব্যবস্থা কায়েম করা যায়না। গ্রামীণ আদালতের বিচারক হচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যানরা।