বন্দরবাসীকে দেওয়া উপহার দেয়া ফেরী ঈদ পর্যন্ত চলবে বিনা খরচে

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

নদীর এপাড়-অপারের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন হচ্ছে শীতলক্ষ্যা সেতু করা। কিন্তু শত চেষ্টার পরেও তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হচ্ছিল না। প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের ওসমানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শীতলক্ষ্যা-৩ সেতুর উদ্বোধন করা হলেও বন্দরবাসীর দুঃখ সহজেই দূর হচ্ছিল না।

তাই বন্দরবাসীর দাবী ছিল শীতলক্ষ্যা নদীতে আরেকটি সেতু করা। কিন্তু সেটা করতে একটু সময় লেগে যাবে। আর তাই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান কিছুদিনের জন্য হলেও বন্দরবাসীর দুঃখ ঘুচানোর জন্য ফেরীর ব্যবস্থা করে দিলেন। আর এ ফেরির মাধ্যমেই বন্দরবাসী যেন ঈদের আগেই ঈদের উপহার পেলো।

১৪ জুন বৃহস্পবিার দুপুর ১২টায় হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ খেয়াঘাটে ফেরীর উদ্বোধন করা হয়েছে। এখানে দুটি ফেরী চলবে এবং ঈদের দিন পর্যন্ত ফ্রি যাত্রী পারাপার করবে। এর সমস্ত ব্যয়ভার সেলিম ওসমান বহন করবেন। এছাড়া আগামী ৭ জুলাইয়ের মধ্যে ৫নং খেয়াঘাটে আরো ২টি ফেরীর উদ্বোধন করা হবে।

সেলিম ওসমান বলেন, বন্দরবাসীর দীর্ঘদিনের চাহিদা ছিল ফেরীর ব্যবস্থা করা। আপাতত ঈদের আগে ২টি ফেরীর উদ্বোধন করা হয়েছে। ঈদের পরপরই আরো ২ টি সেতুর উদ্বোধন করা হবে। সবমিলিয়ে ৪টি ফেরী সবসময় চলাচল করবে। এখনো অনেক কাজ বাকী রয়েছে। আশা করি এক মাসের মধ্যে সকল কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে।

সড়ক ও জনপথের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার বলেন, যেহেতু ব্রীজ দ্রুত করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই আপাতত ফেরীর ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য এমপি সেলিম ওসমানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ফেরী উদ্বোধন করা সম্ভব হয়েছে। ঈদের আগে এটাই বড় উপহার। আগামীতে সেতুও তৈরী হবে।

বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল বলেন, বন্দরবাসীর জন্য আজকেই ঈদ। ফেরী হয়েছে এবং ব্রীজও হবে। এমপি সেলিম ওসমান বিচক্ষণ লোক। তিনি সঠিক সঠিক সিদ্ধান্ত নেন। সেলিম ওসমান সবসময় বলে থাকেন, উন্নয়নের জন্য আমরা সকলেই এক।

বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিন্টু ব্যাপারী বলেন, আজকের দিনটি বন্দরবাসীর জন্য খুবই আনন্দের। আমাদের জন্য আজকেই ঈদ। ঈদের আগেই বড় ঈদের উপহার পেয়েছি। অচিরেই ব্রীজের স্বপ্ন পূরণ হবে।

ফেরী সম্পর্কে অনুভূতি জানাতে গিয়ে মো: সিরাজউদ্দিন নামের এক মধ্যবয়সী লোক বলেছিলেন, আমরা ৪০ বছরের নির্যাতন থেকে মুক্তি পেয়েছি সেলিম ওসামনের উছিলায়। আমরা দীর্ঘদিন ধরে মা-বোনদের নিয়ে মাঝিদের দ্বারা নির্যাতিত হয়ে আসছিলাম। সেলিম ওসমানের আমরা চিরঋণী। তার কারণে মাঝিদের অত্যাচার থেকে মুক্তি পেলাম। এর মাধ্যমে আমরা অনেক সুবিধা পাবো যা বলে শেষ করা যাবে না।

আব্দুল আজিজ নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, এ ফেরীর মাধ্যমে নদীর দুই পাড়ের মানুষের মাঝে দূরত্ব ঘুচিয়ে যাবে। আমাদের মাঝে যে ভেদাভেদ ছিল সেটা আর থাকবে না। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেলিম ওসমানকে ধন্যবাদ জানাই। এছাড়াও দ্রুত ব্রীজ চাই।

রিয়ান নামের এক ছাত্র বলেন, ফেরী হওয়াতে আমরা অনেক উপকৃত হয়েছি। বিভিন্ন সময় নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে থাকে। এখন থেকে নৌ দুর্ঘটনা কমে যাবে। বিশেষ করে আমরা যারা ছাত্র আছি, তাদের জন্য অনেক বেশি সুবিধা হয়েছে। এজন্য সেলিম ওসমানকে ধন্যবাদ জানাই।

রুবিয়া নামের এক নারী চাকরিজীবী নারী বলেন, ফেরী হওয়াতে আমরা অনেক আনন্দিত হয়েছি। এখন ফেরী হয়েছে আর কয়েকদিন পর ব্রীজ হবে। আমরা আমাদের স্বপ্ন পূরণে একধাপ এগিয়ে গেলাম। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানকে ধন্যবাদ জানাই।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.