উন্নয়ন নিয়ে কোন প্রকার রাজনীতি হলে আমরা বসে থাকবো না-সেলিম ওসমান

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বলেছেন, বর্তমান সরকার আরো ৮ মাস সময় রয়েছে দেশের উন্নয়ন কাজ করার। কিন্তু ইতোমধ্যেই অনেকের মাথা ব্যথা শুরু হয়ে গেছে। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের নৌকা নাকি লাঙ্গল মার্কা দেওয়া হবে। আমি বলতে চাই এটা সম্পূর্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে লাঙ্গলকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে প্রত্যেকটি বড় দলে নিজেদের মধ্যে বিভেদ রয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে আমি জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের কৃতজ্ঞতার সাথে ধন্যবাদ জানাই। তাদের দলীয় কাজ পরিচালনার জন্য একটি দলীয় কার্যালয়ের প্রয়োজন হয় না। তারা কোন টেন্ডার চায় না, টিআর কাবিখা চায় না। তারা শুধু চায় তাদের এমপি এলাকার মানুষের উন্নয়নের কাজ করুক এবং জাতীয় পার্টির কর্মীর নি:স্বার্থভাবে সেই উন্নয়ন কাজে সহযোগীতা করে আসছে। তবে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন নিয়ে কোন প্রকার রাজনীতি হলে আমরা বসে থাকবো না।

শনিবার দুপুর ১২টায় শামসুজ্জোহা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উন্নয়ন মেলা ২০১৮ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, নবাব সিরাজদৌলার সাথে মীর জাফর ছিল। বঙ্গবন্ধুর সাথে ছিল মোস্তাক। তাদের মীর জাফর ও মোস্তাকের ভূমিকায় বাংলাদেশে সৃষ্টি হওয়ার পরিস্থিতির কথা সবাই জানেন। আমাদের মাঝে এখনো মীর জাফর আর মোস্তাকরা রয়ে গেছে। যার কারনে নারায়ণগঞ্জে আজকে এই অবস্থা। আমি কোন দল দেখি না। কে কার লোক আমি সেটা দেখি না। যারাই নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের স্বার্থে সহযোগীতা করবে আমি তাদের সাথেই কাজ করবো। আর যারা উন্নয়ন নিয়ে রাজনীতি করবে উন্নয়নকে বাধা গ্রস্থ করবে আমি তাদের সাথে নেই। অতীতে অনেক ভুল ভ্রান্তি হয়েছে। আমি সকল রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি অনুরোধ সহ আহবান রাখবো আসেন অতীতের ভুল ভ্রান্তি ভুলে গিয়ে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নে সম্মিলিত ভাবে কাজ করি। যতদিন পর্যন্ত সকলে সম্মিলিত হয়ে কাজ না করবো ততোদিন পর্যন্ত কোন সরকারই উন্নয়ন করতে পারবে না। আর জনপ্রতিনিধিরা ঝগড়া করলে উন্নয়নে ব্যাঘাত ঘটবে। তখন প্রশাসনও কাজ করতে ব্যর্থ হয়। তাই আসুন অতীতের সব ভুলে গিয়ে সকলে একত্রে কাজ করি।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ এখন আর তলা বিহীন ঝুঁড়ি নয়। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে একটি রুল মডেল। আগে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল দুই ডিজিটের এখন সেটা বৃদ্ধি পেয়ে চার ডিজিটে পৌছেছে। বাংলাদেশ নীটওয়্যার রপ্তানিতে বিশ্বে এখন দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এই নারায়ণগঞ্জ থেকে সব থেকে বেশি নীটওয়্যার পন্য রপ্তানি হয়ে থাকে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে বন্দরের শান্তিরচরে দেড় হাজার একর জমির মধ্যে নীটপল্লী নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন। নীটপল্লী নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। নীটপল্লী নির্মিত হলে বর্তমানের থেকে ১৫০ গুন বেশি নীটওয়ার পন্য এই নারায়ণঞ্জ থেকে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। নারায়ণগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মিত হয়েছে। বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাটের উন্নয়ন হয়েছে। মদনগঞ্জ-সৈয়দপুর সেতু নির্মাণের কাজ চলছে। নবীগঞ্জ দিয়ে আরো একটি সেতু নির্মানের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। সেতু নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত নবীগঞ্জ ও ৫নং খেয়াঘাট দিয়ে ফেরী সার্ভিস চলাচলের জন্য কাজ চলছে। লাঙ্গলবন্দের উন্নয়নে মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যেটি মেডিকেল কলেজে রূপান্তরিত হবে। নারায়ণগঞ্জ কলেজকে উন্নয়ন করা হচ্ছে যেটি ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। শিল্পকলা একাডেমী ভবন নির্মিত হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ-কমলাপুর ডাবল রেললাইনের কাজ শুরু হয়েছে। ব্যক্তিগত ভাবে ৭টি ইউনিয়নে ৭টি স্কুল নির্মিত হয়েছে। বন্দর ও নবীগঞ্জ খেয়াঘাটে টোল ফ্রি করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও স্কুল কলেজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ গ্রামীন অবকাঠামোর অনেক উন্নয়ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আহবান জানিয়েছেন দেশের এক ইঞ্চি জমিও যেন পতিত না থাকে। একজন মানুষও যেন বেকার না থাকে। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।

ভবিষ্যত প্রজন্মের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমরা যারা আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম। আগামীতে তোমরাই ডিসি, এসপি, এমপি, মন্ত্রী, মেয়র হবে। তোমরাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তোমরা তোমাদের লেখাপড়া এবং জ্ঞানার্জনে মনোনিবেশ করো। আমাদের মাঝে ঝগড়া বিভেদ রয়েছে। আমরা সবাই না মরা পর্যন্ত হয়তো এটা ঠিক হবে না। তাই তোমরা আমাদের অনুসরন করো না। আমাদের অনুসরন করলে তোমরা ঝগড়া করাই শিখবে। তাই তোমাদের সকলের প্রতি অনুরোধ তোমরা আমাদের অনুসরন না করে আগামীর বাংলাদেশের জন্য নিজেদের যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলো।

জেলা প্রশাসক রাব্বি মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বেগম বাবলী, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিটের কমান্ডার মোহাম্মদ আলী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, র‌্যাব-১১ সিও লে.কর্নেল কামরুল হাসান, সহ অন্যান্যরা।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.