ফতুল্লায় তরুনলীগ নেতার যৌতুকের বলি মারুফা

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

বুক করা স্বপ্ন নিয়ে দীর্ঘ ২ বছরের প্রেমের সর্ম্পক্যকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য প্রেমিকের হাত ধরে ঘর বাধার স্বপ্ন দেখেছিল মেযেটি। ঘর বাধার স্বপ্ন বিভোর তরুনী পিতৃ সর্ম্পককে ছিন্ন করে প্রেমিকার হাত ধরে ঘর থেকে বের হয়ে এসেছিল। কিন্তু তরুনীর সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ পাওয়ার আগেই যৌতুকলোভী স্বামীর হত্যার প্ররোচনায় অনেকটা অভিমান নিয়েই পারি জমিয়েছে না ফেরের দেশে। গতকাল বুধবার দুপুরে ফতুল্লার পাগলা শাহীবাজার এলাকায় নিজ ঘরের আড়ার সাথে ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আতœহত্যা করে মারুফা (২০)। নিহত মারুফা পাগলা শাহীবাজার এলাকার হাবিবুল্লাহর মেয়ে। এ ঘটনার পর থেকে স্বামী সহ শুশুর বাড়ীর লোকজন পলাতক রয়েছে।

নিহত মারুফার বাবা হাবিবুল্লাহ্ জানান, গত ৫ মাস পূর্বে ফতুল্লার পাগলা শাহীবাজার এলাকার নাজিম উদ্দীনের ছেলে কুতুবপুর ইউনিয়ন তরুনলীগের সাধারন সম্পাদক সাদ্দামের সাথে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন যাওয়ার পর পরই যৌতুকলোভী স্বামী সাদ্দাম যৌতুকের জন্য তার মেয়ে মারুফাকে মানষিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। যৌতুকের বিষয়টি তার মেয়ে মারুফা তাদেরকে একাধিকবার জানিয়েছিল। কিন্তু হত দরিদ্র হওয়ায় তরুনলীগ নেতা সাদ্দামের চাহিদা মোতাবেক যৌতুক দিতে না পারায় দিনের পর দিন তার মেয়ের পর মানষিক ও শারিরীক অত্যাচার বেড়ে যায় সাদ্দামের। গত মঙ্গলবার রাতেও তার মেয়ে মারুফাকে পূনরায় সাদ্দাম যেীতুকের জন্য চাপ প্রযোগ করে। সাদ্দামের দাবিকৃত যৌতুক প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে মারুফাকে মারধর করে সাদ্দাম। গতকাল বুধবার সাদ্দাম বাড়ী থেকে বের হয়ে অন্যত্র চলে গেলে অনেকটা অভিমান নিয়েই তার মেয়ে গলাঁয় ফাঁস দিয়ে আতœহত্যা করে।

নিহতের পরিবার আরো অভিযোগ করেন, যৌতুকলোভী স্বামী সাদ্দামের মানষিক ও শারিরীক নির্যাতন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই তার মেয়ে মারুফা আতœহত্যা করে। আর এ হত্যার জন্য সাদ্দাম দায়ী বলে তারা অভিমত করেন।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক পাশ্ববর্তী ভাড়াটিয়ারা জানান, যৌতুকের জন্য প্রায় সময়ই মারুফাকে নির্যাতন করত সাদ্দাম। গত মঙ্গলবার রাতে মারুফার উপর নির্যাতন চালানো হয়। গতকাল বুধবার ঘরের জানালা দিয়ে দেখতে পায় মারুফা ঘরের আড়ার সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আতœহত্যা করেছে। পরে সাদ্দামসহ কয়েকজন ঘরের জানালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে লাঁশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্ত্যবরত ডাক্তার মারুফাকে মৃত ঘোষনা করে। এদিকে মারুফার মৃত্যু হয়েছে ডাক্তারের এমন বক্তব্য শোনার লাশ রেখেই পালিয়ে যায় সাদ্দাম।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি কামাল উদ্দিন জানান, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হওয়ার আগেই মারুফার লাশ নিয়ে চলে যায় নিহতের স্বামী সাদ্দাম। উক্ত আতœহত্যার বিষয়টি যদি হত্যার প্ররোচনা হয়ে থাকে তাহলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave A Reply