আদিল সাদ’র একগুচ্ছ কবিতা

0

বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম

(১)
কাগজে গোলাপ
আদিল সাদ

কাগজে গোলাপ লুকিয়ে
অপেক্ষা করা প্রহর
দূরে আলোকিত রাত,
ব্যস্ত ছায়ার,নতুন সন্ধায়
আমার ভুবনে
আজ আছি একা পথে।

নিরন্তর পাখিটার দিকে চেয়ে
সে যে আমায় বুঝে নি
ভালবাসার ভুবন জুড়ে।

ভূলের রাতে, আকাশে ছিল মেঘ
দুজনের গল্পে প্রেম
বৃষ্টির জলে,
না যেন ভুলের সাগরে
এক গভীর  আর্তনাথে
লুকিয়ে রাখে নিজেকে।

শুধুই দূরে স্বল্প স্পন্দন
কি যেন ভেসে ভেসে
ঐ আকাশে মুক্ত পায়রা উড়ে,
এক অজানা বন্ধনে।

আবার ফিরে এসেছি
একাকীত্ব  বাধনে, পবনের গতিতে
নিজেকে ফিরে পেয়ে।

আমি মুক্ত বাধনের
চলে গেছি নতুন রাজ্যে।

এ আমার নতুন নিয়তি
অসহায় বাঁধন।
আমি একা  ভাল আছি
নিত্য বুক ভরা স্বপ্নে।

(২)
জীবন সন্ধা
আদিল সাদ
নিত্য ফেরারীর নৈশব্দ,
জীবনে স্বপ্নের সুর –
মিশে যায় তীব্রগম্ভীর
এক নিবিঘ্ন বেলায়।
নতুন ঘ্রান, মায়াবী পথ
তলিয়ে যায় জীবনসন্ধায়।

শুরু যার শেষ, নতুন গল্পের প্রারম্ভিকতা
ধূলিমাখা, নর্দমায় পতিত
এক নির্ভীক সৈনিকের জীবন।

নিয়তির বিরহের দহনে
তৃপ্ত হাসি ফুটে,
ক্লান্তির প্রতিচ্ছবি চেহারা
যেন জ্বলছে আর জ্বলছে।
এক নৃপতি  অভাগার
মনের গহীন।

অভাব লালনে মূখ্য জীব
বেকারত্বের অভিশাপে
ভুগছে সেই নীলকান্ত মনির বিষে
ঘুমন্ত উৎসবে
নতুন মন্ত্র  শিখে
শুধুই দহিত দেহ
কুড়েকুড়ে তলিয়ে বিলিন।

নিস্তেজ মরনব্যাধী ছায়া
নিত্য শক্তির তরুর বীজ
আজ ঘিরে রেখেছে
মরনব্যাধী ইয়াবা।
দহনের সুর শুধুই
মৃত্যু আর মৃত্যু।

সভ্যতার এই ঘ্রানে
মুক্তি নেই
সৈনিকের হাতে জ্বালা মশালের
শুধুই ঝড়ের তীব্রমধ্যমে
মিশে গেছে এক জীবনসন্ধা।

(৩)
রঙ্গিন ঘুড়ি
আদিল
কষ্টের জমাভূত মেঘ
স্বপ্নের ঘটিকার বৃষ্টি
এ আবার কোন আবেগে
যার জলের স্নানে নতুন সৃষ্টি।

যার দহনে কৃষ্ণচুড়া
ফুটে ওঠে প্রান।
হৃদয়ের মত পিন্ড ক্ষনিতে
ক্ষত বিমূর্ত রাখে মান।

সে আমার মনের বাসরে
হাসিফুটায়  দুটি ঘরে
আভিমানের চিরমুকুটে
দরিদ্রতা আমার ঘরে।

বিদায় বিরহের সুরে
স্বপ্ন আচলে দূরে থাকে প্রেম,
বহমান মনের বাসনায়
শুধুই স্মৃতি ভেসে আসে।

সভ্যতার ঐ স্নান
সিড়িতেই থাকে
খোলা আকাশে মুক্ত ঘুড়ি
আমার মত চলে।

ভালবাসার গ্লানির সুর
আকাশের বুকে ভাসে
আবার ও নতুন জলের স্নানে
স্বপ্ন দেখি রঙ্গিন  ঘুড়িতে।

(৪)
চোখের ভেজা জল
আদিল

চোখের ভেজা জল
বুঝে না সে আর
উযানে কেন হৃদয়, চৈত্রের মত ক্ষয়
ভেলা আমায় স্রোত সম্মুখে
অচেনা পথে পাড়ি
শুধুই ভাবি,
এই আমি।

দু মেঠো  ভাতে খুশি
হাকারে যেন ভুগি
কি করে বলব তোমায়
স্বপ্নের মাঝে মরি।

স্রোতের সুর, নাবিকের কন্ঠহারা ডাক
কাপছে  পৃষ্ঠ নৌযান
সে তো এক বিরহ যান।

স্রোতহীন নেই জল,হৃদয়ে দেয় খেলা
তুমি যে আমার প্রিয়া,
আজও অজানা।

আবার সেই অষ্টহাসি, মূর্খের মত অভিনয়
সবই আমি পথিক,নাটকে অজানা।

দুজনে রাখা হাত,মনের প্রবাসের কথা
যেন আজ বিরহের সুর
একই সাথে গাঁথা।
শ্রমহীন সমাজ,উচ্চতর ভাষা
যেন আমি আজ হারিয়ে
সীমাহীন পথে অচেনা।

শুধুই ভাসি,হৃদয় হারা
অন্তহীন দ্রোহে বাস
জলন্ত কাঠি আমার বুকে
সে এক নিত্য ক্ষুধা।

বেকারত্ব প্রেম, কর্মহীন যুগ
আবার ফিরে আসে
অজানা পথে হারিয়ে গেলাম
ফসলের গোলা ভরা হাটে।

শুধুই হাসি, আমার মাঝে
চোখের ভেজা জলে
বুঝবে আবার নতুন করে
অজানা  স্বপ্ন খুজে।

(৫)
টানে অনাটনে
আদিল

এ ধারার কষ্টের শিলা
মনের বাঁধনে মিশে গেছে
এ আমার কোন বাঁধনে
নতুন ছোঁয়া মেতেছে।

নিয়তির ঝরে আবেগের ভেলায়
আধুনিক নগরের স্রোত
কাটিয়ে দিলাম প্রবাসী দিন
বিরহ তরীর পবন।

স্মৃতি ছিল আমার রঙিন চোখে
দুঃখ ভরা ক্লান্তে,
আমি হলাম বাঁধন হারা
সময়ের দ্বার প্রান্তে।

চেয়ে দেখি মনের ক্ষুধায়
অভাব ভেঙে গেছে ঘরে
ছেড়া জুতা ,একটি শার্ট
ধূলিমাখা প্যান্ট
স্মৃতি মেখে আছে।

আমার অর্থের লোভে ,
পিপাসার গ্লানি
শান্ত জীবনের সুর
পথের দ্বারে কুড়িয়ে বেড়াই
নব যৌবনের সুখ।

সবাই আমার মতো
বিজ্ঞ জ্ঞানী,
পেটের পীড়ায়,অনাটনে
খাটছে দিন মজুরির ঘানি।

তুমি ছিলেন আমার
মনের মাঝে
ছোট্ট নদীর ঢেউ
বিরহ কাতর ক্ষত মনে
আমার মতো কেউ ।

আমি আজ কর্মজীবি
পথদর্শনের প্রতিচ্ছবি
স্বপ্ন আঁকা এই পৃথিবীর
ভালবাসার ধ্বনি ।

ভাল থেকো প্রিয় তুমি
এ ধারায় মিশে
প্রার্থনা  তোমায় নিয়ে
যতদিন  থাকি বেঁচে ।

(৬)
ধর্ষিতা
আদিল সাদ
আমি ধর্ষনের শিকার
বিন্দু অগ্নি  এক অত্মজা
শুধুই ভোগে সবার দৃষ্টি
এই ধরনির নিগ্রহতা।
জীবনময় লালন করে চলেছি
এক মৃত সত্তা
নাবালিকা নিগ্রহের খেলায়
দেখো আজ ঘিরে রেখেছে
এ সমাজ ,
লগ্নি সাত পাকে ঘেরায়।
মানব সমাজে সকালে রোদ
শুকিয়ে মারে শিশির
আজও  ওরা নরখাদক
জ্ঞানের ভান্ডারে পুষিয়ে
অজ্ঞাত দৃশ্যে রাখি।

কে দিবে নিবাস
এই নিষ্পাপ পুষ্পে।
আমি তো অবলা
দাসত্ব দ্বারে অনুজ্ঞা
অবুঝ পথিক।

আমি নিসঙ্গ,আমি নিপিরিত
আমি  নিগুর শৃঙ্খল বন্দি
আর বিবাদী আমার মন
যেন রক্তাক্ত প্রান্তর।

আমার অকালপক্ক ছাপ
দোষে আমি দাসী
কেউ কি আছে,
আমায় করবে আশ্রয়ী?

মুক্তি হবে না
শিশু ,কিশোর আমার
মতো মেয়ের জীবন
হয়না যেন এমন ও জীবন

কবে আসবে সোনার বাংলা
বঙ্গবন্ধুর মতো পিতা
আশ্রয় দিবে আমাদের
মতো সহস্র ধর্ষতা।
আবার দেখবো আমার দেশে
সমৃদ্ধ সভ্যতার  দিন
সবারই ঘরে উঠবে জেগে
সোনালি হারানো দিন।

Leave A Reply