বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ২৯ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত পৃথক এই অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানা পুলিশ ৩৬ ঘন্টায় মোট ২৯ জন নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর থানা পুলিশ কর্তৃক ০৭ জন, ফতুল্লা থানা পুলিশ কর্তৃক ০৫ জন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ কর্তৃক ০২ জন, বন্দর থানা পুলিশ কর্তৃক ০৪ জন, রূপগঞ্জ থানা পুলিশ কর্তৃক ০৫ জন, সোনারগাঁও থানা পুলিশ কর্তৃক ০২ জন এবং আড়াইহাজার থানা পুলিশ কর্তৃক ০৪ জন নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়। এদেরকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে এবং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় হত্যা মামলায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
রূপগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত উপজেলার তারাব পৌরসভার বরপা ও পূর্বাচলসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগের সাত নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হচ্ছেন—মোস্তফা সারোয়ার নিশাত, রুহুল আমিন নেভী, জাহিদুল হাসান, মো. সাইফুল ইসলাম, মনি শিকদার, মো. রায়হান ও মো. রফিকুল।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, আটককৃতরা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ডাকা লকডাউন কার্যক্রম সফল করার উদ্দেশ্যে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
অন্যদিকে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ মঙ্গলবার রাতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও অন্যান্য মামলায় জড়িত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মো. শাহীনুর আলম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে চারজন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সক্রিয় কর্মী।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী মো. ভোলা (৫৪) মেম্বার, যুবলীগ কর্মী মো. মাইন উদ্দিন (২৪), স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও ৮নং ওয়ার্ডের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জিয়াউল হক জিয়া (৪৫), এবং যুবলীগ কর্মী মো. রবিন (৩৫)। বাকি ১১ জন মাদক ও বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওসি শাহীনুর আলম আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত ১৫ জনকে বুধবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

