বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় তিন ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর জানাজায় অংশ নিয়েছেন যুবলীগের এক কর্মী। সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকেলে দড়ি সোনাকান্দা মোড়ে স্ত্রীর জানাজার নামাজে অংশ নেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সশস্ত্র হামলার অভিযোগে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় গ্রেপ্তার এক যুবলীগ কর্মী।
গ্রেপ্তার ওই যুবলীগ কর্মীর নাম মো. সুমন। তিনি উপজেলার সোনাকান্দা এলাকার বাসিন্দা। ৪৫ বছর বয়সী এ যু্বলীগ কর্মী গত ৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সশস্ত্র হামলার মামলায় গ্রেপ্তারের পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
সুমনের বড়ভাই ইকবাল হোসেন বলেন, তার ভাই সুমন সন্ত্রাসী কার্যক্রমের কারণে বর্তমানে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বন্দর উপজেলার সোনাকান্দা ইউনিয়ন (বিলুপ্ত) শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে কোনো কমিটিতে পদ না থাকলেও যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
ইকবাল বলেন, বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সুমন গ্রেপ্তার হবার পর টানা দুʼদিন থানা ও আদালত ছুটে বেরিয়েছেন তার নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হাফেজা বেগম। চলতি মাসের শেষ দিকে প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ থাকলেও শনিবার (৮ নভেম্বর) সকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে পরদিন দুপুর তিনটার দিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মৃত সন্তান প্রসব করেন হাফেজা। পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান বলে জানান ইকবাল। বাচ্চার মরদেহ রোববারই দাফন করা হয়। স্ত্রীর জানাজায় প্যারোল পেয়ে সুমন আসতে পেরেছিল বলেও যোগ করেন তার বড়ভাই।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জানাজার নামাজের আগে স্ত্রী ও সন্তানের বিদেহী আত্মার জন্য সবার দোয়া প্রার্থনা করেন সুমন। স্বজনরা তাকে মৃত নবজাতকের ছবিও দেখিয়েছেন মোবাইল ফোনে, তখন কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
বন্দর থানা পুলিশের ওসি লিয়াকত বলেন, পুলিশি প্রহরায় সুমনকে জানাজার নামাজের জন্য নেয়া হয় এবং কার্যক্রম শেষে পুনরায় কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
