বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়নগঞ্জে আদালতে বিচারপ্রার্থী ব্যবসায়ী ইরফান সহ তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে মারধর ও লাঞ্চিতের ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় মহানগর বিএনপির আহবায়ক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন সহ নয়জনকে আসামি করে ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের। আহত রাজিয়া সুলতানা বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় সাখাওয়াত হোসেন খাঁন ছাড়াও আরও ৮ জনকে আসামী করা হয়েছে। এছাড়াও মামলায় আরো ৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে।
এর আগে গৃহবধূ রাজিয়া সুলতানা ও তার পরিবারের সদস্যরা মামলার দাবিতে থানা প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন। মামলা না নিলে তিনি থানা প্রাঙ্গণ ছাড়বেন না বলে হুমকি দিতে থাকেন।
মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফতুল্লা মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ফতুল্লার ইসদাইর এলাকার রাজিয়া সুলতানা ও তার স্বামী মো. ইরফান মিয়া দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ইসমাইলের নিকট আনুমানিক ২৫ লক্ষ টাকা পাওনা ছিলেন। টাকা ফেরত না পেয়ে তারা আদালতে মামলা করেন। ওই মামলার জের ধরে গত ২৬ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে নতুন কোর্ট এলাকায় উপস্থিত হলে প্রধান অভিযুক্ত এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের (৫০) নির্দেশে ইসমাইলসহ আরও কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা রাজিয়া সুলতানা ও তার স্বামীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে, পরে এলোপাথাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে রক্তাক্ত জখম করে।
রাজিয়া সুলতানার অভিযোগ, হামলার সময় তার জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। হামলাকারীরা তার স্বামীর কাছ থেকে নগদ ৬৫ হাজার ৫২৭ টাকা, দুটি মোবাইল ফোন (ইনফিনিক্স ও ভিভো), এবং তার গলা থেকে ১ ভরি ৩ আনি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তাদের চিৎকার শুনে ছেলে জিদান (১৭) ও আব্দুল্লাহ (৫) এগিয়ে এলে তাদেরও পিটিয়ে আহত করা হয়।
এদিকে বিষয়টিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খাঁন। তিনি বলেছেন, আমি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী। একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। কারণ ঘটনার সময় আমি ওই এলাকায় ছিলাম না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আমাকে দেখাও যায়নি।

