বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় শীতলক্ষ্যা নদীতে ভেসে আসা মাথাবিহীন লাশের ঘটনার তদন্তে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ আগস্ট দুপুরে বন্দর উপজেলার কুড়িপাড়া স্কুল মাঠসংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে মাথাবিহীন এক যুবকের লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে কাঁচপুর নৌ–পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পরে ২৮ আগস্ট সকালে পিবিআইয়ের একটি দল মর্গে গিয়ে নিহতের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে। এর মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহতের নাম হাবিবুর (২৮)। তিনি সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর মধ্যপাড়ার মো. চাঁন মিয়ার ছেলে।
এরপর নিহতের মা বাদী হয়ে ২৯ আগস্ট বন্দর থানায় হত্যা মামলা (নম্বর ৪৭) করেন। মামলাটি পিবিআই-এর তত্ত্বাবধানে নেওয়া হলে ৩০ আগস্ট দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ডে এনে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য মেলে।
পিবিআই জানায়, এর ভিত্তিতে গত ২ সেপ্টেম্বর রাত দুইটার দিকে সোনারগাঁও উপজেলার সোনাপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে চট্টগ্রামগামী গাড়িতে ওঠার সময় রনি হোসেন (৩২) নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ৩ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে সোপর্দ করলে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
আজ বৃহষ্পতিবার বিকেলে পিবিআইয়ের নারায়ণগঞ্জ ইউনিটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম) বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে, মাদক ব্যবসা ও এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে।’
তদন্ত–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যার পর হাবিবুরের পরিহিত জুতা উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া আরেক আসামি গোলজারের বাড়িতে রক্তের দাগও পাওয়া গেছে। তিনজন গ্রেপ্তার আসামিসহ আরও কয়েকজন মিলে হাবিবুরকে গলা কেটে হত্যা করে। এরপর তার মাথা বিচ্ছিন্ন করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
পিবিআই জানায়, বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধারের পাশাপাশি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

