বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের সদরে হত্যা মামলাসহ ১২ টি মামলার দুর্ধর্ষ আসামি ও শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মোঃ তানভীরকে (২৩) গ্রেফতার করেছে র্যাব।
আজ র্যাব-১১ এর উপ-পরিচালক মেজর সাদমান ইবনে আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত ১৪ মে নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন জিমখানা সাকিনন্ত বটতলা রাসেল পার্ক দক্ষিন পাশ এলাকায় একটি হত্যার ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় ভিকটিম এর বোন বাদী হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনা সূত্র ও এজাহার পর্যালোচনায় জানা যায় যে, ভিকটিম নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন নতুন জিমখানা গলি রোডের জনৈক স্বপন মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে।
ভিকটিম এবং আসামী মাহিন আহম্মেদ ভেলকি মাহিম (১৪), নাঈম আহমেদ (২১), প্যাকেজ ফাহিম (২৪), সাঈম (২৪) সহ আরো অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনের সাথে পূর্ব শত্রুতার জেরে গত ১৪ মে রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন রাসেল পার্ক এলাকায় কথা কাটা-কাটির একপর্যায়ে বিবাদী ভেলকির নেতৃত্বে অন্যান্য হত্যাকারীরা একত্রিত হয়ে ভিকটিমকে সুইচ গিয়ার (ছোড়া) ও চাকু দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে পথচারীরা মুমূর্ষ অবস্থায় ভিকটিমকে ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। পুলিশ সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে ভিকটিমের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে মর্গে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় ভিকটিমের বোন বাদী হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এরপরে তদন্তকারী কর্মকর্তার নিবিড় তদন্তে গ্রেফতারকৃত আসামী তানভীরের ঘটনার সহিত জড়িত থাকার প্রমান পায়।
র্যাব এর এই কর্মকর্তা আরো জানান, আসামী তানভীর জিমখানা বস্তি এলাকায় মাদকের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন, চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের কারনে তার নামে প্রায় ডজন খানেক মামলা নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় রয়েছে। গত ২০২৪ এর ডিসেম্বরে সদর থানার একটি আভিযানিক দল ঐ এলাকায় অভিযান পরিচালনাকালে মারাত্মকভাবে আক্রমনের শিকার হয়। এ আক্রমনের নেতৃত্বে ছিল গ্রেফতারকৃত আসামী তানভীর। সে একজন দূর্ধর্ষ মাদক সম্রাট এবং কুখ্যাত সন্ত্রাসী নামে বস্তি এলাকায় পরিচিত। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক আসামী মোঃ তানভীর (২৩)’কে নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন জিম খানা বস্তি এলাকা থেকে গতকাল বৃহষ্পতিবার রাতে র্যাব-১১ একটি দল গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। উল্লেখ্য যে, আসামীর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন থানায় হত্যা চেষ্টা, মাদক, চুরিসহ ১২ টি মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

