বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নিট শিল্পের সূতিকাগার নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলে শ্রম শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে মত বিনিময় সভা ও সাংবাদিক সম্মেলন করেছে বিকেএমইএ। সোমবার ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় বিকেএমইএ’র প্রধান কার্যালয়ে প্রথমে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভায় নারায়ণগঞ্জে রপ্তানীমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানে শ্রম শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট নীট গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের মালিকরা বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা চান তারা।
এদিকে সাংবাদিক সম্মেলন শেষে রপ্তানীমুখী প্রতিষ্ঠানগুলোতে শ্রম শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃংখলা বাহিনী সহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান বিকেএমইএ’র নেতৃবৃন্দরা।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, শ্রমিকদের যৌক্তিক সকল দাবি আমরা পূরন করবো। কিন্তু অযৌক্তিক কোনো দাবি, মেনে নেয়া হবে না। তিনটি বিদেশী ফ্যাক্টরির মালিক এখানে ছিলো, তাদের অন্যান্য দেশে ফ্যাক্টরী আছে। তারা বাংলাদেশে আরও বৃহৎ পরিসরে ইনভেস্ট করতে চেয়েছিলো। কিন্তু অবস্থা যদি এমন থাকে তাহলে তারা এই দেশ থেকে তাদের ব্যবসা অন্য দেশে নিয়ে যাবে তারা।
তিনি বলেন, বিদেশীদের হাতে এই ব্যবসাটা যাতে চলে না যায়। কারা লাভবান তা আপনারা সকলেই জানেন। কাজেই এই শিল্প যাতে ধ্বংস না হয়, সেজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকল সমস্যার সমাধান করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এই দেশটা আমাদের, এই দেশ এগিয়ে নিতে মালিক, শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগীতা প্রত্যাশা করছি। দেশের এই শিল্প যাতে অন্য কোনো দেশে চলে না যায়, সেলক্ষ্যে সকলকে সজাগ রাখতে হবে।
বিজিএমইএ সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, দেশের পরিস্থিতি যদি স্বাভাবিক না হয় তাহলে বিদেশী ক্রেতারা কিন্তু এই দেশে আসতে চাইবে না, অর্ডার দিতে চাইবে না। এই সংকটের সময় শ্রমিক, মালিক, সরকার আমরা সবাই যদি একসাথে কাজ করতে না পারি, তাহলে সংকট কিন্তু আরও বাড়বে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব এ. এইচ. এম সফিকুজ্জামান বলেন, শ্রমিকদের একটি দাবি হলো, বেতন দিগুন করতে হবে। কিন্তু এটি তো একটি সিস্টেম ওয়েতে হতে হবে। প্রতি বছর ৫ শতাংশ বেতন বাড়ানোর কথা, কিন্তু মূল্যস্ফীতি হয় ১০ শতাংশ। তাহলে তো তাদের খরচ মেটানো সম্ভব হয় না। তাই তাদের বেতন বাড়ানো উচিত, কিন্তু সেটা নিয়ম অনুযায়ী হতে হবে। একইসাথে, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ টিসিবির মাল যেভাবে দেয়া হয়, সেটার আগে শিল্পাঞ্চলগুলোতে আলাদা করে টিসিবির পণ্য ট্রাক সেল বিতরণ করার ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, যে কোনো মূল্যে ইন্ডাস্ট্রি সচল রাখতে হবে। এটা বন্ধ হলে মালিক-শ্রমিক সকলেই ক্ষতিগ্রস্থ হবো। হাজিরা দিয়ে বা দুপুর পর্যন্ত কাজ করে আন্দোলনের জন্য বাইরে বের হয়ে গেলে কাজের ক্ষতি হবে। উৎপাদন কম হবে। এতে করে বায়ারদের চাহিদামতো পণ্য দেয়া সম্ভব হবে না।
মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এ. এইচ. এম সফিকুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রম অধিদপ্তর ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ তরিকুল, শিল্প পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল মো. সিবগাত উল্লাহ পিপিএম, শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল আসাদুজ্জামান, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হক, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার সেনাবাহিনীর নারায়ণগঞ্জ জেলা কমান্ডিং অফিসার লেফটেনেন্ট কর্নেল আতিক।

