বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
বন্দরে দলীয় একটি কর্মসূচীতে যোগদান করতে যাওয়ার সময় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর উপর হামলা করে বেধড়ক পিটিয়েছে বিএনপির অপর একটি গ্রুপ। শুক্রবার ৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে বন্দরের নবীগঞ্জ কামাল উদ্দিন মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত টিপু ও মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ এই হামলায় বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি কাউন্সিলর আবুল কাউছার আশার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।
এছাড়া প্রভাব বিস্তার নিয়ে বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপির বহিস্কৃত নেতা আতাউর রহমান মুকুলের সঙ্গে সাখাওয়াত ও টিপুর বিরোধ ছিল। এদিকে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে প্রতিহত করেছে দাবী কাউন্সিলর আশার।
বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও আবু আল ইউসুফ খান টিপুর এমন অভিযোগ অস্বীকার করে ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কায়সার আশা জানান, নবীগঞ্জ এলাকার নূর হোসেন নামের এক বিএনপি কর্মী সম্প্রতি অভিযোগ তুলেছিলেন মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার কথা বলে সুজন নামের একজন যুবদল নেতা মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নামে ৩ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিল। তার দেওয়ার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে উঠে। টাকা না দেওয়াতে নূর হোসেনকে গত কয়েকদিন ধরে কয়েক দফা মারধর করা হয়। নূর হোসেনের অভিযোগ শুক্রবার সকালেও তাকে সুজনের লোকজন মারধর করে। এ নিয়ে নবীগঞ্জ ও আশপাশ এলাকাতে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সুজন মূলত মহানগর বিএনপির আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর অনুসারী হিসেবে খ্যাত।
তিনি আরো বলেন, উনারা সব কিছুতে আমাদের দেখে। নূর হোসেন নামে আমাদের একজন কর্মী আছে তিনগাঁও এলাকায় বাড়ি। বেশ কিছুদিন যাবত তাকে মামলায় ফাঁসানোর কথা বলে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে আসছিলো। সেই চাঁদা চাওয়ার বিষয়টির কল রেকর্ড রয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এ বিষয়ে। সেই নূর হোসেনকে আজকেও তারা মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। তার বাড়িতেও নিরাপত্তা নাই। নূর হোসেন বন্দরের স্থানীয়, মানুষের যখন ধৈর্য্যে বাধ ভেঙ্গে গেছে তখন নবীগঞ্জ তিনগাঁও এলাকার মানুষ সম্মিলিত ভাবে সেই সকল চাদাঁবাজদের আজকে প্রতিহত করেছে।
তিনি আরো বলেন, তাদেরকে চাঁদা না দিলেই হত্যা মামলার আসামী করে দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত আমাদের সেচ্ছাসেবক দল বন্দর উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক মোক্তার এর নামে হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সৌরভের নাম হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, সম্প্রতি আতাউর রহমান মুকুল উনার নামেও হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। তারা এমন একটা বাণিজ্য নিয়ে নিয়েছে। নারায়ণগঞ্জ শহরে ওইদিন কারা গুলি করছে তাদের সবাইকে আমরা চিনি জানি। তাদের বাদ দিয়ে বিএনপি কর্মী, ব্যবসায়ী মানে যাদের কাছে টাকা আছে চার্জশীট থেকে নাম কাটানোর সময় কোটি কোটি টাকা দিতে পারবে এমন ধান্ধাবাজি শুরু করে দিয়েছে। তো একটা সময় এসে তো মানুষ এসব সহ্য করে না। মানুষ গত ১৭ বছরের দু:শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে টিপু আর সাখাওয়াতের দু:শাসনে যাওয়ার জন্য যুদ্ধ করেনি। আজকে তিনগাঁও তারা প্রোগ্রাম দিয়ে ছিলো, পরিকল্পনা ছিলো প্রোগ্রাম শেষে নূর হোসেনের বাড়িতে হামলা হবে। তো আমাদের বন্দরে একটা ঐতিহ্য আছে যদি কেউ নির্যাতিত হয় তাহলে বন্দরের সব মানুষ এক হয়ে যায়। কে কোন দলের সেটা দেখে না।
বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপির বহিস্কৃত নেতা আতাউর রহমান মুকুল জানান, মহানগর বিএনপি’র সদস্য সচিব টিপু তার নিজের কৃতকর্মের জন্য জনগণের কাছে গণধোলাই খেয়েছে আমি কখনোই সন্ত্রাসের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না কখনোই মারামারি রাজনীতিতে বিশ্বাস করিনা। আমাদের রাষ্ট্র নায়ক তারেক রহমান সব সময় সুস্থ রাজনীতিতে বিশ্বাসী আমিও সুস্থ রাজনীতিতে বিশ্বাসী। কারো নিজেদের পাপের কর্মফলের দায়ভার নিতে আমি বাধ্য নই। কিন্তু আইন হাতে তুলে নেওয়া আমি কখনোই সমর্থন করি না এ ঘটনার আমি নিন্দা জানাই।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলার সময়ে নূর হোসেনকেও দেখা গেছে। তবে ঘটনার পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। শুক্রবার বিকেলে বন্দরে বিএনপির একটি কর্মসূচীতে যাওয়ার সময়ে নবীগঞ্জ ঘাটের অদূরে তিন রাস্তার মোড়ে জমায়েত হয় মহানগর বিএনপির নেতারা। হঠাৎ করেই ৪০-৫০ জন যুবক মিলে লাঠিসোটা ও বাশ নিয়ে তাদের ধাওয়া করে। এতে অনেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও টিপুকে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়। তার শরীরের পাঞ্জাবী ছিড়ে ফেলা হয়। উদ্ধার করতে গিয়ে আহত হন মাসুদ রানা ও মুন্না। তাদের মধ্যে মুন্না রক্তাক্ত জখম হয়।হামলায় মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু ও যুবদল নেতা মুন্না রক্তাক্ত জখম সহ অন্তত ১০জন আহত হয়েছে। এ সময় তাদের উপর হামলা চালিয়ে প্রায় আধঘন্টার মত একটি ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরিস্থিতি শান্ত হলে বিএনপির নেতাকর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে সন্ধ্যা তাকে রিসেন্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তাঁকে দেখতে হাসপাতালে ভীড় করেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

