বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের নবীগঞ্জ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। এসময় তার সাথে থাকা অন্তত তিন জন আহত হয়েছে বলে জানা যায়।
মহানগর বিএনপির টিপুর সাথে আহতরা হলো নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুন্না, শ্রমিক দল নেতা কাউছার। জানা যায় বন্দর থানার তিনগাও এলাকায় একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় টিপু এ হামলার শিকার হয়। পরে তাকে আহত অবস্থায় শহরের খানপুর তিনশো শয্যা হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে শহরের আরেকটি প্রাইভেট হাসপাতালে নেয়া হয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য।
এদিকে হাসপাতালে গিয়ে আহত টিপুর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বন্দরের তিনগাও এলাকায় একটি অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলাম। যাওয়ার পথে নবীগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে আমার ওপর অতর্কীত হামলা করা হয়। এসময় তার ওপর হামলার জন্য বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি কাউম্সিলর আবুল কাউছার আশার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, তাদের অনুসারী সৌরভ, রাজীব সহ আনুমানিক দেড় শতাধিক দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। তারা আগে থেকেই ওৎ পেতে থেকে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এসময় চাপাতি দিয়ে আমার ঘাড়ে কোপ দেয়া হয়। এসময় রক্ষা করার জন্য আমার সহযোগীরা এগিয়ে আসলে তাদেরকেও মারধর করা হয়। পরে কোনরকমে আমাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে শহরে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে আনা হলে আমার ঘাড়ে সেলাই করা হয়।
এদিকে টিপুর ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হেসেন খান বলেন, এটি একটি কাপুরষচিত হামলা। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময় যেভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে তাদের মধ্যে একজন হলো বিএনপি থেকে বহিস্কৃত নেতা আতাউর রহমান মুকুল ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক বিএনপি দলীয় সাংসদ আবুল কালামের ছেলে আবুল কাউছার আশার নেতৃত্বে আওয়ামিলীগ ও জাতীয় পার্টির লোকজন নিয়ে অতর্কীত হামলা চালায়। তাকে হত্যার উদ্দেশ্য চাপাতি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতেই বোঝা যায় তাকে হত্যার উদ্দেশ্য ছিলো। যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যাবস্থা নিবো।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পদোন্নতি প্রাপ্ত পুলিশ সুপার) চাইলাউ মারমা জানান, হামলার ঘটনার খবর পেয়েছি। তবে এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে কেউ কোন অভিযোগ করে নাই। আমরা উক্ত ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। অভিযোগ পেলে আমরা আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

