বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট নির্যাতনের ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তপূর্বক দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা এবং নিরীহ সংখ্যালঘু ব্যবসায়ী ও জনসাধারণকে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ আট দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির আওতায় শনিবার (১০ আগষ্ট) বিকাল সাড়ে চারটা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় কর্মসূচিটি পালন করে কয়েক হাজার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে শ্লোগান শ্লোগান দিতে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে চাষাঢ়া প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ে হাজার হাজর হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। এসময় দেশব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘর ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার বিচার দাবী করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। পরে চাষাঢ়া প্রেস ক্লাবের সামনে ও বিজয় স্তম্ভের সামনে কয়েক ঘন্টা সড়কে অবস্থান করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে তারা। এসময় প্রায় ২ ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে চাষাঢ়া থেকে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে উকিলপাড়া, কালীরবাজার মোর ও ২ নং রেল গেইট এলাকায় এসে মিছিলটি সন্ধ্যায় শেষ হয়।
এসময় আট দফা দাবীর মধ্যে তাদের অন্যতম দাবীগুলো হলো, “সীমান্ত সংলগ্ন যেসব অঞ্চলের মানুষের ঘরবাড়ি ছেড়ে সীমান্তে চলে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তাদের উপযুক্ত নিরাপত্তা ও সম্মানের সহিত নিজ ঘরে ফিরিয়ে আনা। প্রয়োজনবোধে সরকারি উদ্যোগে তাদের গৃহ নির্মাণ ও পুনর্বাসন করা।” “হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে পূর্ণাঙ্গ রূপে হিন্দু ফাউন্ডেশন হিসেবে নিবন্ধন এবং তার সামগ্রিক কর্মপরিসর ও অর্থবরাদ্দ বৃদ্ধি করে, কোনো প্রকার দলীয় লেজুড়বৃত্তিক ব্যক্তি ব্যতীত নিরপেক্ষ ও সনাতনীদের প্রকৃত শুভচিন্তক ব্যক্তিদের দ্বারা পুনর্গঠন।”
“সরকারের সকল পর্যায়ে সংখ্যালঘুদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।” “বিদ্যমান জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ন্যায় পৃথক, স্বতন্ত্র “জাতীয় সংখ্যালঘু সুরক্ষা কমিশন” গঠন, যা সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, নির্যাতনের ঘটনাগুলো নথিবদ্ধ করে আইনি প্রক্রিয়ায় সহায়তাপূর্বক ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে সাহায্য করবে।
“সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনায় বিশেষ নিরাপত্তা প্রদান এবং আক্রমণের ঘটনায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ। পরিস্থিতি পূর্ণরূপে স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীকে এই ব্যাপারে দায়িত্ব প্রদান।” “বিশেষ “সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন” প্রণয়নের মাধ্যমে বিশেষ গুরুত্বের সাথে সংখ্যালঘুদের মন্দির, ঘরবাড়ি, প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, লুটপাটের দ্রুততম সময়ে বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।” “সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উৎসব নির্বিঘ্নে যথাবিধি পালন হওয়ার ব্যাপারে উপযুক্ত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান।”
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জের কয়েক হাজার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক জন অংশগ্রহন করেন। এসময় তারা দাবি আদায় না হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী দেন।

