বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশ ছাড়ার খবরে নারায়ণগঞ্জের চার এমপি বাড়িঘর ও ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে আন্দোলনকারী বিক্ষুব্ধ জনতা।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের রাজপথে নেমে এসেছে হাজার হাজার মানুষ। জাতীয় পতাকা হাতে চলছে আনন্দ মিছিল। পাশাপাশি নানা বয়সের নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোর সবাই নেমে এসেছে রাস্তায়।
সোমবার (৫ আগস্ট) বিকাল ৩টার পর থেকে নারায়ণগঞ্জে চলছে বেপরোয়া হামলা-ভাঙচুর, লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞ। শহরের জামতলায় শামীম ওসমানের বাসভবনে ঢুকে সব আসবাবপত্র একে একে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এরপর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। চাষাঢ়ায় সেলিম ওসমানের বাড়িতেও ভাংচুর লুটপাট চালানো হয়। ধরিয়ে দেয়া হয় আগুন।
আল্লামা ইকবাল রোডে শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমেরি ওসমানের অফিসে ও ৭ তলা বাড়ি ভাঙচুর ও মালামাল নিয়ে যায় তারা। এ সময় ২টি গাড়ি ও ৭ টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। তোলারাম কলেজের মোড়ে শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমানের অফিসেও ভাঙচুর ও মালামাল লুটে নেওয়া হয়।
এছাড়া সংসদের হুইপ ও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জাপা নেতা সেলিম ওসমানের বাড়ি ও ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ লুটপাট করা হয়েছে। এছাড়া জেলা ও থানা পর্যায়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কার্যালয় ভাঙচুরসহ অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
এদিন শহরের নারায়ণগঞ্জ ক্লাব, রাইফেল ক্লাব, জেলা পরিষদ ভবনে শহরের বিভিন্ন মার্কেট বিপণি-বিতান, শো-রুম এ হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। এছাড়া জেলা পুলিশ লাইন, আঈাইহাজার বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হামলা ও ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা জানান, পুরো শহর এখন অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। খণ্ড খণ্ড গ্রুপ নিয়ে হামলা-ভাঙচুর লুটপাট চালাচ্ছে। ৯৯৯ বা প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চেয়েও পাওয়া যাচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেন অনেকে।

