বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
বিএনপির সাথে গনতন্ত্র চর্চার করার মানসিকতা আমার নাই বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একে এম শামীম ওসমান।
বৃহষ্পতিবার (২৬ জানুয়ারী) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্যানেলের নির্বাচনী প্রচারণায় সৌজন্য স্বাক্ষাতে এমপি এই মন্তব্য করেন।
শামীম ওসমান বলেন, নেতৃবৃন্দ বলছেন গনতন্ত্রের কথা, ভোট নিরপেক্ষ হওয়ার কথা। বিএনপির সাথে অত গনতন্ত্র তনতন্ত্র চর্চার করার মানসিকতা আমার নাই। বিএনপির ভাইয়েরা যারা আছেন ২০০১ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত কি করেছেন? এবং ৭৫ এর পরে আপনারা যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন কি করেছেন। এই আদালত থেকে আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দকে মার খেয়ে চলে যেতে হয়েছে। এগুলো সামান্য অত্যাচার। এমনকি এই পরিমান অত্যাচার করা হয়েছিল। আপনারা দেখবেন লিংক রোডে আমাদের পাপ্পু ও মনিরের কবর আছে। আমাদের ছেলেদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল, তাদের লাশের উপরও গুলি করা হয়েছিল। আমাদের বাড়ি ঘরেও হামলা করা হয়েছিল, ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, শুধু সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় এক খুনির নির্দেশে ৯ জন নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছিল। বিএনপির ক্ষমতার আমলে নারায়ণগঞ্জের উনপঞ্চাশ জন লোককে আমাদের হাত দিয়ে দাফন করতে হয়েছে। এরা তারা। যারা এখন এই কয়েকদিন আগে এমন একটা অবস্থার সৃষ্টি করলো ক্ষমতায় চলে আসছে , ক্ষমতায় চলে আসবে। ১০ ডিসেম্বর হেন হবে তেন হবে আমি বলেছিলাম ঘোড়ার ডিম হবে। এখনো বলছি ঘোড়া ডিম না বিএনপির কোন ডিমই হবে না। ঘোড়াও ডিম পাড়বে না ওদের জন্য। ওদের দিন শেষ। বিএনপি এখন আম্মা গ্রæপ ভাইয়া গ্রæপে ভাগ হয়ে গেছে।
তিনি আরো বলেন, যারা বিএনপি করছেন অনেক বড় কথা বলছেন, অনেক বড় বড় উচ্চারন আপনারা করছেন । আপনাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই শান্ত থাকুন নারায়ণগঞ্জের পরিবশে শান্ত থাকতে দেন। আমরা সবাইকে ক্ষমা করেছি। আমাদের অনেক নির্যাতন করা হয়েছিল। সেগুলো যদি একবার আমাদের মাথায় মনে পড়ে যায় তাহলে কিন্তু আপনাদের নারায়ণগঞ্জে বসবাস করা কঠিন হয়ে যাবে। এটা পরিস্কারভাবে বলতে চাই। আমরা ধৈর্য্য ধরেছি। কিন্তু আমরা দুর্বল না। আপনারা যে অপরাধ করেছেন তার জন্য আপনাদের বিচার হয়েছে। জনগন আপনাদের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে সব জায়গায় এবং নারায়ণগঞ্জ বারেও রায় দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এই বছরটা হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্রাইসেসের বছর। সমস্ত অশুভ শক্তি, সমস্ত ষড়যন্ত্রকারী এক হয়েছে। এরা কাঁমড় দিবে। দেওয়ার চেষ্টা করলে আর আমরাও যারা গনতন্ত্রে বিশ্বাস করি। যারা জাতির পিতার সৈনিক। আমরাও প্রস্তুত আছি ওই সমস্ত অশুভ শক্তির বিষ দাঁত ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য। আমরা প্রস্তুত থাকবো, ছিলাম, আছি এবং নারাণগঞ্জে আগামীতে নেতৃত্ব দিবো। সামনে ক্রাইসিস পিরয়ড তাই আমাদের কাজ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, এই বার একটি গুরুত্বপূর্ন জায়গা। এই বারের প্রার্থী সভাপতি জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক মোহসিন সহ প্রতিটা সদস্যই যাতে সকলেই সমান ভোট পান। এই বিষয়টা আমি আপনাদের দৃষ্টি রাখার জন্য বলছি। পারসোনাল কোন্দলে যাবেন না। সবাই ঐকত্রিত হয়ে বারের আওয়ামীলীগের প্যানেলকে জয়যুক্ত করুন।
তিনি আরো বলেন, অনেকেই এখন আমাদের উত্তেজিত করতে চটকদার চটকদার চটকদার বক্তব্য দেন। আমরা কোন পাগল ছাগলের কথায় উত্তেজিত হইনা। এটা পরিস্কার বাংলা কথা। তাই বলছি এই বারের এই প্যানেল আমরা দিয়েছি শুধু বারের জন্য না গোটা নারায়ণগঞ্জের জন্য। আমি বিশ^াস করি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই বারের নেতৃবৃন্দ আগামী প্রজম্মের জন্য একটা ভাল কিছু উপহার দিতে পারবে। আশা করি ইনশাল্লাহ বারের আওয়ামীলীগের ফুল প্যানেল জয়যুক্ত হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা.
পিপি এড. মনিরুজ্জামান বুলবুল, এক্স পিপি ও সিনিয়র আইনজীবী এড. ওয়াজেদ আলী খোকন, আইনজীবী সমিতি নির্বাচনের সভাপতি প্রার্থী হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোহসিন মিয়া সহ আওয়ামীলীগ পন্থী বারের সকল আইনজীবীরা।
আসন্ন নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে এবার আওয়ামীলীগ মনোনীত জুয়েল- মোহসিন প্যানেলে ১৭ প্রার্থী প্রতিদ্ধন্ধিতা করছেন। আগামী ৩০ শে জানুয়ারী এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

