বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
সরকারের নির্দেশে দুর্নীতি দমন কমিশন বিএনপি দমন কমিশনে রুপান্তরিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এড. আহমদ আযম খান। রবিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের তাজমহল চাইনিজ রেস্টুরেন্টে বিএনপির ঘোষিত যুগপৎ আন্দোলনের ১০ দফা দাবি ও রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখা নিয়ে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ শীর্ষক নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, আদালত মানুষের সবচেয়ে ভরসার আশ্রয়স্থল । সেই আদালত আজকে সরকারের অনুগত হয়ে গেছে। যে দুর্নীতি দমন কমিশন দুর্নীতিবাজদের আতংকের জায়গা হওয়া উচিত। আর ভাল মানুষের আশ্রয়স্থল। সেই দুর্নীতি দমন কমিশন সরকারের পকেটে চলে গিয়ে সরকারের অনুগত হয়ে এটা দুর্নীতি দমন কমিশন বিএনপি দমনের কমিশনে রুপান্তরিত হয়েছে।
তারেক ও জোবাইদার সম্পত্তি ক্রোক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারেক রহমান ও তার সহধর্মিনী ডা. জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে একটি কাল্পনিক মামলায় তাদের বৈধ সম্পদকে ক্রোকের নি্র্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই যে নির্যাতনে চিত্র এটা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। জোবাইদা রহমানের পরিবারের সম্পত্তি ৫৪ ও ৫৫ সালে কিনা যাদের কোন সম্পত্তি বাংলাদেশ আমলে কিনা না নয়। তাদের এর বাইরে আর কোন সম্পত্তি নেই। আর দেশ নায়ক তারেক রহমানের সম্পত্তি বলে কিছু নেই। জনাব তারেক রহমানের যে ব্যবসায়ের মূলধন পরিমান ছিল মাত্র সাড়ে ২২ লাখ টাকা। যার ইনকাম টেক্সে ক্লিয়ার করা। এই বৈধ টাকাকে অবৈধ হিসেবে উল্লেখ করে ক্রোক করা । এর চেয়ে নির্যাতনের নির্লজ্জ ফ্যাসিবাদী ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের আর কিছু দেখি নাই। এই ধরনের ফরমাসী আদেশের ফরমাসী নির্দেশের প্রতি তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি।
নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন জনগনের ভোটরে অধিকার নিশ্চিত করার জন্য একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সেই নির্বাচন কমিশন এখন সরকারের অনুগত হয়ে কিভাবে সরকারকে জিতানো যাবে । সেই সরকারী প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে। মাত্র কয়েকদিন আগেও নির্বাচন কমিশনার আনিসুর রহমান বলেছেন যে এই সরকারের অধিনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব তা গাইবান্ধা নির্বাচনে প্রমান করেছে। অর্থ্যাৎ ওনার কথায় প্রমান হয়েছে ওনি সরকারী একজন মানুষ এবং ওনি সরকারের অনুগত একজন যিনি নির্বাচনের কমিশনের একজন।ওনি তা প্রমান দিলেন।
তিনি আরো বলেন, আমরা কি ২০১৪ সালে দেখিনি এই সরকার নির্বাচন ছাড়া জনগনের সাথে প্রতারণা করে ক্ষমতায় এসেছে। সরকার বলেছিল এটা সংবিধান রক্ষার নির্বাচন। এটা এক মাস কি দু মাস হবে তারপরেই সকলেরর অংশগ্রহনে অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন করবো আমরা। সরকার কি কথা রেখেছে। সরকার পুরো জাতির সাথে প্রতারণা করেছে। ২০১৮ সালেও কি আমরা দেখিনি সংবিধানের কথা বলে আইনশৃঙ্থলাবাহিনীর সহায়তায় এই সরকার ২৯ তারিখ রাতে ভোটগুলো লুট করে নিয়েছে।সরকার সংবিধানের কথা বলে। সংবিধান কি বলেছেন নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতায় আসতে।সংবিধান কি বলেছে যে দিনের ভোট রাতে লুট করে নিয়ে আপনি নির্বাচনে যাবেন। কাজেই সরকারের এই সংবিধানের ধূয়াকে মানুষ বিশ্বাস করেনা।
ওবায়দুল কাদের ও ডা. হাসান মাহমুদের বক্তব্যের পাল্টা জবাবে তিনি বলেন, গতকাল এবং পরশো আওয়ামীলীগের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও হাসান মাহমুদ এরা বিএনপিকে ডাক দিয়েছেন নির্বাচনে যাওয়ার জন্য। হাসি পায় তাদের কথা শুনলে। আমরা তো নির্বাচনে যাওয়ার জন্য গত চৌদ্দটি বছর লড়াই করছি। নির্বাচনে যাওয়ার জন্য ভোট লুটের জন্য না।যারা লুটেরা তাদের অধিনে নির্বাচনে যাওয়ার জন্য না।যারা ভোট ছাড়া ক্ষমতায় থাকে পাঁচ পাঁচটি বছর তাদের অধিনে ও কর্তৃত্বে নির্বাচন যাওয়ার জন্য না। ওবায়দুল কাদের ও হাসান মাহমুদকে বলতে চাই নির্বাচনে যাওয়ার জন্য আমরা মুখিয়ে আছি। একটি নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকারের অধিনে আপনার নির্বাচনে আসুন। সেদিন সরকার প্রধান বলেছেন নির্বাচনে যদি জনগন ভোট না দেয়া তাহলে জনগনের কাছে চলে যাবো। নির্বাচন হোক নির্দলীয় তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধিনে।জনগনকে ভোট দেওয়ার সুয়োগ করে দিন দেখুন জনগন কাকে ভোট দেয়।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, একটি নির্বাচনই পাড়ে এই রাষ্ট্রের এই দুর্বস্থা থেকে নতুন করে যাত্রা শুরু করার জন্য। আর সেই নতুন করে যাত্রা শুরু করার জন্যই দেশ নায়ক তারেক রহমান ১০ দফা দাবি ঘোষনা করেছেন। এই ১০ দফা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আমরা যখন ক্ষমতায় যাবো গঠিত হবে একটি জাতীয় ঐক্য মতের সরকার। এর মাধ্যমে আমরা তারেক রহমানের ২৭ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে এই বাংলাদেশটাকে দেশ নায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সমৃদ্ধশালী দেশ গঠন করতে চাই। তারেক রহমানের ১০ দফা ও ২৭ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে আমাদের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করতে হবে। দাবি বাস্তবায়নে আমাদের হয় আন্দোলন করতে হবে, না হয় মরতে হবে। আমাদের বিকল্প কিছু নেই। আসুন দেশ গঠনে নেতাকর্মীরা সমাজের বিভিন্ন শ্রেনীর পেশার মানুষের কাছে এই ১০ দফা ও ২৭ দফা তুলে ধরেন। এই দফাগুলো যদি পৌছে দিতে পারেন তাহলে তারক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের বিজয় হবে সুনিশ্চিত।
আলোচনা সভায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীরমুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিনের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মনিরুজ্জামান, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম ফারুক খোকন, যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব সহ জেলা বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।

