বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
ঢাকায় বিএনপির সমাবেশের প্রভাব পরেছে নারায়ণগঞ্জেও। সকাল পেরিয়ে দুপুর হলেও জেলার সড়ক ও মহাসড়ক এখনো ফাঁকা। গাড়ি চলছে টুকটাক। সন্ত্রাশ, নৈরাজ ও অরাজগতা ঠেকাতে সড়কে তল্লাশী চালাচ্ছে পুলিশ। সকাল থেকে এখন পর্যন্ত সড়কে যানবাহন কম রয়েছে। একদিকে পুলিশের তল্লাশী অন্যদিকে যানবাহন কম থাকায় ভোগান্তীতে পরছে সাধারণ মানুষ। গাড়ি না পেয়ে বিকল্প ভাবে ভেঙ্গে ভেঙ্গে গন্তব্যে যাচ্ছে তারা। আবার কেউবা যাচ্ছে পায়ে হেটে।
এখন পর্যন্ত তল্লাশীতে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঢাকা- চট্রগ্রাম ও ঢাকা -সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন চেকপোষ্ট এ সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কের বেশীরভাগ স্থানই ফাঁকা। পরিস্থিতি মোকাবেলায় জলকামান ও সাজোয়াযান সহ সকল ধরণের প্রস্তুতি নিয়ে সড়কে অবস্থান করছে পুলিশ। সাইনবোর্ড, মৌচাক, কাঁচপুর, মদনপুর মহাসড়কে অটোরিকশা, লেগুনা, প্রাইভেটকার সহ কিছু যান চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ গামী গাড়ির কাউন্টারগুলো বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। সড়কেও তেমন দেখা যায়নি গাড়িগুলো।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বাস-মিনিবাস ও দূরপাল্লার পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি দিদারুল ইসলাম বলেন, যাত্রী কম থাকায় গাড়ি বন্ধ রাখা হয়েছে। যাত্রীর জন্য শ্রমিকরাও গাড়ি চালাতে চাচ্ছেনা। তাই মালিকরাও লোকশানের কারনে আপাতত কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। যদি যাত্রী বাড়ে তাহলে বিকেলে গাড়ি চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সাইনবোর্ড এলাকায় ফারুক নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, ফতুল্লার মাহমুদনগর বাসা থেকে সাইনবোর্ড আসতে অনেক ভোগান্তীতে পরতে হয়েছে। গাড়ির সংকট আবার ভাড়া বেশী। পুলিশের তল্লাশীতে পরেননি জানান তিনি। তিনি বলছেন, সাইনবোর্ড আসতে এত হয়রানী ঢাকায় কর্মক্ষেত্রে পৌছাবো কিভাবে।
চাষাঢ়া থেকে সোনালী নামে এক পথচারী তার বাচ্চাকে নিয়ে যাচ্ছেন ঢাকায়। তিনি জানান, আমার চাচা মারা গেছেন। ভোগান্তীর কথা ক্ষোভের সুরে বলেন, দেখতেই পাচ্ছেন কি কষ্ট হচ্ছে। গাড়ি নেই অনেকটা পথ বাচ্চা কুলে নিয়ে পায়ে হেটে আসছি। ঢাকায় যাওয়ার গাড়ি পাচ্ছিনা।
মৌচাক এলাকায় চেকপোষ্ট বসিয়ে তল্লাশী করছেন পুলিশ। এসময় সন্দেহে হলেই গাড়ি ও পথচারী থামিয়ে তল্লাশী চালাচ্ছেন তারা। এসময় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ৬ জনকে সন্দেহজনকভাবে আটক করেছেন বলে জানান সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান। তিনি জানান, সকাল থেকেই থেকে আমাদের নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে তল্লাশী চালাচ্ছি। এসময় সন্দেহজনক হওয়ায় ৬জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে মাঠে কাজ করছি।
সিদ্ধিরগঞ্জে থাকেন ইউসুফ নামে এক যুবক। কাজ করেন প্রাইভেট কোম্পানীতে। বাসা থেকে বের হয়ে পরেছেন কয়েকবার পুলিশের তল্লাশীতে। তার মধ্যে
বনশ্রী যাওয়ার গাড়ি পাচ্ছেননা বলে জানান তিনি। কাজে পৌছাতে পারবো কিনা অনিশ্চিয়তার মধ্যে আছি।
সরেজমিনে সড়কগুলোতে পুলিশের গাড়িই বেশী দেখা যাচ্ছে। জেলার ৭টি থানার চেকপোষ্টে সাড়ে ৮ শ পুলিশ সদস্য কাজ করছে। সেই সাথে কাজ করছে র্যাবের সদস্যরা। সড়কে বেশ সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে তাদের। দুপুর পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল জানান, সন্ত্রাশ, নৈরাজ ও অরাজগতা কেউ যাতে না করতে পারে সেজন্য আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি। সড়কের মূল পয়েন্টগুলোতে চেকপোষ্ট বসিয়ে তল্লাশী করছি। বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সাথে সাদা পোশাকে গোয়ান্দা সংস্থা কাজ করছে। সেই সাথে র্যাবও কাজ করছে। আমরা সবাই এলার্ট আছি। জনগনের যানমালের ও সরকারী সহ বিভিন্ন ধরনের স্থাপনার নিরাপত্তার দায়িত্ন যেহেতু পুলিশের। সেক্ষেত্রে কেউ যাতে অপ্রীতিকর ও নাশকতামূলক কার্যক্রম করতে পারে সেই লক্ষে কাজ করছি। আমরা আজকে সারাদিনই এই কার্যক্রম চালাবো। এখন পর্যন্ত কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

