বিজয় বার্তা ২৪ ডর কম
নারায়ণগঞ্জের তিন থানার চারটি স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীরা দফায় দফায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মশাল মিছিল করেছে। এসময় সড়কে টায়ারে অগ্নিসংযোগ চালালে যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় পথচারীদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পরে। বুধবার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে বলে জানায় পুলিশের কর্মকর্তারা। সদর থানার চাষাঢ়া বিবি রোডস্থ পপুলার গলির সামনে, ফতুল্লা থানাধীন সস্তাপুর কমর আলী স্কুলের সামনে ও শিবু মার্কেট এলাকায় এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মৌচাক এলাকা সহ চারটি স্থানে এ ঘটনা ঘটে। পৃথক পৃথক ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরিত ককটেলের অংশবিশেষ ও মশালের লাঠি উদ্ধার করা হয়। সদর থানা এলাকা থেকে চারজনকে আটক করা হয় বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সদর মডেল থানার ওসি আনিচুর রহমান।
ওসি আনিচুর রহমান জানান, চাষাঢ়া বিবি রোডস্থ পপুলার গলির সামনে বিএনপির কয়েকজন সমর্থক মশাল নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এসময় তারা গাড়িতে অগ্নিসংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করে, কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং সড়কে টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা পালিয়ে যায়। এসময় চারজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরিত ককটেলের অংশ বিশেষ ও মশালের লাঠি উদ্ধার করা হয়।বিএনপির কে বা কারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে সে বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
ফতুল্লায় ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি রেজাউল হক দিপু জানান, ফতুল্লা থানাধীন সস্তাপুর কমর আলী স্কুলের সামনে ও শিবু মার্কেট এলাকায় দুটি স্থানে বিএনপির সমর্থকরা মশাল মিছিল নিয়ে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। সড়কের কয়েকটি স্থানে টায়ারে অগ্নিসংযোগও করেন তারা। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ গেলে তারা পালিয়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ৭টি বিস্ফোরিত ককটেলের অংশবিশেষ ও মশালের লাঠি উদ্ধার করা হয়।ঘটনাটি বিএনপির কোন নেতাকর্মীরা ঘটিয়েছে সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ মৌচাক এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও সড়কে অগ্নিসংযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মৌচাক এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এসময় শ্লোগান দিয়ে তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং সড়কে অগ্নিসংযোগ করেন। ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরিত ককটেলের অংশবিশেষ ও মশালের লাঠি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি কারা ঘটিয়েছে সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত সে বিস্তারিত বলা যাবে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল জানান, এই ধরনের ঘটনার খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি।
জানমালের ক্ষয়ক্ষতি করার উ্দ্দেশ্যে তারা ককটেল বিস্ফোরণ ও সড়কে অগ্নিসংযোগ করে। ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শী থেকে আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। পুলিশ ও গোয়ান্দা সংস্থার একাধিক টীম ঘটনাস্থলে কাজ করছে। তদন্ত করে দুস্কৃতিকারীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
তবে এ ব্যাপারে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড, সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, আজকে সকাল থেকে এখন রাত পর্যন্ত আমাদের মহানগর বিএনপির কোন বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিলনা। রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল করলে সেটাতো সবাই ই দেখতো। এমন কোন কিছু হয়নি। ১০ ডিসেম্বর সমাবেশ বানঞ্চাল করার জন্য বানোয়াট ঘটনা বানানো হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গিয়াসউদ্দিন জানান, ১০ ডিসেম্বর সমাবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে এসব ঘটনা তৈরি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই আমাদের নেতাকর্মীর নামে গায়েবী মামলা দেওয়া হয়েছে। আজ আমাদের কোন বিক্ষোভ কর্মসূচি কিাবা মশাল মিছিলের কিছুই ছিলনা।

