বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ-বিএনপি কর্মী সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন-মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী একটি মামলার আবেদন করলেও আদালত তা খারিজ করে দিয়েছে। মামলায় জেলা পুলিশ সুপারসহ বেয়াল্লিশজনের নাম উল্লেখ করে মোট ১৫০ জন পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছিলো। অন্যদিকে ঘটনার দিন পুলিশের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার করা দশ আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন-মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শান্তিপূর্ণ র্যালিতে পুলিশ গুলি করে যুবদল কর্মী রাজা প্রধান শাওনকে হত্যার অভিযোগ তুলে দলের পক্ষ থেকে আদালতে এই হত্যা মামলা দায়েরের চেষ্টা করেন। রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়ির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসেনের আদালতে এই মামলার আবেদনটি করেন তিনি। এসময় বিএনপির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা রিজভীর সাথে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
তার এই মামলায় নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল, জেলা পুলিশের তিনজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সদর থানার ওসিসহ বিয়াল্লিশজনের নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছিলো। এক নাম্বার আসামি করা হয়েছে জেলা ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের এস আই মাহফুজুর রহমান কনককে।
মামালার আবেদনে অভিযোগ করা হয়, এক নাম্বার আসামি জেলা ডিবি পুলিশের এস আই মাহফুজুর রহমান কনকের অস্ত্রের গুলিতে যুবদল কর্মী শাওন নিহত হয়েছে এবং এ ঘটনায় অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা সহযোগিতা করায় তাদেরও আসামি করা হয়েছে।
বিএনপির আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ উদ্দিন তালুকদার বলেন, আদালত ২০৩ ধারায় মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন। মামলা আমলে নেওয়ার মতো কোন কারণ ছিল না উল্লেখ করে আদালত মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন। আমরা আশায় ছিলাম আদালত মামলা গ্রহণ করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে। কিন্তু তারা মামলা গ্রহণ না করে তা খারিজ করেছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের মন্তব্য হলো, প্রাথমিক মামলা থাকার পরও অদৃশ্য কোন চাপের কারণে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ আমলে নিলেন না। তারা এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতে যাবেন কিনা – এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আলোচনা করে আমরা এই বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করবো।
মামলার আবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, বিবাদীগণ দায়িত্ব অবহেলা করে স্থানীয় সরকারদলীয় নেতাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বিএনপি’র নিরস্ত্র ও শান্তিকামী নেতা-কর্মীদের উপর বেপরোয়াভাবে শান্তিপূর্ণ র্যালিতে গুলি, টিয়ারশেল, রাবার বুলেট, লাঠিচার্জ করে শাওনকে নিহত করে। অন্যান্য নেতা-কর্মীদের আহত করে। দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩০২/৩৪ ধারায় অপরাধ করেছে বলে বাদী উল্লেখ করেন।
মামলার আবেদন করার পর বাদীর আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, পহেলা সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল। সারাদেশে বিএনপি শান্তিপূর্ণ মিছিল করেছে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জসহ কিছু জায়গায় পুলিশ বিনা কারণে উসকানি দিয়ে শান্তিপূর্ণ মিছিলে সরাসরি গুলি করেছে। এতে বহু নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন এবং যুবদলের কর্মী শাওন বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। মিডিয়া, পত্রিকা এবং সেখানে যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের কাছ থেকে জেনে আদালতে এ মামলা দায়ের করলাম।
মামলার আসামি যাদের করা হয়েছিলো তারা হচ্ছে ক্রমান্বয়ে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিচুর রহমান, পুলিশ সুপার (এসপি) গোলাম মোস্তফা রাসেল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক অঞ্চল) নাজমুল হাসান, সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) তারিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আমীর খসরু, পুলিশের কনস্টেবল শাহরুল আলম, সোহাগ, আরিফ দেওয়ান, ফেরদৌস দেওয়ান, সেলিম, রিপন, যুগল, মামুন, রিয়াজ, হাফিজ, সহকারী উপ-পরিদর্শক ইকবাল হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, পুলিশের কনস্টেবল জাকির হোসেন, নাঈম, রাকিব, আনিস, সাইদুল, এএসআই সোহরাব, পুলিশ সদস্য ইনজামামুল, রাসেল, খলিলুর রহমান, মোহসিন, মোস্তাকিম, শাহাদাৎ, ফখরুল, আরিফ দেওয়ান, দীপক সাহা, শাহীন, ফরিদ উদ্দিন, মুরাদুজ্জামান, শাহীন, কবির হোসেন, মান্নান, রুবেল, সোহাগসহ অজ্ঞাতনামা ১৫০ জন।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী সিনিয়র যুগ্ন-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করে বিএনপির গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছে। গত ১ সেপ্টেম্বর ঘটনা তাই প্রমাণ করেছে। এর মাধ্যমে দেশে একদলীয় সরকারের নমুনার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলেও মন্তব্য করেন রুহুল কবির রিজভী।

