বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
ব্যাপক জনসংখ্যা অধ্যুষিত ওয়ার্ডটির অধিকাংশ সড়কই ভাঙাচোরা৷ সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা যেন নিত্যদিনের পরিচিত দৃশ্য। ধুলোবালি, মশার যন্ত্রণা, অপ্রতুল শিক্ষাব্যবস্থার সাথে যোগ হয়েছে দিনের বেলা ট্রাক চলাচলের আতঙ্ক৷ সম্প্রতি আদর্শনগরে প্রকাশ্য দিবালোকে বেপরোয়া ট্রাকের চাপায় নিহত হয় এক স্কুলছাত্র৷ এ নিয়ে বেশ তোলপাড় হলেও দিনে ট্রাক চলাচল বন্ধে ভূমিকা রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য,কুতুবপুরের ৫নং ওয়ার্ডর বহুল বিতর্কিত আলাউদ্দিন হাওলাদার।
স্থানীয় জনসাধারণের জানান, আলাউদ্দিন হাওলাদারকে বিতর্কের শেষ নেই৷ ছাগল চুরির অভিযোগে নিজ কার্যালয়ে ডেকে এনে দুই যুবককে বর্বর নির্যাতন চালিয়ে ২০২০ সালে দেশব্যাপী সমালোচিত হন তিনি৷ আলাউদ্দিন ও তার ছেলে তপন ওই অঞ্চলে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। কবরী আমলে আলাউদ্দিন ও তার পুত্র তপনের সন্ত্রাসী বাহিনী কুতুবপুরে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জুয়ার বোর্ড পরিচালনা করে নির্বিঘ্নে৷ মাদক ব্যবসার টাকার ভাগাভাগি নিয়ে পিতা-পুত্র একাধিকবার প্রকাশ্যে মারামারিতে জড়ান৷ এমনকি পুত্র তপন প্রকাশ্যে আলাউদ্দিনকে মারধর করেন৷ এমন লজ্জাজনক ঘটনার পরে আলাউদ্দিন পুত্র তপনকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন৷ এছাড়া আলাউদ্দিনের বাড়িতে বসা জুয়ার আসর থেকে তপনসহ ১৬ জুয়াড়িকে গ্রেফতার করে ফতুল্লা থানা পুলিশ। জনশ্রুতি রয়েছে, ওই অভিযানে আলাউদ্দিনও গ্রেফতার হন, কিন্তু প্রভাবশালী মহলের তদবিরে সে যাত্রায় বেঁচে যান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আলাউদ্দিন একজন বাজে চরিত্রের লোক৷ তিনি তার প্রবাসী আপন ভাগ্নের বউ কনিকাকে বিয়ে করেছেন৷ আলাউদ্দিন ভূমিদস্যুতায়ও লিপ্ত। প্রভাব খাটিয়ে অসংখ্য জমি দখলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ‘
স্থানীয় জনসাধারণের মতে, আলাউদ্দিন হাওলাদার সব ধরনের অপকর্মে পটু হলেও মেম্বার হিসেবে তিনি সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ। তার ওয়ার্ডের নূরবাগ, শাহীবাজার, দৌলতপুর, বউবাজার, নিশ্চিতপুরসহ অধিকাংশ এলাকার রাস্তার জরাজীর্ণ অবস্থা। জলাবদ্ধতা এসব অঞ্চলের প্রধান সমস্যা হলেও মেম্বার কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। মেম্বারের পুত্র তপন একজন চিহ্নিত মাদকাসক্ত৷ নেশা করে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়ানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে৷ পিতা ও পুত্রের সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হলেও এলাকাবাসী অজানা জুজুর ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না। সন্ত্রাসী জাহিদ, স্বপন, হায়দার, মুন্না, সোহেলসহ আরো বেশকয়েকজন সন্ত্রাসী রয়েছে তাদের বাহিনীতে।
গতবছর করোনার শুরুর দিকে ত্রাণ আত্মসাৎ এর অভিযোগও ওঠে আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে। ওয়ার্ডবাসী মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হলেও নির্বিকার আলাউদ্দিন ব্যস্ত নিজেকে পুনরায় মেম্বার হিসেবে দেখতে প্রচারণায়।
একাধিক সূত্রমতে, বিএনপি’র নেতাকর্মীদের সাথে গভীর সখ্যতা রয়েছে আলাউদ্দিনের৷ মূলত বিএনপি’র এজেন্ট হয়েই কাজ করেন তিনি৷ এর প্রমাণ মেলে গত ইউপি নির্বাচনে৷ নৌকার বিপক্ষে গিয়ে সেন্টুকে পাশে বসিয়ে আনারস প্রতীক সামনে রেখে একাধিক নির্বাচনী সমাবেশ- উঠান বৈঠকে অংশ নেন৷ প্রকাশ্যে আনারসের পক্ষে ভোটও চান আলাউদ্দিন ও তার লোকজন৷
স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, জনপ্রতিনিধি হিসেবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ আলাউদ্দিন হাওলাদারকে আর কোনোভাবেই মেম্বার হিসেবে চান না তারা৷ এই ওয়ার্ডে একজন সৎ, শিক্ষিত জনপ্রতিনিধি চান তারা৷

