বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নীতি ও আদর্শের প্রতি অবিচল ও নিষ্ঠাবান আওয়ামীলীগের একজন কর্মীবান্ধব নেতার নাম শামীম ওসমান। অতীত থেকে বর্তমান আওয়ামীলীগের কালজয়ী দুঃসময়ে আন্দোলন ও সংগ্রামে তার ভূমিকা পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত দেশব্যাপী। দলের নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করে রাখতে যে কজন নেতা রয়েছে তাদের মধ্যে শামীম ওসমান অন্যতম। দক্ষ সংগঠক হিসেবে তার দাদা-বাবা ছিলেন আওয়ামী লীগের বড় সম্পদ। নারাণগঞ্জ সহ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ঠিকানা ওসমান পরিবারের বায়তুল আমান। তাদের মতই একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে গড়ে উঠেছেন শামীম ওসমান। আওয়ামীলীগের নিবেদিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করে দলকে সুসংগঠিত করে রাখেন এই নেতা।
দলীয় সূত্র মতে, সম্প্রতি ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন ঘটনার মধ্য দিয়ে কর্মীবান্ধব শামীম ওসমানের কর্মী মূল্যায়ন ও দক্ষ সংগঠকের বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির ১নং থেকে ৩নং কার্যকরী সদস্যের তালিকায় সাংসদ শামীম ওসমান, তার স্ত্রী সালমা ওসমান লিপি ও তার ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়নকে সদস্য পদে দিয়েছিলেন ওই কমিটির নীতি নির্ধারকরা। বিষয়টি জানার পর ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সেক্রেটারী বরাবর সদস্য পদে তাদের নামের পরবির্তে ৩ জন ত্যাগী নেতার নাম দিয়ে মূল্যায়ন করার জন্য লিখিত আবেদন করেছিলেন এই নেতা। আওয়ামীলীগের দাপুটে সাংসদ শামীম ওসমান ওই সময় চিঠিতে লিখেন, ‘আমি ও আমার পরিবার মনে করছি, ফতুল্লা থানা এলাকায় আমাদের চেয়েও ত্যাগী, যোগ্য ও রাজপথের অসংখ্য সক্রিয় নেতাকর্মী রয়েছেন। যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে লালন করে আমাদের মাতৃতুল্য জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য লড়াই করছেন। আমরা মনে করি, ওই তিনটি কার্যকরী সদস্য পদে আমাদের পরিবর্তে উল্লেখিত ত্যাগী ও যোগ্য নেতাকর্মীদের মধ্য থেকে আপনারা তিনজনকে নির্বাচন করে তাদের মূল্যায়িত করলে আমরা আরও বেশি আনন্দিত হব।’
পরবর্তীতে শামীম ওসমানের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের তিনজনের সদস্য পদে ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শরীফুল হক, এনায়েত নগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক ও প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা মো. জালালউদ্দিনকে যুক্ত করা হয়েছে। তারা তিনজনই দীর্ঘদিনই ধরে আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে আসছে।
দলের তৃনমূল জানান, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক ও জননেত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন জননেতা সাংসদ শামীম ওসমান ও পরিবার আবারও মহানুবভতার পরিচয় দিয়েছেন। দলের ত্যাগী নেতাকর্মীর প্রতি এখানে তার ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এমন নেতার সান্নিধ্য পেয়ে আমরা গর্বিত। তার নেতৃত্বে আজও নারায়ণগঞ্জের আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবকলীগ ও ছাত্রলীগ সহ অঙ্গসংগঠন এখনো সুসংগঠতি রয়েছে। দলের এবং নেতাকর্মীদের দুঃসময়ে তিনি সব সময় নিবেদিত প্রাণ। তিনি জানেন দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের কিভাবে মূল্যায়ন করতে হয়। তার এবং তার পরিবারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
সাংসদ শামীম ওসমানের স্ত্রী সালমা ওসমান লিপি নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করছেন। আওয়ামীলীগের কোন পদে না থাকলেও স্বাধীনতার স্বপক্ষের এই দলটির জন্য নেপথ্যে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। ইতিমধ্যে করোনাকালে তার অসহায় মানুষের সহায়তার ভূমিকা গনমাধ্যমেও বেশ আলোচনায় আসেন তিনি।
তারই ছেলে অয়ন ওসমান রাজনীতিতে সরাসরি না থাকলেও নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দকে সুসংগঠিত করতে নেপথ্যে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। ওসমান পরিবারের এই চতুর্থ প্রজম্ম নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির ডিরেক্টর পদে রয়েছেন।
জেড এন্ড গ্রুপের ব্যবস্থপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইতিমধ্যে ব্যবসায় কর্মকান্ডে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন তিনি। এদিকে দাদা, বাবা-মা ও চাচাদের মত নারায়ণগঞ্জবাসীর সেবায় দীর্ঘদিন যাবৎ কাজ করে চলেছেন তিনি। করোনা মহামারী সহ বিভিন্ন দুঃসময়ে মানুষের সেবায় ভূমিকা রেখে প্রশংসা পেয়েছেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধী ও জামায়াতের আমির গোলাম আজমকে নারায়ণগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, জিয়াউর রহমানের গাড়ি আটকে দেয়া, খালেদা জিয়ার লংমার্চ আটকে দেওয়ার মতো বড় রাজনৈতিক ক্ষমতার শো-ডাউন দেখান আওয়ামীলীগের দাপুটে সাংসদ শামীম ওসমান। ১৯৯৬, ২০১৪ এবং সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসন থেকে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি এবং দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় সুত্রে জানা যায়, ওসমান পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন তিনি। মন্ত্রীত্ব এবং কেন্দ্রিয় আওয়ামীলীগে তার নাম প্রস্তাব আসার পরও তিনি তা না নিয়ে কয়েকবার অন্যদের সুযোগ করে দিয়েছেন। একজন আওয়ামীলীগের কর্মী হিসেবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সুসংগঠিক করে রেখেছেন। দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে না থাকলেও রাজনীতিতে তার সক্রিয় প্রভাব এখনো বহাল রয়েছে। আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে বেশ পরিচিত তিনি।

