বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে বেপরোয়া গতিতে জাহাজ চালিয়ে লঞ্চ ডুবির ঘটনায় ৩৫ জনকে হত্যার অভিযোগ এনে রাতে বিআইডব্লিউটি’র ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক বাবু লাল বৈদ্য বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে এসকে ৩ নামের লাইটার জাহাজের সংশ্লিষ্টদের। বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি দিপক সাহা জানান, লাইটারেজের সংশ্লিষ্টদের অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ জাহাজটিকে আটকসহ ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনবে। রবিবার নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় লঞ্চ টার্মিনাল থেকে সাবিত আল হাসান নামে লঞ্চটি অর্ধ শতাধিক যাত্রী নিয়ে সন্ধ্যা ৬ টা দিকে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে লঞ্চটি শীতলক্ষ্যা নদীর সদর উপজেলার কয়লাঘাট এলাকায় গেলে পেছন থেকে একটি লাইটারেজ জাহাজের ধাক্কায় নদীতে তলিয়ে যায়। এ ঘটনায় উদ্ধার অভিযানে নামে ফায়ার সার্ভিস,বিআইডব্লিউটিএ, নৌ বাহিনীর ডুবুরী দল ও নৌ পুলিশের সদস্যরা। মঙ্গলবার সকালে শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসমান অবস্থায় ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করে উদ্ধারকারীরা। সোমবার শীতলক্ষ্যা নদীতে ডুবে যাওয়া সাবিত আল হাসান নামের লঞ্চটি উদ্ধার করে বিআইডব্লিউটিএ উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যায়। লঞ্চের ভেতর থেকে ২২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরে সোমবার দুপুরের পর আরো ৩ টি লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে আরও ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। পরে নৌ পুলিশের সহায়তায় নদীর তীড়ে উঠিয়ে আনা হয় লাশগুলো। মোট ৩৫ জনের মরদেহ উদ্ধারের পর তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে জেলা প্রশাসন।
এদিকে নারায়ণগঞ্জে লঞ্চ ডুবির ঘটনায় নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয় ও জেলা প্রশাসনের গঠিত দুটি তদন্ত কমিটির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ও তদন্ত কাজ শুরু করেছে। গঠিত সাত সদস্যে তদন্ত কমটি আগামী ৮ এপ্রিল সকাল ১১ টায় দুর্ঘটনা স্থলে গণশুনানী অনুষ্ঠিত হবে। এতে নিহত পরিবার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের নিয়ে তাদের স্বাক্ষাতকার গ্রহন করবে তদন্ত কমিটি।

