স্টাফ রিপোর্টার,বিজয় বার্তা ২৪
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থার ফলে দেশে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। মানুষ ন্যায় বিচার পাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিকভাবে দেশী-বিদেশী নাগরিকগণ তাদের জীবন-যাপন ও ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করছে। আইন শৃংখলা বাহিনী তৎপর থাকার ফলে দেশে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে দেশের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার কারণে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি দৃঢ়তর হচ্ছে।
বুধবার সংসদে এম এ আউয়ালের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব ধরনের জঙ্গিবাদ, নাশকতা ও সহিংসতার সাথে জড়িত ও হুকুমদাতাদের আইনের আওতায় আনতে ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশসহ সব আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকালী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা সমূহে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সব বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদসহ যেকোনো ধরনের অরাজকতা রোধ করে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান এবং সার্বিক আইন শৃঙ্খলা রক্ষার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জনগণের মৌলিক অধিকার ও মানবাকিার সমুন্নত রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
জনগণ ঈদে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারবে : মাহফুজুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঈদ-উল-ফিতরে জনগণ যাতে যানজটমুক্ত ও নির্বিঘ্নে বাড়ি আসা-যাওয়া করতে পারে তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ জন্য আগামীকাল আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেই সভায় ৩২টি প্রস্তাব বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পূর্ববর্তী ঈদ-উল-ফিতরগুলোর চেয়ে আগামী ঈদ-উল-ফিতরে জনসাধারণ আরো স্বচ্ছন্দে, আনন্দঘন পরিবেশে ও নির্বিঘ্নে বাড়ি আসা-যাওয়া করতে পারবে।
আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় উত্থাপন হতে পারে এমন সব প্রস্তাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে একমুখী যান চলাচল ব্যবস্থা চালু করাসহ আইন অমান্যকারী যানবাহন ও চালকের বিরুদ্ধে এবং অবৈধভাবে পার্কিংকৃত যানবাহনের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা মহানগীর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত ও সংস্কার করা। জাতীয় আঞ্চলিক মহাসড়কসমূহ যানজটমুক্ত রাখা। দুর্ঘটনায় পতিত গাড়ি দ্রুত অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক রেকার ও ক্রেন প্রস্তুত রাখা। এছাড়া বঙ্গবন্ধু সেতুসহ সকল টোল প্লাজার সব বুথ চালু রাখা হবে।
তিনি জানান, ভিজিলেন্স টিম গঠন এবং ঢাকা মহানগরীতে প্রবেশ ও বহির্গমন মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখা হবে। ঈদে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না।
মহাসড়কের অবস্থা বর্তমানে ভালো জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহাসড়ক ভালো হলেও জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা মহাসড়কের পরিস্থিতি সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের অভ্যন্তরীণ মনিটরিং পদ্ধতিতে পর্যবেক্ষণে রাখবে।
তিনি আরো জানান, ঢাকা মহানগরীতে প্রবেশের ও বহির্গমনের মূল সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ কমানোর লক্ষ্যে ছোট যানবাহনকে বিকল্প মহাসড়ক ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করতে হবে। মহাসড়কের অপব্যবহার বন্ধ করা হবে। মহাসড়কের উপর ধান, পাট, খড়, কাঠ ইত্যাদি শুকাতে দেয়া যাবে না। স’ মিলের কাঠ ও নির্মাণ সামগ্রী মহাসড়কে রাখা যাবে না। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মহাসড়কের পাশে অবস্থিত পেট্রোল পাম্প, সিএনজি স্টেশন, হাইওয়ে রেষ্টুরেন্ট, ডাক বাংলো এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টয়লেটগুলো ব্যবহার উপযোগী রাখতে হবে। মহাসড়কে লক্কর-ঝক্কর গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ঢাকা শহরে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং এবং যাত্রী উঠানামা বন্ধ করা হবে। যত্রতত্র পার্কিং বন্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। ফেরিঘাটে পর্যাপ্ত সংখ্যক যান্ত্রিক ত্রুটিমুক্ত ফেরির চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। নসিমন, করিমন, ইজিবাইক মহাসড়কে, জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে বন্ধ নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া ঈদের সাত দিন আগে ও তিন দিন পরে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের চলমান উন্নয়ন কাজ জনস্বার্থে বন্ধ রাখার সুপারিশ করা হবে। সব সিটি কর্পোরেশন ও সব উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সড়কসমূহ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। সিএনজি স্টেশন সার্বক্ষণিক চালু রাখা হবে। জরুরি সার্ভিসসমূহ প্রস্তুত রাখা হবে। অস্থায়ী ভাসমান বাজার অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্পেশাল বাস, ট্রেন ও লঞ্চ সার্ভিস চালু করা হবে। বিনা প্রয়োজনের মহাসড়কে যানবাহন থামানো যাবে না। নির্দিষ্ট সময়কালের জন্য ট্রাক, লরি ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ রাখা হবে। গার্মেন্টসগুলো ভিন্ন ভিন্ন দিনে ছুটি প্রদান ও খোলার ব্যবস্থা রাখাসহ ৩২ প্রস্তাব আন্তঃমন্ত্রণালয়ে উঠছে।