বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
রূপগঞ্জে আবারও মেছো বাঘ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের মাঝিনা এলাকার মাদ্রাসা সংলগ্ন একটি বাড়ি থেকে বাঘটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
মাঝিনা এলাকার সোহেল মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া ছনেরটেক মসজিদের ইমাম আব্দুর রশিদের ঘরের ভিতর প্রথমে বাঘটিকে দেখতে পান তাঁরই নাতি আরাফাত রহমান। আরাফাতের চিৎকার চেচামিতে আশেপাশের লোকজন ছুটে এলে বাঘটি খাটের নীচে লুকিয়ে পড়ে। স্থানীয় এলাকাবাসীরা কৌশলে মশারি দিয়ে মেছো বাঘটিকে আটক করতে সক্ষম হন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় গ্রাম পুলিশ মোক্তার হোসেন জানান, লোকজন বাঘটিকে আটক করে মাঝিনা পুকুরপাড় আলী আজগরের দোকানের সামনে নিয়ে আসলে উৎসুক জনতার ভীড় জমে যায়। পরে বাঘটিকে লোহার খাঁচায় বন্দী করে স্থানীয় মাজিনা পুকুরপাড় এলাকার লজ্জা মিয়ার বাড়িতে রাখেন।
মোক্তার মিয়া আরও বলেন, এ ব্যাপারটি স্থানীয় ৪ নং ওয়ার্ড মেম্বার ওমর ফারুক ভুইয়া ও থানা পুলিশকে জানিয়েছি।
মেম্বার ওমর ফারুক ভুইয়া জানান, বিষয়টি শুনেছি। আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি।
এই উপজেলায় মাঝে মধ্যেই জীবিত বা মৃত মেছো বাঘ উদ্ধার করছে সংশ্লিষ্টরা। এ নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
২০১৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রূপগঞ্জের চনপাড়া-নগরপাড়া গাজী বাইপাস সড়কের কায়েতপাড়া ইউনিয়নের দেইলপাড়া এলাকা থেকে একটি মৃতঃ মেছো বাঘ উদ্ধার করা হয়েছে।
দেইল পাড়া এলাকার মোতালিব মিয়া জানান, প্রায়ই এ সড়কে রাতের আধারে মেছো বাঘের আনাগোনা দেখা যায়। এ নিয়ে আমরা আতঙ্কে আছে ভাই।
মাঝিনা এলাকার সফিক মিয়া জানান, গত বছরও দক্ষিণ পাড়া এলাকা থেকে একটি জীবিত মেছো বাঘ উদ্ধার করা হয়। এ বাঘ নিয়ে এলাকাবাসীরা এখন আতঙ্কে দিন যাপন করছে। কোথা থেকে আসে, কখন যে কার ক্ষতি করে ফেলে তার ঠিক নাই।
এব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ, বি এম জাহাঙ্গীর রতন জানান, শুনেছি বাঘটি মূলত মেছো প্রজাতির। আশেপাশে ঝোঁপঝাড়পূর্ণ থাকায় এখানে বাঘের আনাগোনা রয়েছে। এরপূর্বেও একটি জীবিত মেছো বাঘ উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে আমরা চিরিয়াখানায় পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। তখনই স্থানীয়রা আমাকে জানিয়ে ছিল যে, এখানে গভীর রাতে আরও বাঘ চলাচল করতে দেখা গেছে।
রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুল হাসান জানান, শুনেছি মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯ টায় মাঝিনা এলাকার একটি বাড়ি থেকে মেছো বাঘ আটক করা হয়েছে। এরপূর্বেও দক্ষিণ পাড়া থেকে একটি জীবিত বাঘ উদ্ধার করা হয়েছিল। কোথা থেকে এ এলাকায় প্রায়ই বাঘ আসে, অথবা কেউ এনে ফেলে রেখে যায় কি-না এ ব্যাপারে এখনও বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

