বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে পাচারকারী চক্রের এক নারী সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় বিদেশে পাচার করার উদ্দেশ্যে তার ভাড়া করা ফ্ল্যাট থেকে তিন যুবতীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার রাতে জালকুড়ি উত্তরপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
উদ্ধার যুবতীরা হলেন সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর থানার টেপিরকোনা গ্রামের ছায়েদ আলির মেয়ে ময়না আক্তার, সিলেট জেলার জকিগঞ্জ থানার দক্ষিণ বিপক (মাসুমবাজার) এলাকার হামিদ আলির মেয়ে কুটিনা ও তারই আপন ছোট বোন জাহেদা।
গ্রেফতার পাচারকারীর নাম জেবা। তিনি ঢাকা কদমতলী থানার মুরাদপুর মাদরাসা রোড এলাকার ২২৭ নম্বর বাড়ির ফারুক হোসেনের স্ত্রী। জালকুড়ির মোশারফ হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া।
এ ঘটনায় উদ্ধার নারী ময়না আক্তারের বড় বোন নাজমা আক্তার নিজে বাদী হয়ে জেবাকে প্রধান করে তিনজনের নাম উল্লেখ ও চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন ঢাকার পুরানা পল্টনের নিরুপম ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলস কোম্পানির ম্যানেজার মুরাদ ও সহযোগী শাহাদাত।
মামলার বাদী নাজমা আক্তার জানান, মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ী থানার হাসাইল বানারি ইউপির আবদুল সাত্তারের ভাড়া বাড়ি থেকে গত ১৮ আগস্ট বিকেলে ময়না নিখোঁজ হয়। কোথাও খোঁজে না পেয়ে টঙ্গিবাড়ী থানায় জিডি করা হয়। সোমবার সকালে মোবাইল ফোনে ময়না তার অবস্থান জানায়। খবর পেয়ে রাত ১০টায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হাজির হয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ ওই বাড়ি থেকে তার ছোট বোন ময়নাসহ তিনজনকে উদ্ধার করে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুক জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে গ্রেফতার জেবা নিরুপম ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলস কোম্পানির হয়ে কাজ করে। তাদের একটি চক্র রয়েছে। চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অসহায় গরিব দুঃখী পরিবারের যুবতীদের ফুসলিয়ে লোভনীয় বেতনে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে আসে। তাদেরকে জেবার ভাড়া বাসায় আটক রেখে পরে সুযোগ বুঝে বিদেশে পাচার করে দেয়। জেবার বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামিদের গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে।
