বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে অজ্ঞাত এক যুবক নিহত হয়েছে। সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকায় প্লে গ্রুপের এক শিক্ষার্থীকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে মিজমিজি এলাকায় ছেলে ধরা সন্দেহে শারমীন (২৫) নামে এক মহিলাকে মারধর করে গুরুত্বর আহত করেছে এলাকাবাসী।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি আল আমিন নগর এলাকায় আজ সকালে স্কুলের প্লে গ্রুপের সাদিয়া নামে এক শিক্ষার্থীকে অজ্ঞাত এক যুবক জোর পূর্বক ধরে নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে দুই যুবকের সন্দেহ হয়। তারা ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিশুটি নিজের বলে দাবি করে ওই যুবক। ইতোমধ্যে শিশুটির বাবা ঘটনাস্থলে গেলে শিশুটি তার বাবার কাছে চলে যায়। এ ঘটনায় উপস্থিত লোকজন ওই যুবককে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ তিনশ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অপরদিকে দুপুরে মিজমিজি এলাকায় ছেলে ধরা সন্দেহে শারমিন আক্তার নামে এক মহিলাকে আটক করে মারধর করেছে এলাকাবাসী। ওই মহিলা স্থানীয় ইটালী প্রবাসী বিল্লালের বাড়িতে আশ্রয় নিলে সেখানেও তাকে মারপিট করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মহিলাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পরে। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে শারমীনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
এদিকে সাদিয়ার বাবা মো. সোহেল ঘটনার বিবরন দিয়ে জানান, আমার মেয়ে মাদ্রসায় যাওয়ার সময় এক লোক তাকে ধরে। ওই লোক আমার মেয়েকে বলে তুমি কি আমার সাথে যাবে। ও বলছে না আমি যাবো না। পরে আমার মেয়েকে জোড় করলে সে চিৎকার করলে আশেপাশে লোকজন ওই লোককে আটকে রেখে আমার মেয়েকে মাদ্রাসা রেখে যায় এবং ওই লোককে জনগন মারধর করে। পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মাদ্রাসার শিক্ষক আমাকে ফোন দিলে আমি ঘটনাস্থলে এসে আমার মেয়েকে নিয়ে আসি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুবাস চন্দ্র সাহা বলেন, ছেলে ধরা গুজবে এমন ঘটনা ঘটছে। সিদ্ধিরগঞ্জে গণপিটুনিতে একজন নিহত ও এক মহিলা আহত হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে থানায় আনা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ব্যপারে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
নারায়ণগঞ্জে ছেলে ধরার আতংকে রয়েছে জেলা জুড়ে। স্কুল ও মাদ্রাসায় শিশুদের পাঠানো নিয়ে শংকিত অভিভাবকরা। তবে এ থেকে প্রতিকার চায় নারাযণগঞ্জবাসী।
