বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যান বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব কাউসার আহম্মেদ পলাশ বলেছেন, আর্ন্তজাতিক মাপ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট করে আলীগঞ্জ মাঠের জমি রেখে পিডাব্লিডির প্রজেক্টের কাজ করা হলে আমাদের কোন আপত্তি নাই। তবে আঙ্গুল দিয়ে ভুয়া ভাবে দেখিয়ে দিবেন বুঝিয়ে দিবেন এসব চলবে না। জনস্বার্থে নকশা পরির্বতন করা যায়। এই নকশা কোন কোরআন হাদিস না যে তা পরির্বতন করা যাবে না। পাগলা, আলীগঞ্জ, ফতুল্লা, পঞ্চবটি ও চতলার মাঠ সহ এই বৃহত্তর এলাকায় কোন মাঠ নেই। এই মাঠ শিশু কিশোর থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সব বয়সের মানুষের প্রানের দাবি। এই মাঠ রক্ষার জন্য যে কোন আন্দোলন করতে প্রস্তুত এলাকার শিক্ষক শিক্ষর্থী ও শ্রমজীবী সর্বস্থরের জনগন।
রবিবার ০২ জুন ২৬ রমজান আলীগঞ্জ স্কুল প্রাঙ্গনে আলীগঞ্জ মাঠ রক্ষা আন্দোলন কমিটি কর্তৃক আয়োজিত ইফতার পূর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তেব্যে তিনি এ সব কথা বলেছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি পিডাব্লিডি মাঠ উচ্ছেদ অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিয়ে আলীগঞ্জে এসেছিলো কিন্তু শিশু কিশোর যুবক বৃদ্ধ সকলস্তরের জনগন এই অভিযানের প্রতিবাদ করা তারা ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। আমি মনেকরি অভিযানে দায়িত্বে যারা এসেছিলেন তারা অনুধাবন করেছেন এই মাঠ রাখার দাবি সর্বস্থরের জনগনের। তিনি ঐ প্রতিবাদে না থাকাতেও এলাবাসী অভিযানকারীদের আদালতের নির্দেশনা ও জনগনের প্রয়োজনীতা বুঝিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি এই মাঠের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত ভাবে বলেন, ১৯৮৫ সালে কয়লার ডিপু করার জন্য সরকার এই মাঠের জমিতে মাটি ভরাট করে কিন্ত্র তা বায়জাপ্ত হয়ে যায়। তখন থেকে এই মাঠে খেলাধুলা শুরু হয়। তবে একর্পযায়ে এই মাঠটি নির্মান সামগ্রী ব্যবসায়ীদের দখলে চলে যায়। পুনরায় এলাকার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঐ সকল অবৈধ দখলদার থেকে মাঠের জমি উদ্ধার করে। পরবর্তিতে মাননীয় জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যেক উপজেলায় মিনি ষ্টেডিয়াম করার ঘোষানা দিলে তার প্রতিশ্রদ্ধা রেখে এই ঘোষনায় আলীগঞ্জ সহ আশেপাশের এলাকার সর্বস্থরের মানুষ উৎসাহিত হয়ে ২৫ হাজার মানুষের গনস্বাক্ষরসহ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্বারক লিপি প্রদান করা হয়। এই খবর পেয়ে পিডাব্লিউডি একটা প্রজেক্ট করার জন্য ষড়যন্ত্র করে বিল পাশ করায়। একপর্যায়ে আমরা জানতে পারি পিডাব্লিউডি আলীগঞ্জ মাঠের জমি সহ প্রজেক্ট করেছে। থকন আমরা আদালতে রিট করি। আদালত সাড়ে চার একর জমি মাঠের জন্য উন্মোক্ত রেখে প্রজেক্ট বাস্তবায়নের নির্দেশ করে। কিন্তু আদালতের নিদের্শনাকে অমান্য করেই আলীগঞ্জ মাঠ প্রজেক্টের দখলে নেয়ার পায়তারা করছে কমিশন ভোগী ষড়যন্তকারীরা। তিনি আরো বলেন, যারা টেন্ডারবাজি করে ঠিকাদারের কাছ থেকে কমিশন খেয়ে পাগল হয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে যে, মাঠের অন্তরালে কাউসার আহমেদ পলাশের ব্যবসা চলছে। মাঠের চারিদিকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে আর সেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের রাস্তা ব্যবহারের জন্যেই এ মাঠকে আটকে রেখেছে। আমি আজকে আলীগঞ্জবাসীর ইফতার মাহফিলে উপস্থিত মুরুব্বীদের কাছে আমার প্রশ্ন, মাঠের পাশে নদীর পাড়ে কোথাও আমার ব্যবসা আছে? এ সময় আলীগঞ্জবাসী না’ সূচক জবাব দিলে তিনি বলেন নদীর পাড়ে কোন সরকারী জায়গায় আমার কোন ব্যবসা নাই। হ্যা আমার ব্যবসা আছে আফসার অয়েল মিলের গোডাউন ভাড়া নিয়ে আমি ব্যবসা লোড-আনলোড ব্যবসা করি,আমি ব্যাক্তি মালিকানাধীন জায়গা ভাড়া নিয়ে আমি ব্যবসা পরিচালনা করি। সুতরাং আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে চাই কোন সরকারী জায়গা দখল করে আমি ব্যবসা পরিচালনা করি না, এটা আলীগঞ্জবাসী সাক্ষী আছেন। তিনি আরো বলেন, জেলা প্রশাসক ঈদের পরে মাঠ পরিদর্শন করবেন, আমরা তাদেরকে বলে দিয়েছি, কোন শক্তিই জনগনের জন্য উন্মুক্ত খেলার মাঠ না দিয়ে এখানে কোন স্থাপনা গড়তে পারবে না। আন্তর্জাতিক মাপের সুনির্দিষ্ট খেলার মাঠের নিশ্চয়তা চাই। মাঠের নিশ্চয়তা দিয়ে বাউন্ডারি দেয়াল দিয়ে জনগনকে বুঝিয়ে দেয়ার পর আমরা আপনাদের স্বাগত জানাব। এটাই আজকে হউক শপথ।
উপস্থিত ছিলেন আলীগঞ্জ জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ মফিদুল ইসলাম, আলীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিখিল কুমার সরকার, কুতুবপুর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্দিন জজ, আলীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ৭ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, জাতীয় শ্রমিকলীগ ফতুল্লা আঞ্চিলিক কমিটির সাধারন সম্পাদক এস এম হুমায়ুন কবির, আলীগঞ্জ ক্লাবের সহসভাপতি মোঃ ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ, কোষাধ্যক্ষ হাজী মোঃ আরিফুল ইসলাম, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া সাত্তার, সমাজ কল্যান সম্পাদক হাজী মোঃ রফিকুল ইসলাম শামীম, সমাজসেবক হাজী সামসুদ্দিন, ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্টস ওর্য়াকার্স জেলা কমিটির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সেন্টু, সাধারন সম্পাদক কবির হোসেন রাজু, আন্তঃজিলা ট্রাক চালক ইউনিয়ন পাগলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক বশির মিয়া, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক উবাইদুর রহমান ওবায়েদ, ওয়াসিম আব্দুল্লাহ, শ্রমিকনেতা আবুল কাশেম প্রমুখ, সহ আলীগঞ্জ এলাকার সর্বস্তরের জনগন।

