বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বাসের ধাক্কায় কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাদিয়া আক্তার নামে ৯ম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। এ ঘটনায় পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর চালায় ও ১টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান বৃহস্পতিবার সকাল ৭ঃ৪৫ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে স্কুলে যাবার জন্য ঐ ছাত্রী রাস্তা পার হচ্ছিল, ঠিক এই সময়ই কাঁচপুর দিক থেকে মদনপুরগামী বাসটি তাকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। পরে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সে আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেলেও গাড়ির ধাক্কায় সাদিয়া মারা গেছে এমন খবর স্কুলে পৌঁছে যায়। এতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে। বেলা ১১ঃ৩০মিনিটের সময় শিক্ষার্থীরা রাস্তা থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এদিকে এ ঘটনায় জনপ্রতিনিধিদের খামখেয়ালীপনাকে দোষারোপ করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা সাংবাদিকদের জানান, প্রায় ১ বছর আগে অত্র স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে কাঁচপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশাররফ ওমরকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা একটি ফুটওভারব্রীজের দাবী জানালে তিনি মন্ত্রণালয় থেকে পাশ করিয়ে এনে এই স্কুলের সামনে মহাসড়কের উপর ফুটওভারব্রীজ নির্মাণ করে দেয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও তার কোন আশার আলো কেউ দেখতে পায়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বহুবার স্কুল কমিটি ও স্কুলের শিক্ষার্থী-অভিভাবক সহ সম্পৃক্তরা চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করলেও তার কোন লাভ হয়নি বলে জানা গেছে। গতকাল কাঁচপুরে এত বড় একটি ঘটনা ঘটলেও অত্র ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বা তার কোন প্রতিনিধিকে সেখানে দেখা যায়নি। ঘটনাস্থলে বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত না করে তিনি ঢাকায় আহত সাদিয়াকে দেখতে গেছেন বলেও প্রচার করা হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সময় নারায়ণগঞ্জ সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল-খ) খোরশেদ আলম স্কুলের প্রধান শিক্ষক, অন্যান্য শিক্ষক সহ অভিভাবকদের সাথে খারাপ আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। দায়িত্ব পালনকারী পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে শিক্ষার্থীরা অত্র স্কুলের সকল শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে ফুটওভার ব্রীজ স্থাপন, একজন ট্রাফিকের ব্যবস্থা করা যাতে নির্বিঘেœ রাস্তা পার হওয়া যায়, বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করা ও খারাপ আচরণের জন্য সহকারী পুলিশ সুপার খোরশেদ আলমের প্রত্যাহার সহ ৭টি দাবী তুলে ধরেন। আগামী ৭দিনের মধ্যে ফুটওভার ব্রীজ স্থাপন করা হবে, আগামী ২৪ঘন্টার মধ্যে এই স্পটের জন্য একজন ট্রাফিকের ব্যবস্থা করা হবে এবং অত্র স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মাহাবুব খাঁন বিশুদ্ধ পানির জন্য প্রতিটি শ্রেণীকক্ষে ফিল্টারের ব্যবস্থা করা দিবেন বলে জানালে আন্দোলন স্থগিত করা হয়। এদিকে আগামী ৭দিনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) অত্র স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবী পূরণের বিষয়ে তাদের সাথে বসবেন বলেও জানা গেছে। কাঁচপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোশাররফ ওমরের প্রতিশ্রুত ফুটওভারব্রীজ স্থাপন নিয়ে অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটা ঘটনা ঘটার পর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কিন্তু প্রতিশ্রুতি আজও পূরণ হয়নি কিন্তু দূর্ঘটনা ঘটেই চলেছে, তাহলে আর কত মানুষ দূর্ঘটনায় পতিত হলে এখানে ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণ করা হবে তা আমাদের জানা নেই। এদিকে অত্র স্কুলটিতে দীর্ঘদিন ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন না হওয়ায় স্কুলের শিক্ষার মান নি¤œগামী হয়ে গেছে, নানান অনিয়ম নিয়ে স্কুল চলছে এবং শিক্ষার্থীদের দাবী আদায়ে কাজ করার দায়িত্বশীল ব্যক্তি না থাকাও এ দূর্ঘটনার কারণ বলে অভিভাবকরা মনে করে। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি না থাকলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার তত্বাবধানে ম্যানেজিং কমিটির কার্যক্রম চললেও চেয়ারম্যানের প্রভাব বিস্তারের কারণে তারা সঠিক গতিতে কাজ করতে পারছেনা। কিছুদিন আগে নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করা হলেও কাউকে মনোনয়ন ফরম জমা দিতে দেয়া হয়নি। স্কুলের চারপাশে এক ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং নির্বাচন না করার জন্য কয়েকজন প্রার্থীকে হুমকি ধমকি দেয়া হয়েছে। স্কুলে একটি ভবনের নির্মাণ কাজ চললেও অদৃশ্য কারণে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ভবন নির্মাণের মালামাল সিমেন্ট বালু ও রড নষ্ট হচ্ছে। পাঠদান রেখে শ্রেণীকক্ষে অত্র স্কুলের এক শিক্ষকের ফেইছবুক চালানোর ছবি ফেইছবুকে ভাইরাল হলে স্কুলের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফুটওভারব্রীজের পাশাপাশি স্কুলের চলমান সংকটগুলো নিরসন করে স্কুলের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

