বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে, নিরাপদ সড়কের দাবি সহ ৯ দফা দাবিতে ২য় দিনেও নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন স্কুলের কলেজের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জের প্রধান প্রধান সড়কড়গুলো অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা চলাচলকারী যানবাহনে ট্রাফিকের ভূমিকায় থেকে লাইসেন্স চেক করেছেন। দেখে মনে হচ্ছিল তারা যেন দায়িত্বশীল ট্রাফিক পুলিশ!
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন জায়গায় তারা অবস্থান নিয়ে প্রতিটি জায়গায় দুটি করে লেন তৈরি করেন ছাত্ররা।শিক্ষার্থীরা একেকটি গ্রুপ হয়ে রাস্তায় আসা যানবাহনগুলোর চালকের লাইসেন্স দেখছেন। লাইসেন্স পেলে গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। আর যাদের লাইসেন্স নেই, তাদের চাবি নিয়ে রেখে দিয়েছেন তারা। শিক্ষার্থীদের আরেকটি গ্রুপ খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে শ্লোগান দিচ্ছে।
দুপুর ১২টার দিকে যানবাহনের লাইসেন্স চেক করার সময় তারা এমপি, চেয়ারম্যান ও পুলিশের কর্মককর্তাদের গাড়িও তারা তল্লাশি চালায়। এসময় নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় বরিশাল-৪ আসনের এমপি পঙ্কজ দেবনাথ ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসনকে বহনকারীকেও আটকে দেন তারা। পরে গাড়ির লাইসেন্স দেখতে চায় শিক্ষার্থীরা।লাইসেন্স দেখাতে সক্ষম হলে গাড়ি ছেড়ে দেন শিক্ষার্থীরাকিন্তু পংকজ ও আনোয়ার আওয়ামীলীগের নেতা হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকা কিছু অতি উৎসাহীরা লাইসেন্স থাকার পরও গাড়ি আটকে রাখার চেষ্টা করে।এসময় আন্দোলনে নেতৃত্বে দেওয়া কিছু শিক্ষার্থীরা তাদের গাড়ি ছারিয়ে চলে যেতে দেন।এদিকে সার্কেল এসপি ও সোনারগাঁ থানার ওসি গাড়িও আটকে দেন তারা। পরে তাদের গাড়ি রেথে পায়ে হেটে যেতে বাধ্য করান। শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে লাইসেন্স পরীক্ষা করছে। প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানের লাইসেন্স পরীক্ষা করছে।

তোলারাম কলেজ, মহিলা কলেজ সহ, বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা অবস্থান নেয়। চাষাড়া গোল চত্বর, লিংক রোড, সাইনবোর্ড, সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর, ২ নং রেইল গেইট, ডিআইটি সহ প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে একই অবস্থা দেখা যায়।
চাষাড়া গোল চত্বর,অবস্থান করেছেন শিক্ষার্থীরা। এখানেও তারা নানা শ্লোগান দিয়েছেন। একই সঙ্গে চলাচলকারী যানবাহনের ফিটনেস চেক করেছেন।
আশপাশের রাস্তায় রয়েছে তীব্র যানজট। চালকের লাইসেন্স ও গাড়ির ফিটনেসের কাগজ আছে কি না -তা পরীক্ষা করছেন তারা। এখানে তারা বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকাল থেকেই জড়ো হতে থাকে। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছু অতি উৎসাহীরা ৩ টি গাড়ি ভাংচুর
করেছেন।আর তারা যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করতে না পারে সেজন্য বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ জানান, ‘আমরা চেষ্টা করছি শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিতে। একই সঙ্গে তারা যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করতে না পারে সেটিও দেখা হচ্ছে।’
বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে লাইসেন্স না থাকায় ড্রাইভারদের কাছ থেকে ছিনিয়ে চাবিগুলো শহীদ মিনারে জমায়েত করে ফিরিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।
এছাড়াও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ছাত্ররা যানবাহনে ফিটনেস পরীক্ষা করছিল।
এদিকে আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে নগরবাসী জানান, এই আন্দোলন টি একচি যৌক্তিক দাবি। আমরা সমর্থন জানাচ্ছি । শিক্ষার্থীদের শক্তি হলো বড় শক্তি তারা প্রমানর করলো। তারা যেন শান্তিপূর্নভাবে এই আন্দোলন চালিয়ে যায়। কারো উস্কানিতে শিক্ষার্থীরা যেন অপ্রাীতিকর ঘটনা না ঘটায় সেই দিকেও লক্ষ রাখার আহ্বান জানান তারা।

