বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
সময় আজ বৃহষ্পতিবার সকাল ৯ টা। ছাত্র ছাত্রীরা একে একে জড়ো হতে থাকে চাষাঢ়া গোল চত্বর এলাকায়। বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আগমনে আস্তে আস্তে ভরে যায় পুরো রাজপথ।শুরু হয় শ্লোগান। আমার দাবি তোমার দাবি ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’।সবার দাবি ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ জুরে বলো ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। বৃষ্টি আর পেটের ক্ষুদা উপেক্ষা শিক্ষার্থীদের একটাই শ্লোগান। আর এই শ্লোগান কম্পিত করেছে নারায়ণগঞ্জের রাজপথ।
২য় দিনের আন্দোলনে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে নিরাপদ সড়ক ও দুর্ঘটনায় নিহতদের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে থাকে। সরকার থেকে স্কুল বন্ধ ঘোষণা দেওয়া সত্ত্বেও আজ প্রতিটি বিদ্যালয়ের সামনে স্কুলড্রেস পরেই রাস্তায় দাড়িঁয়ে যায় তারা।

নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া গোল চত্বর, লিংক রোড, সাইনবোর্ড, সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর, ২ নং রেইল গেইট, ডিআইটি সহ প্রধান প্রধান সড়কগুলো ঘুরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে।
বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাজপথে স্লোগান দিচ্ছে আন্দোলনকারীরা।
“রাষ্ট্রের মেরামত কাজ চলছে সাময়িক রাস্তা বন্ধের জন্য আন্তরিকতভাবে দুঃখিত” ও“প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের বলছি তোমাদের যা কিছু আছে তা নিয়ে তোমরা আন্দোলন করো, মনে রেখো জীবন যখন দিয়েছি জীবন আরো দিবো ভবিষ্যৎ প্রজম্মকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ” ২য় দিনের শ্লোগান ২ টি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
প্রধান সড়কড়গুলোতে বাস, ট্রাক, মোটর সাইকেল সহ সকল যানবাহন গতিরোধ করে গাড়ির লাইসেন্স, চালকের লাইসেন্স ও গাড়ির ফিটনেস ঠিক আছে কিনা পরীক্ষা করছেন শিক্ষার্থীরা। চাষাঢ়া সহ প্রধান সড়কগুলো অবরোধ করে বিক্ষোভ করায় অচল হয়ে পরে সমস্ত শহর। গাড়ির মধ্যে থামিয়ে রাখা হয় যানবাহনগুলো। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকা কিছু অতি উৎসাহীরা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে থাকা তিনটি গাড়ি ভাংচুৃর করে।এমনকি কোনো কোনো স্পটে রিকশাও আটকে দিচ্ছে তারা। এতে চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী।

বিকাল ৫ টার পর আন্দোলন থেকে সরে এসে শিক্ষার্থীরা ট্রাফিক ভূমিকা পালন করে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে তারা যাতায়াতরত সকল গাড়িকে সাড়িবদ্ধ করে চলাচল করায়।
এদিকে পুলিশ সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত দায়িত্ব থাকায় অবস্থায় শিক্ষার্থীদের সাথে কোন খারাপ আচারণ করেননি।

এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছে।তাদের বাঁধা দেওয়ার কোন কারন নেই। কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটাতে শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানান তিনি।
চাষাঢ়া এলাকার রহমান নামে এক লোক জানান. শিক্ষার্থীদের আন্দোলন টা যৌক্তিক। আমরাও চাই নিরাপদ সড়ক। সরকার তাদের দাবি
টা মেনে নিক। তবে ছাত্র ছাত্রীরাও যাতে শান্তিপূর্নভাবে আন্দোলন করে। তারা যাতে কারো উস্কানিতে কান না দেয়।
প্রসঙ্গত, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনের বিমানবন্দর সড়কে আবদুল্লাহপুর থেকে মোহাম্মদপুর রুটে চলাচলকারী জাবালে নূর পরিবহন লিমিটেডের একটি বাস সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম ও একই কলেজের ছাত্রী দিয়া খানম নিহত হন। আহত হয় কয়েকজন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত এক শিক্ষার্থীকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়


