বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামীলীগের কর্মীদের চাঙ্গা করতে খোদ দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান কর্মীদের চাঙ্গা করতে বিভিন্ন এলাকায় কর্মী সভা করাসহ ভোট কেন্দ্র ভিত্তিক কমিটি দিয়ে কর্মীদের চাঙ্গা করতে কাজ করছেন। অথচ সেই কর্মীদেরই কুকুর সাথে তুলনা করলেন ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া বিয়ষক সম্পাদক পরিচয়দান শফিউল্লাহ শফি। এতে করে সাধারণ কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। জানাগেছে, শফিউল্লাহ শফি তার ফেসবুক আইডীতে একটি স্ট্যাটাসে বলেন, ‘শত্রুকে বিশ্বাস করা যায় কিন্তু বেঈমানকে বিশ্বাস করা যায় না’। তার এই একটি স্ট্যাটাসে রোমেল নামে একজন ব্যাক্তি কমেন্ট করেন, ‘ভাই কি হইছে’। উত্তরে শফি লিখেছেন, শখ করিয়া কয়েকটা কুত্তা পালছিলাম। ছোট কুত্তা, বড় কুত্তা, পেতি কুত্তা-এগুলোর শিরকা উঠছে। এখন মনে হয় ইঞ্জেকশন লাগবে।
এখানে উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি কাশীপুরে শফিউল্লাহ শফির সাথে তারই কর্মীদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে যে কোন সময় বড় ধরণের সংঘর্ষের আতংকা রয়েছে। কর্মীদের অভিযোগ- শফি বিগত দিনে নানা অপকর্মে তাদের ব্যবহার করেছে। তাই তারা শফির সঙ্গ ছেড়ে দিয়েছে। এখন নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে শফি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আর আওয়ামীলীদের কর্মীদের উদ্দেশ্য করে এমন মন্তব্য দলের জন্যই ক্ষতিকর বলে মনে করছেন রাজনৈতি বিশ্লেষকরা। এদিকে, শফির এমন বিরুপ মন্তব্যে যে কোন সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে স্থানীয়রা মনে করছে। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, শফি নিজেকে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া বিয়ষক সম্পাদক পরিচয় দিলেও কাগজে কলমে এর কোন প্রমাণ নেই। স্বঘোষিত নেতা শফি। দলের কর্মীদের নিয়ে শফির এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে সাংসদ শামীম ওসমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সাধারণ কর্মীরা। তারা বলছেন, আকার-ইঙ্গিতে হলেও শফির এমন মন্তব্যকে আমরা মেনে নিবো না।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার, ভূমি দস্যুতা, অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহ, অবৈধ এসিড ব্যবসায়, মদ পান করে মাতলামি করাসহ না অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে কাশীপুর মাদবর বাড়ি এলাকার বাসিন্দা শফিউল্লাহ শফি। শফির শেল্টারে প্রকাশ্যে চলছে জমজমাট মাদক ব্যবসা আওয়ামীলীগ নেতার বিভিন্ন মিছিলেও এসকল মাদক ব্যবসায়ীদের দেখা যায়। জানাগেছে, কাশীপুর মাদবর বাড়ি এলাকার শফিউল্লাহ শফির শেল্টারে প্রধান বাড়ি ও বাগনগর এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আফজাল, মালেক, শরীফ, পারভেজ, আরমান, সুমন, রনীসহ আরো বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এদের বিরুদ্ধে থানা অসংখ্য মাদক মামলাও রয়েছে। গত বাংলা নববর্ষেও স্থানীয় সকল মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ে সাংসদ শামীম ওসমানের ছবি সম্বলিত ব্যানারে র্যালী করতে দেখা গেছে শফিউল্লাহ শফিকে। অনুসন্ধানে আরো জানাগেছে, শফির কাছে বিপুল পরিমান অবৈধ অস্ত্র রয়েছে। গত ৫-৬ বছর পূর্বে তৎকালীন সময়ের কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বারের বাড়িতে প্রকাশ্যে বিপুল পরিমান গুলি ছুড়ে শফি ও তার ক্যাডার বাহিনী। এঘটনা মেম্বার গুলির খোসা নিয়ে থানায় জমা দিলেও শফির দাপটের কারণে কোন প্রকার মামলা হয়নি। এছাড়াও মদ পান করে মাতাল হয়ে ঘুড়ে বেড়ায় শফি। এব্যাপারে শফির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
