বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে ২০ রোজার মধ্যে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন ও বেসিকের সমান বোনাস পরিশোধ, শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ১৮ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং জুলাই মাসের মধ্যে ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার দাবিতে আজ বিকাল ৪ টায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রমিক সমাবেশ ও শহরে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুল, বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক নিখিল দাস, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম গোলক, সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম শরীফ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাধারণ সম্পাাদক রুহুল আমিন সোহাগ, বিসিক শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ সাইদুর, নারায়ণগঞ্জ জেলার দপ্তর সম্পাদক কামাল পারভেজ মিঠু।
নেতৃবৃন্দ বলেন, দুই ঈদে বেসিক বেতনের সমান বোনাস দেওয়ার রেওয়াজ থাকলেও সরকার শ্রম আইনে বোনাসের বিষয় উল্লেখ না করে শ্রমিকদের বঞ্চিত করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। কিন্তু ঊৎসব বোনাস কোন দয়া নয়, এটা শ্রমিকের অধিকার। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, প্রতি বছর রোজার শুরুতে শ্রম মন্ত্রনালয় মালিকদের সাথে বৈঠক করে সকল পোষাক শিল্প শ্রমিকের বেতন-ভাতা পরিশোধের আশ্বাস দেয়। কিন্তু মালিকরা ঈদের ছুটির পুর্ব মূহুর্ত পর্যন্ত শ্রমিকদের বোনাস-বেতন পরিশোধ না করে শ্রমিকদের জিম্মি করে। ঈদের আগ মুহুর্তে শ্রমিকরা যখন স্বজনদের সাথে মিলিত হওয়ার জন্য উদগ্রীব হয় তখন মালিকরা শ্রমিকদের বোনাস না দিয়ে বকশীষ হিসাবে কিছু টাকা দিয়ে আর আংশিক বেতন দিয়ে শ্রমিকদের সাথে প্রতারণা করে। শ্রমিকদের তখন প্রতিবাদ করার কোন সুযোগ থাকে না। সরকারও প্রতারক মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না। পুর্ণ বেতন-ভাতা না পাওয়ায় শ্রমিকরা অল্প ভাড়ায় ঝুঁকি নিয়ে গ্রামে যেতে যেয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৪ জানুয়ারি‘১৮ তারিখে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ন্যুনতম মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেয়া হলেও এর প্রায় ২ মাস পর ১৯ মার্চ‘২০১৮ তারিখে মজুরি বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২৫এপ্্িরল‘১৮ তারিখে মজুরি বোর্ডের নির্ধারিত বৈঠক মালিক পক্ষের আবেদনে স্থগিত করা হয়। শ্রম আইনের ১৩৯ (২) ধারা অনুসারে মজুরি বোর্ড গঠনের ছয় মাসের মধ্যে নতুন মজুরির সুপারিশ করবে। সেই হিসাবে মজুরি বোর্ডকে জুলাই‘১৮ মাসের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামোর সুপারিশ করতে হবে। অথচ মজুরি বোর্ডে মালিক পক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএ-এর সভাপতি বলছেন যে তাদের হাতে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময় আছে। বিজিএমইএ-এর সভাপতির এই বক্তব্য ও মজুরি বোর্ডের বৈঠক স্থগিত করানো মুলত কালক্ষেপনের ষড়যন্ত্র বলে মনে হচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ ২০ রোজার মধ্যে শ্রমিকদের প্রাপ্য বেতন-ভাতা পরিশোধের আহবান জানিয়ে বলেন অন্যথায় উদ্ভুত পরিস্থিতির দায় মালিকদের বহন করতে হবে। নেতৃবৃন্দ কালক্ষেপন না করে জুলাই‘১৮ মাসের মধ্যে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৮০০০টাকা ঘোষণা করার আহবান জানান। শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রাপ্তিকে নিশ্চিত করতে এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্দ্ধগতি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহবান জানান।

