বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের বন্দরের ঘারমোড়ায় ৪ বছরের শিশুর হাত পা বেঁধে গোপনাঙ্গে খুন্তির ছ্যাঁকা ও গরম তেল ঢেলে দেয়ার ঘটনায় পাষন্ড সৎ মা মুন্নী বেগম(৩০)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উত্তর বাড্ডাস্থ বোনের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সূত্র মতে,দক্ষিণ ঘারমোড়া এলাকার মহিউদ্দিন মিয়ার ছেলে রোমান মিয়া বিগত ১০ বছর আগে নরসিংদী জেলার জানে আলমের মেয়ে শেফালীকে সামাজিকভাবে বিয়ে করে। বিয়ের কয়েক বছর পর জীবিকার তাগিদে শেফালী বিদেশ পাড়ি জমায়। সেখান থেকে প্রতিমাসে সে স্বামীর এ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতো। স্ত্রীর পাঠানো টাকায় স্বামী রোমান স্বাচ্ছ্যন্দেই জীবন যাপন করে আসছে। এর মধ্যে বিগত ৫ বছর আগে রোমান নেত্রকোনা জেলার আমিন উদ্দিনের মেয়ে মুন্নীকে গোপনে বিয়ে করে ঘরে তুলে আনে। ৫ বছরের সংসারে মুন্নীর কোল জুড়ে ২টি সন্তান জন্ম নেয়। প্রায় ৬ মাস পূর্বে শেফালী দেশে ফিরে এলে রোমান তাকে তাড়িয়ে দেয়। স্বামীর সংসারে শান্তি না পেয়ে কিছু দিন পরেই বিদেশ চলে যায়। শেফালীর ছেলে-মেয়ে সৎ মায়ের কাছে থাকে। কিন্তু আপন ছেলে-মেয়ে না হওয়ায় মুন্নী বেগম প্রতিনিয়তই ফাতেমাকে মারধর করতো। কিছুদিন আগেও সৎ মা মুন্নী বেগম পিটিয়ে ফাতেমার বা হাত ভেঙ্গে দেয়। ওই ব্যাথা না সারতেই বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় ভাত খেতে চাওয়ায় মুন্নী প্রথমে তাকে বেশ কয়েকটি চর থাপ্পর মারে। সৎ মায়ের চপটাঘাতে ফাতেমা কান্নাকাটি করলে মুন্নী তাকে ধমক দেয়। এতেও কান্না না থামলে এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে পাষন্ড সৎ মুন্নী বেগম দড়ি দিয়ে দু’হাত বেঁধে প্রথমে খুঁন্তি গরম করে ফাতেমার গোপনাঙ্গে ছ্যাঁকা দেয় পরে ক্ষতস্থানে গরম তেল ঢেলে দেয়। ফাতেমার ডাক চিৎকারে বাড়ির আশ পাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। এদিকে এ ঘটনা জানাজানির পর এলাকার সর্বস্তরের নারী-পুরুষ ক্ষুব্দ হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ শুক্রবার বিকেলে ডাইনী সৎমাকে আটক করলেও মাত্র ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেয়। এদিকে শনিবার দুপুরে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে এলাকার নারী-পুরুষ অভিযুক্ত সৎ মায়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করে। সাংবাদিকরা থানায় খবর দিলে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম শাহিন মন্ডল ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্স পাঠালেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সৎমা মুন্নী বেগম দ্রুত সটকে পড়ে।

