বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের পাপমোচন পুণ্য স্নাননার্থে এক অন্যন্য তীর্থ ভূমি বন্দরের লাঙ্গলবন্দে আগামী শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে ধর্মীয় পবিত্র মহাতীর্থ অষ্টমী স্নান উৎসব। শুল্কা তিথি অনুযায়ী শনিবার সকাল ১০ টা ৩০ মিনিট ৫০ সেকেন্ডে লগ্ন শুরু হবে। দুই দিন ব্যপী এ স্নান উৎসব শেষ হবে আগামী রোববার সকাল ৭ টা ৫২ মিনিট ৩০ সেকেন্ড। আগত পূর্ণার্থীদের নিরাপত্তা জোরদারে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন লাঙ্গলবন্দ ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তবে ব্রহ্মপূত্র নদের আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠা শিল্পকারখানা ও ডাইংয়ের কেমিক্যাল মিশ্রিত বজ্র দুষন পানি নদীতে পড়ছে। এ পর্যন্ত প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করেনি বলে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অভিযোগ। স্নান উৎসব উদ্বোধন করবেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান, বিশেষ অথিতি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন, নারায়ণগঞ্জ-৩( সোনারগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা ও সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য হোসনে আরা বাবুলী। ইতিমধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) পিন্টু বেপারীর নেতৃত্বে ব্রহ্মপূত্র নদের কচুরি পানা পরিস্কার, লাঙ্গলবন্দ এলাকায় ১৩টি ঘাটলায় কাপড় পাল্টানো, বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবারহ, স্নান ঘাটে বিদ্যুতিক বাতি ও পর্যপ্ত সৌচাগারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ব্রহ্মপূত্রের জলে পাপমুক্ত করেছিল পরশুরাম মুনিকে। হিন্দু ধর্মলবম্বী লোকজন মনে করেন, মহা ভারতের বর্ণনা মতে পরশুরান মুনি পাপমুক্তির জন্য ব্রহ্মপূত্র নদে যে স্থানের জলে ¯œান করেছিলেন, তা লাঙ্গলবন্দ অবস্থিত। সেই থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ^াস এ সময়ে বহ্মপূত্র নদে স্নান খুবই পূণ্যের। এ স্নানের ফলে ব্রহ্মার সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যমে পাপমোচন হয়। এ বিশ^াস নিয়ে সুদীর্ঘকাল ধরে এ স্নানে অংশ নেওয়ার জন্য উপমহাদেশের এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য মানুষ আসেন লাঙ্গলবন্দে। পাপস্থলনের এ উৎসবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ এসে এখানে সমাবেত হয়। পরশুরামের পাপ থেকে মুক্তি হওয়ার কথা স্মরণ করে শ’শ’ বছর ধরে লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপূত্র নদে অষ্টমী ¯œান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
শ্রী শ্রী ললিত সাধুর আশ্রমের পূজার্থনা ঝর্ণা রানী জানান, টোটাল ফ্যাশন গার্মেন্ট এন্ড ডাইং কারখানার রং মিশ্রিত কেমিক্যালের বজ্র পানি পাইপ দিয়ে নদে পড়ছে। এতে এ জলে ¯œান করা দূস্কর হয়ে পড়েছে । দূষিত জলে ¯œান করলে শরীর চুলকানিসহ নানা সমস্য সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারনে স্থানীয় হিন্দু পরিবারের লোকজন ব্রহ্মপূত্র নদে স্নান করা বন্ধ করে দেয়।
লাঙ্গলবন্দ ¯œান উদযাপন কমিটি নেতারা জানান, মালিবাগ এলাকায় অবস্থিত বাশার পেপার মিলের বজ্র এবং জামালউদ্দিন টেক্সটাইল ও ডাইং মিলের বজ্র খাল দিয়ে ব্রহ্মপূদে পড়ছে। নদের জল লাল, নীল, কালো রং ধারন করেছে। নদের জল থেকে দর্গন্ধ বের হচ্ছে। কলকারখানার বজ্রে পরিবেশ এখন চরম হুমকির মূখে পড়েছে। এ ব্যপারে জরুরী ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার।
বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা( ইউএনও) পিন্টু বেপারী জানান, স্নান নির্বিগ্ন করতে জেলা প্রশাসক সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছে। স্নান ঘাটলাগুলোতে কাপড় পাল্টানোর পর্যপ্ত ব্যবস্থা, বিদ্যুতিক বাতি, বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ, পূণ্যার্থীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ১০ শয্যা বিশিষ্ট অস্থায়ী হাসপাতালসহ ৫টি মেডিকেল টিম সর্বাক্ষন থাকবে। এছাড়াও পূণ্যার্থীদের উন্নত সেবা প্রদানে ১০ টি এ্যাম্বোলেন্স সার্ভিস চালু থাকবে।
নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মতিয়ার রহমান জানান, স্নান এলাকার প্রবেশ পথে ১০ টি চেকপোষ্ট থাকবে। পয়েন্টে থাকবে সিসি ক্যামেরা, সেচ্ছাসেবক পাশাপাশি ১৫শ ফোর্স থাকবে। কেউ বিশৃংখলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে কঠোর ভাবে দমন করা হবে।
বাংলাদেশ নিন্ম মধ্যম আয়ের দেশ উত্তীর্ণ হওয়ার আনন্দে
বন্দরে স্বরণকালের বৃহত্তম শোভাযাত্রা
নিজস্ব সংবাদদাতা
নিন্ম আয়ের দেশ থেকে নিন্ম মধ্যম আয়ের দেশে উত্তীর্ণ হওয়ার আনন্দে শোভাযাত্রা করেছে বন্দর উপজেলা প্রশাসন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ১০টায় বন্দর ফায়ার সার্ভিস গেইট হইতে এ শোভাযাত্রা বের হয়। বন্দর উপজেলা বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও বন্দর প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দসহ প্রায় ১০ হাজার লোক শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহণ করে। বন্দরে স্বরণকালের বৃহত্তম শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিন্টু বেপারীর নেতৃত্বে শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহণ করেন, বন্দর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীনা শবনম, বন্দর থানার ওসি শাহীন মন্ডল, বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবু জাহের, রোটারিয়ান আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন চৌধূরী, বন্দর ইউপি চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন, মদনপুর ইউপি চেয়ারম্যান এম এ সালাম, ধমগড় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আহাম্মেদ, মুছাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, কাউন্সিলর কাউন্সিলর দুলাল প্রধান, মহানগর আওয়ামীলীগ নেতা হুমায়ূন কবির মৃধা, ২৩নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা আলহাজ্ব আমির হোসেন ভুলু, মনিরুজ্জামমান মনু, ফারুক প্রধান, সালাউদ্দিন, সহিদ, মোক্তার, মহিলালীগ নেত্রী শিমলা, ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল হাসান আরিফ, খান মাসুদ, মহানগর সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মাহাবুবুর রহমান কমল, কদম রসুল কলেজের অধ্যক্ষ মাহতাব উদ্দিন ও ছাত্রলীগ নেতা আরাফাত কবির ফাহিম, ২৪ নং ওয়াার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি রাজু আহাম্মেদ সুজন, ছাত্রলীগ নেতা অপু, প্রমুখ। উপজেলা মাধ্যমকি শিক্ষা অফিসার আ.ক.ম নুরুল আমিনের পরিচালনায় শোভাযাত্রায়া বন্দর ফায়ার সার্ভিসের সামনে থেকে শুরু করে বন্দর প্রেসক্লাব হয়ে কদম রসুল কলেজে গিয়ে শেষ হয়।
