বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের কাটাবন এন্ড কোং দোকানের চকলেটে বিষাক্ত পোকা পাওয়া গেছে। সোমবার রাত সাড়ে ১০ টায় শহরের গলাচিপায় অবস্থিত কাটাবন এন্ড কোং এর দোকানে পারলে ডি গ্রানু নামক চকলেট সহ আরো কয়েকটি ব্র্যান্ডের চকলেটে এই পোকা পাওয়া যায়। এসময় দোকানের ৪ জন স্টাফকে মালামাল সহ থানায় আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার বিবরণে গলাচিপা এলাকার বাসিন্দা কামরুল হাসান জানান, আমি আমার মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে কাটাবন এন্ড কোং এর দোকান থেকে ২২’শ টাকার চকলেট ক্রয় করে নিয়ে যাই। একটি চকলেটের প্যাকেট খুলে দেখি ভিতরে বিষাক্ত পোকা। আমি তারপর দোকানে এসে তাদের ম্যানেজারকে দেখালে তারা বিষয়টা কোন প্রকার পাত্তা দেয় না। পরে আমি বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলর সফিউদ্দিন প্রধান ভাইকে ও কয়েকজন সাংবাদিককে জানাই। তারা ঘটনাস্থলে আসলে আমি বিষয়টি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই। যাতে আমার মতো আর কেউ এমন প্রতারনার শিকার না হয়। সদর মডেল থানায় ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয়। পরে সদর ইউএনও মহোদয়কে সাংবাদিক ভাইয়েরা ফোন দিলে তিনি পুলিশের সাথে কথা বলেন। পুলিশ ঘটনার প্রমান পেয়ে ইউএনও মহোদয়কে জানান। এসময় ইউএনও দোকানের ৪ জন স্টাফ ও পোঁকাযুক্ত চকলেটগুলো সহ সদর মডেল থানায় জব্দ করে সকালে ইউএনও এর অফিসে নিয়ে যেতে বলেন।
ঘটনাস্থলে আসা মোতাহের নামে আরেক ভুক্তভোগী জানান, এই দোকানের রুটি কিনে নিয়ে গিয়েছিলাম পাউরুটির প্যাকেট খোলার পর বিশ্রি গন্ধ বের হয়েছে। পাউরুটির মেয়াদ ছিল না। কাটাবন এন্ড কোং দোকান থেকে ভূয়া মেয়াদের তারিখ বসিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এদের সাজা হওয়া উচিত।
এ ব্যাপারে ঘটনাস্থলে আসা সদর মডেল থানার এস আই গাজী শামীম জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। ভুক্তভোগী কামরুল হাসান তার পোকাযুক্ত চকলেট দেখালে কাটাবন এন্ড কোং এর দোকানের কয়েকটি চকলেটের প্যাকেট খুলে পোকা দেখতে পাই। পরে আমি সদর ইউএনও স্যারকে জানালে তিনি আমাকে দোকানের স্টাফ ও পোকাযুক্ত চকলেটগুলো সহ সকালে তার অফিসে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যেতে বলেন। আমি তার নির্দেশ মোতাবেক দোকানের স্টাফদের ও পোকাযুক্ত চকলেট রাতে থানায় রেখে সকালে ইউএনও স্যারের অফিসে নিয়ে যাই। এসময় তিনি ভোক্তাধিকার আইনে কাটাবন এন্ড কোং কে ১ লাখ জরিমানা করেন এবং স্টাফ ৪ জনকে ছেড়ে দেন। সময়মত ১ লাখ টাকা জরিমানা না দিলে প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হবে বলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
এদিকে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাজনিম জেবিন বিনতে শেখকে একাধিবার ফোন দিলেও তিনি তার মোবাইল ফোনটি অদৃশ কারনে রিসিভ করেননি।
এমন গুরুত্বর প্রতারনা করার পরও কাটাবন এন্ড কোং এর ৪ জন স্টাফদের আটক না দেখিয়ে সামান্য জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়াকে জনগনের পক্ষ না নিয়ে মালিকদের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ করেন নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহল।
জনগনের স্বার্থে নারায়ণগঞ্জের প্রতিষ্ঠানগুলোতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষ থেকে অভিযান করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানান সচেতন মহল। এদিকে ঘটনাস্থলে আসা জনগনও কঠিন ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।



