বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ডিশ লাইন থেকে স্টার জলসা ও জি বাংলা নামে দুটি ভারতীয় চ্যানেল বন্ধ করে দেয়ায় স্থানীয় সাংসদ ও কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবুকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ পরিবেশন করায় গতকাল বুধবার ( ২৫ অক্টোবর ) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন এসবি স্যাটেলাইট ক্যাবলের চেয়ারম্যান ও নাসিক ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাবু।
সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলর বাবু বলেন, আমি নারায়ণগঞ্জের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। আমি ছোট বেলা থেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি ব্যাবসা শুরু করি । আমার বাবাও একজন ব্যবসায়ী ছিলেন । আমি সাংসদ শামীম ওসমানের রাজনীতি করি, তবে আমি একজন ব্যবসায়ী। রাজনীতি আমার পেশাও নয়, নেশাও নয়।বিশেষ করে সাংসদ সেলিম ওসমান শুধু আমার নয় এই সমগ্র -৫ আসনের এমপি। আমি কেন তার নাম বিক্রি করবো। জনগনের জন্য কিছু করার লক্ষ্য নিয়ে আমি রাজনীতি করি। আপনারা জানেন আমি কিছু পাবার আশায় কাউন্সিলর হই নি, বরং আমার এলাকা ও এলাকার মানুষের উন্নয়নের জন্য কাউন্সিলর হয়েছি। তাই আমি কখনোই সাংসদদের নাম বিক্রি করে চলি নাই। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাংসদদের জড়িয়ে আমার নামে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হয় যার কোন ভিত্তি নেই ।
স্টার জলসা ও জি বাংলা কেন বন্ধের প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কাউন্সিলর বাবু বলেন, এই দুটি চ্যানেলই বিদেশী চ্যানেল। এগুলো দেখে আমাদের মা-বোন বিদেশী অপসংস্কৃতিতে জড়িয়ে পড়ছে। তাই আমি চাই বাংলাদেশী চ্যানেল গুলো দেখে আমরা যাতে আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি ধারন করতে পারি। দেশীয় চ্যানেলগুলোতে বর্তমান সময়ে বিনোদনমুলক ব্যাপক অনুষ্ঠান প্রচারিত হচ্ছে। যা দেখে
আমরা দেশ সম্পর্কে আরো বেশী জানতে পারি।
সেটটপ বক্স ক্রয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, সেটটপ বক্স ক্রয়ের জন্য কোন গ্রাহককে চাপ প্রয়োগ করা যাবে না। আমি নারায়ণগঞ্জের ডিশ লাইনের কন্ট্রোলার, বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় এজেন্টরা ডিশ লাইন ডিস্ট্রিবিউশন করে। তাই আমি এ বিষয়ে অবগত নই। তবে সেটটপ বক্স ক্রয়ে যদি কেউ চাপ প্রয়োগ করে, আমাকে জানানোর অনুরোধ করছি। আমি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এর ব্যবস্থা নিবো।
পাশাপাশি তিনি বলেন, বর্তমানে যারা সেটটপ বক্স নেয় নি, তারা ৩০০ টাকা ভাড়া দিচ্ছে অথচ এনালগ লাইনের কারনে ৬০ থেকে ৭০টি চ্যানেল দেখতে পারেন। তবে যদি কেউ সেটটপ বক্স ক্রয় করে তাহলে সেই একই ভাড়া দিয়ে ২২০টি চ্যানেল দেখতে পাবে এবং একই সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল দেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে ভুমিকা রাখতে পারে। কেননা আগে যেখানে এজেন্টরা ৪শ থেকে ৫শ লাইনের বিপরীতে ২হাজার থেকে ৩হাজার টাকা ট্যাক্স দিতো। সেটটপ বক্স এর সুবাদে বর্তমানে সেখানে একজন এজেন্ট লক্ষ লক্ষ টাকা ট্যাক্স দিচ্ছে। কারন একটি সেটটপ বক্স এর ভাড়া বাবদ যে টাকা নেয়া হচ্ছে তা থেকে সরকার পাচ্ছে ৪৫ টাকা। নারায়ণগঞ্জে প্রায় ১০ লাখ গ্রাহক ডিশ লাইন ব্যবহার করেন। সবাই যদি সেটটপ বক্স ব্যবহার করেন তবে প্রতি মাসে সরকার পাবে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা। এখন আপনারাই চিন্তা করুন সেটটপ বক্স ব্যবহার করলে সরকারী কোষাগারে প্রতি মাসে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা পড়বে। তবে আমি কাউকে এই সেটটপ বক্স ক্রয়ে কখনো কোন চাপ প্রয়োগ করি নি । সবশেষে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সাংবাদিকরা হলেন জাতির বিবেক। আপনাদের কলমের কালি অনেক পবিত্র। আপনারা যে কোন বিষয়ে সত্যিটাই লিখবেন আমি এই আশাবাদ ব্যক্ত করি। আমি যদি কোন অন্যায় করি তবে অবশ্যই আপনারা তা লিখবেন। তবে কারো নাম জড়িয়ে কোন তথ্যবিহীন সংবাদ লিখবেন না বলে আমি বিশ্বাস করি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর পুত্র ও এসবি স্যাটেলাইট ক্যাবল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম আর কে রিয়েন।
