বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেলেন, আজকে মানুষ আমাদের পেছনে আছে বলে আমরা নেতা, মানুষ না থাকলে আমরা কিছুই না। মানুষের জন্য অন্তত কিছু একটা করে যেতে চাই, যেন মৃত্যুর পর আমাদের জন্য মানুষ মনভরে দোয়া করতে পারে। আমি মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। প্রয়োজনে পায়ে ধরব, টেবিল ভাঙব যা লাগে করব। টাকা কীভাবে আনতে হয় আমি জানি। আমরা মানুষের কাছে ঋণী হয়ে গেছি। কারণ মানুষ আমাদের ক্ষমতায় এনেছে তাই তাদের জন্য যা যা লাগে তাই করব।
রোববার বিকেলে নারায়াণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের নাভানা মাঠে ডিএনডির মেঘা প্রকল্পের উদ্বোধনের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাতে আয়োজিত সমাবেশে শামীম ওসমান এসব কথা বলেন।
তিনি মন্ত্রীকে তার মাথায় হাত রাখিয়ে বলেন, আপনি আমার বড় ভাই, জলদি প্রকল্পের কাজ শুরু হবে- আমার মাথায় হাত দিয়ে কথা দেন, নয়তো আমার মৃত্যুর খবর শুনবেন। আর আপনি আজ বলে যাবেন এবং কথা দেবেন আগামী বর্ষায় আমার ভাই-বোন, মায়েদের আর পচা পানিতে ডুবতে দেব না। প্রয়োজনে এক লাখ মানুষ কোদাল নিয়ে আসব। একসঙ্গে কাজ করব। আমরা পচা পানিতে আর ডুবে থাকতে চাই না।
সমাবেশে শামীম ওসমান বলেন, আমি সংসদে ডিএনডিবাসীর সমস্যার কথা বলেছি। এটাও বলেছি ডিএনডির সমস্যার সমাধান না হলে পদত্যাগ করব। ডিএনডির সমস্যার সমাধান না হলে আমি শামীম ওসমান সংসদ সদস্য থাকতে পারি না।
তিনি আরো বলেন, আমার কথা আমার মায়ের মতো নেত্রী (শেখ হাসিনা) বোঝেন। তিনি আমার চোখ দেখেই বুঝতে পারেন। তিনি আমার কথায় মানুষের কষ্টের কথা ভেবে এ কাজ দ্রুত করার জন্য একনেকে প্রকল্প পাস করেছেন।
শামীম ওসমান বলেন, সব কাজ করবে মন্ত্রণালয় এবং সেনাবাহিনী। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন স্যুয়ারেজের ব্যবস্থা করবে। তাই আপনারা যারা এখানে ৮ জন কাউন্সিলর আছেন, যাদের ডিএনডিবাসী ভোট দিয়ে নির্বাচিত করল তারা ছোট বোন আইভীর সঙ্গে কথা বলে এ কাজের ব্যবস্থা করবেন। এখানকার মানুষদের জন্য আপনারা এ কাজ করবেন। আপনারা হাত তুলে ডিএনডিবাসীর সামনে কথা দেন আপনারা এ প্রকল্পের সব কাজে সহায়তা করবেন। পরে উপস্থিত কাউন্সিলররা হাত তুলে কথা দেন উপস্থিত মানুষকে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। অতিরিক্ত টাকার ঈস্খয়োজন হলে তাও দেওয়া হবে। মন্ত্রী বলেন, এটি সেচ এলাকা ছিল। আবাসন বা শিল্পায়নের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। সেখানে ৫৫০ কিউসেক মিটার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছিল। এখন ৩২০০ কিউসেক করা হচ্ছে। তিনি জানান, ২০২০ সালের মধ্যে প্রকল্প শেষ হওয়ার সময়সীমা। তবে ২০১৯ সালের মধ্যে এটি শেষ করার চেষ্টা করা হবে। আপাতত পানি সরাতে প্রয়োজনে বড় পাম্প আমদানি করা হবে।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম হিরু। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ মজিবুর রহমান বিএসসির সভাপতিত্বে আয়োজিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম হিরু, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্যএকেএম শামীম ওসমান, সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, সংসদ সদস্য এডভোকেট সানজিদা খাতুন, সংসদ সদস্য আবু হোসেন বাবলা ,সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ হোসনে আরা বাবলী । আরও উপস্থিত ছিলেন, নারায়নগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগ সাধারাণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়া, থানা যুবলীগের সভাপতি ও নাসিক ২ নং প্যনেল মেয়র ও নাসিক ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ মতিউর রহমান মতি, শ্রমিকলীগ সভাপতি আব্দুস সামাদ বেপারী, নাসিক ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা আলহাজ ওমর ফারুক, ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাহজালাল বাদল, সাবেক ছাত্রলীগের সহসভাপতি নাজমুল হক খোকা,ইউনিয়ন যুলেিগর সভাপতি নজরুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবকলীগ সিদ্ধিরহঞ্জ থানা সভাপতি আমিনুল হক রাজু,স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা হাজী জহিরুল হকসহ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

