বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকীতে শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের আহবানে ‘ জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে ৭১ সালে বন্দরে হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধস্থল সমরক্ষেত্র’৭১ মাঠ প্রকম্পিত করেছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থী। এ সময় তারা এমপি সেলিম ওসমানের সাথে শপথ গ্রহণ করে বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আগামী দিনে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাবো।সারা বিশ্ববাসীকে জানান দিবো বাংলাদেশ মানে বঙ্গবন্ধু। হায়েনারা একজন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে কিন্তু ১৬ কোটি বাঙ্গালীর কাছে বঙ্গবন্ধু চীর অমর। একই ভাবে এমপি সেলিম ওসমানের সাথে স্লোগান সহ শপথ গ্রহণ করেছেন নারায়ণগঞ্জ কলেজের আরো প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার ১৫ সকাল ১০টায় বন্দর সমরক্ষেত্র মাঠে এমপি সেলিম ওসমানের আর্থিক সহযোগীতায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং দুপুর ১২টায় নারায়ণগঞ্জ কলেজের উদ্যোগে কলেজ প্রাঙ্গনে বঙ্গবন্ধুর ৪২তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় শপথ গ্রহণ করেছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর শিক্ষার্থীরা। একই সাথে বন্দর সমরক্ষেত্র মাঠে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত ক্বেরাত প্রতিযোগীর বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও যুব ঋণ প্রদান করা হয়।
উক্ত অনুষ্ঠান গুলোতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এমপি সেলিম ওসমান বলেন, আমি বার বার তোমাদের কাছে তোমাদের মাঝে ছুটে আসি। তোমাদের কাছে আমার একটাই চাওয়া। আগামী দিনে তোমাদের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও অনুপ্রেরনায় ২০৪১ সালের মধ্যে তোমরাই গড়বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, তোমরাই নিজেদের কখনই নোংরা রাজনীতির সাথে জড়াবে না। আগে তোমরা নিজেদের যোগ্যতা সম্পন্ন হিসেবে গড়ে তুলবে। তারপর তোমরা রাজনীতি করবে আর তোমাদের রাজনীতি একটাই হবে উন্নয়নের রাজনীতি।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙ্গালী জাতির পিতা। উনার জন্ম না হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আসতো না বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশের জন্ম হতো না। তাই বঙ্গবন্ধু কোন দলের নেতা না। বঙ্গবন্ধু সমগ্র বাঙ্গালী জাতির নেতা। তাই উনার আর্দশ ধারণ করতে এবং উনাকে সম্মান জানাতে কারো কোন বাঁধা নেই। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মিত্ররা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বাংলাদেশকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধারা কোন কথা বলার সাহস পায়নি, জয় বাংলা বলতে পারেনি। ৭৫’র পরবর্তী ২১টি বছর বাংলাদেশের গৌরবের ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে। দেশের জন্য বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। দেশের মানুষ উনার হত্যার বিচার দাবী করার সাহস পযন্ত পায় নি। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাহসিকতার সাথে দেশের আইনানুযায়ী খুনীদের বিচার কাজ শুরু করেন। আদালত খুনীর ফাঁসির রায় দিয়ে মৃত্যদন্ড কার্য়কর করে বাংলাদেশকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন। আজকে মুক্তিযোদ্ধারা সম্মান পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত আয়ের দেশ। আর আজকের তোমরাই হবে আগামী দিনের উজ্জল নক্ষত্র।
নারায়ণগঞ্জ কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সেলিম ওসমান বলেন, পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়েছে নারায়ণগঞ্জ কলেজের ফলাফল আগের থেকেও খারাপ হয়েছে। কিন্তু আমি বলবো তোমরা ফলাফল খারাপ করোনি। শুধু জিপিএ-৫ পেলেই ভাল ফলাফল হয়না। পুথিঁগত বিদ্যা আর মুখস্ত বিদ্যায় জিপিএ-৫ পাওয়া মানে প্রকৃত শিক্ষার্জন আর শিক্ষিত হওয়া নয়। জ্ঞান অর্জন করাই হচ্ছে প্রকৃত শিক্ষা। আমি তোমাদের কাছে প্রত্যাশা রাখবো অতীতের মত ভবিষ্যতেও তোমরা তোমাদের কলেজের জন্য গৌরব অর্জন করবে। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ কলেজকে দেশের শ্রেষ্ঠ কলেজ হিসেবে দেশবাসীর কাছে তুলে ধরবে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে কলেজে নির্মাণাধীন নতুন ভবনে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে পারবে বলে শিক্ষার্থীদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজের বক্তব্য শেষ করেন এমপি সেলিম ওসমান।
বন্দরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মৌসুমী হাবিব এর সভাপতিত্ব ও মহানগর জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব আকরাম আলী শাহীন এর সঞ্চালনায় আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম.এ.রশিদ, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের।আরো উপস্থিত ছিলেন বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আবুল কালাম, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলী, মহানগর জাতীয় পার্টি আহবায়ক সানা উল্লাহ সানু, জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহবায়ক আজিজুল হক, আফজাল হোসেন, বন্দর থানা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রোটারিয়ান গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী, মহানগর শ্রমিক পার্টির আহবায়ক আবুল খায়ের ভূইয়া, মদনপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক গোলাপ হোসেন, বন্দর থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খান মাসুদ, গোগনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওশেদ আলী, ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদ আহম্মেদ, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম.এ সালাম, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিরা।
অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফজলুল হক রুমন রেজার সভাপতিত্ব ও আরিফ মিহিরের সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন, কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য এম. এ হাতেম, কামাল হোসেন, ফারুক বিন ইউসুফ পাপ্পু, মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান মুন্না সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা।

