যুগ যুগ ধরে দক্ষিন এশিয়া তথা বাংলাদেশে দেশী বিদেশী সংঘবব্ধ প্রতারক চক্র একের পর এক সহজ-সরল, অর্থলোভী মানুষদেরকে অর্থের লোভ দেখিয়ে অভিনব কৌশল অবলম্বন করে কথনো লটারী, কখনো ঘড়ি খেইল, কখনো সিংহ মার্কা পয়সা, কখনো বিদেশী ডলার কখনো মুর্তি, কখনো দেশে বিদেশে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে, কখনো বা উচ্চ প্রত্যাশিত ব্যবসা ,কখনো তক্ষক নামক বন্য প্রাণী সহ ইত্যাদি ক্রয় বিক্রয়ের মাধ্যমে রাতারাতি বড় লোক হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ-লক্ষ, কোটি-কোটি টাকা।
আজকের পর্ব ইউএসএ ডলারঃ-সংঘবব্ধ প্রতারক চক্রের সদস্যদের মধ্যে একজন ফকির অথবা হাবা গোবা সেজে অভিনয় করে নগদ টাকা পয়সা আছে এমন কারো সাথে সু-কৌশলে সম্পর্ক তৈরী করে, হ্ঠ্যাৎ এক সময় মিথ্যাচারের মাধ্যমে বলবে প্রতারক চক্র আমি রেল যোগে চট্টগ্রাম হইতে ঢাকায় আসিতে ছিলাম। কমলাপুর এসে নামার সময় একভদ্র লোক একটা ব্যাগ রেখে নেমে যায়। আমি ব্যাগটা পেয়ে তাকে দেওয়ার চেষ্টা করি কিন্তু তাকে পাই নাই।অতঃপর আমার বাসায় নিয়ে ব্যাগটা খুলে দেখি ০৫টা টাকার মত বান্ডিল, কিন্তু তা বাংলাদেশের টাকা না ইংরেজী লেখা যাহা আমি বুঝি না। আমি বান্ডিল থেকে দুইটি নোট এনেছি। আমার কাছে আছে । আপনাকে দেখে শুনে আমার বিশ্বাস আপনী বুঝবেন। তারপর সতিকারের ০২টি ইউএসএ ডালার দেখাবে।তখন যে ব্যক্তি দেখবে ইহা আসল ইউএসএ ডলার তখন তো সে বান্ডিল দেখার অনুরোধ শুরু করবে। প্রতারক চক্রের ঐ ব্যক্তি বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সু-কৌশলে প্রতারকদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নিয়ে উপরে একটি আসল নোট নিচে একটি আসাল নোট মাঝ খানে একই সাইজের সাদা কাগজ বান্ডিল আকারে সুতা দিয়ে বান্ডিলটি দুই পাশে ও মাঝখানে মোট ৩টি বাধঁন দিয়ে পুনাঙ্গ বান্ডেল দেখাইয়া বাংলা টাকা দিলে এই ইউএসএ ডলারের বান্ডিল দিয়ে দিবে বলে প্রতারক চক্রের ঐ ব্যক্তি তার অস্থায়ী বাসার ঠিকানা দিয়া দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। আসল বাংলা টাকার বিনিময়ে সে ঐ বান্ডিল নিতে অতি উৎসুক হয়ে প্রতারক চক্রের সাথে যোগাযোগ আরম্ভ করে।প্রতারক চক্রের ব্যক্তি তার গতিবিধি লক্ষ করে। দামদর করে বড় অংকের বাংলা টাকার বিনিময়ে প্রতারক চক্রের নির্ধারিত স্থানে কেউ অবৈধ অস্ত্রধারী কেউ ভুয়া পুলিশ সেজে আশ পাশে থাকবে। অতঃপর বাংলা টাকার গুনে নেওয়ার পর যখন ইউএসএ ডলারের বান্ডিল দিবে আর তখন গুনতে চাইলেই প্রতারক চক্রের ভুয়া পুলিশ আসতে থাকবে ঐ পুলিশের ভয় দেখিয়ে প্রতারক চক্র দ্রুত সু-কৌশলে বাংলা টাকা নিয়ে লাভবান হয়ে প্রতারনা করিয়া পালিয়ে যাবে। এভাবে যে ব্যক্তি লোভের বশবর্তী হয়ে প্রতারনার ফাদেঁ পা দিয়ে ঠকে এসে না পারে কাউকে বলতে, না পারে সইতে প্রশাসনের আশ্রয় নিলে আইনগত কোন ভিত্তি না থাকায় নিজেকে অর্থনেতিক ক্ষতি গ্রস্থ বাংলার মদন ভাবা ছাড়া আর কোন উপায় থাকেনা।
(পর্ব-১) (চলবে–পরবর্তীতে ২য় পর্ব তক্ষক নামক বন্য প্রানী)
অতিথী কলামিষ্ট,পুলিশ ইন্সপেক্টর, মোঃ সেলিম মিয়া,নারায়ণগঞ্জ।

