বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে ইতিমধ্যে একাধিক তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী গ্রেফতারসহ উদ্ধার হয়েছে গুলিভর্তি বিদেশী পিস্তল। আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রনের লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তালিকাভূক্ত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি পরোয়ানাভূক্ত পলাতক আসামি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়েরকৃত মামলার আসামিদের গ্রেফতারেও এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তাদের ভয়ে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে আতœগোপনে তালিকা ভূক্ত সন্ত্রাসীরা।
নারায়ণগঞ্জের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ প্রশাসনের এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জবাসী। তবে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে অন্যান্য থানা পুলিশের তুলনায় ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ অনেকটা এগিয়ে রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হকের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল-ক) শরফুউদ্দিন আহমেদ ও ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল উদ্দিনের দক্ষ তদারকি এবং পুলিশ অফিসারদের সঠিক দিক নির্দেশনার ফলে ফতুল্লার তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে বলে নারায়ণবাসী জানান। ইতিমধ্যে ফতুল্লার তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী পিচ্চি মিজান, জসীম, গাফ্ফার, ভোল্টার সেলিম. অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী কাইল্যা মামুনের মতো শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে নারায়নগঞ্জের আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রনে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে বলে নারায়ণগঞ্জবাসীর মতামত। এদিকে ফতুল্লার তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের পর পরই ক্ষমতাসীনদলের প্রভাবশালী নেতাদের তদবীর করতেও দেখা গেছে। তবে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ আপোষহীন ভূমিকায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার নিচ্ছেন। কোন ধরনের রক্ত চক্ষুকে ভয় না পেয়ে তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ফলে ফতুল্লাবাসীর প্রশংসার ভাগীদার হয়েছেন ওসি কামাল উদ্দিন। অপরদিকে পুলিশের অব্যাহত অভিযানে সন্ত্রাসীরা অর্ণ্যত্র আতœগোপনে চলে যাচ্ছে। পুলিশের অভিযানে একাধিক তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী গ্রেফতারের পর থেকে অন্যান্য তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসীদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।
সূত্রে জানা যায়, জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হকের যোগদানের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জের অবস্থা অনেকটাই পাল্টে যায়। তারই নেতৃত্বে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি কামাল উদ্দিন যোগদানের অদ্যাবদি পর্যন্ত বিপুল পরিমান মাদক ও অস্ত্র, তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী, মানব পাচারকারী, অবৈধ সেক্টরে হানা, গ্রেফতারী পরোয়ানাভূক্ত পলাতক আসামি গ্রেফতারের মাধ্যমে সফলতার এক বিরল দৃষ্টান্ত অর্জন করেছেন। জেলা পুলিশের দক্ষ বিচক্ষন সিদ্ধান্তে অল্প সময়ে নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সফলতা এনেছে।
নারায়ণগঞ্জের মত বিশাল জনবহুল এলাকায় জেলা পুলিশের কর্মের সফলতা নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে ইতিহাস হয়ে থাকবে। সেই সাথে কর্মের মাধ্যে জেলা পুলিশ নেতৃত্বে এএসপি শরফুউদ্দিন আহমেদ ও ফতুল্লা থানার ওসি কামাল উদ্দিনের ভাল কাজগুলা পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের থানাতেগুলোকে পুলিশ কর্মকর্তাদের অনুপ্রেরনা হয়ে থাকবে বলেও আইন বিশ্লেষকরা মনে করেন।
জেলার অন্যান্য থানার চেয়ে কয়েকগুন বড় এবং বিশাল এলাকা নিয়ে গঠিত ক্রাইমজোন হিসেবে পরিচিত এই ফতুল্লাকে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি জিরো টলারেন্সে আনাটা সর্বোপরি বিচক্ষন, দক্ষ, পারদর্শী, দূরদর্শীতা যার মধ্যে রয়েছে সেই পুলিশ সদস্যই তার কর্মক্ষেত্রে সফল। আর এ আলামতগুলোর প্রতিটা গুনাবলীই রয়েছে জেলা পুলিশ মঈনুল হকের নেতৃত্বে থাকা এসপি শরফুউদ্দিন আহমেদ ও ওসি কামাল উদ্দিন মধ্যে রয়েছে বলেও আইন বিশ্লেষকদের ধারনা।
তাদের দক্ষতায় থানার কিছু সাহসী ও মানুষের সেবায় নিয়োজিত কর্মঠ এমন কিছু পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে সঠিক দিক নির্দেশনা প্রদানের মধ্যদিয়ে নারায়ণগঞ্জবাসীর সেবা করে আসছেন তারা। এদিকে ফতুল্লা থানার এস আই মিজানুর রহমান-২, এস আই নাহিদ আহাম্মেদ, এস আই আতাউর রহমান, এস আই কাজী এনামুল, এ এস আই কামরুল হাসান, এ এস আই আবুল কালাম আজাদ। আর সাহসী ও কর্মঠ এই পুলিশ সদস্যরা ফতুল্লাকে শান্তিপ্রিয় রাখতে ওসি কামাল উদ্দিনের দিক নির্দেশনায় সর্বোপরি আর্বজনার মিশনে কাজ করে যাচ্ছেন। সঠিক নির্দেশনার ফলে ফতুল্লার আইনশৃংখলাও স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে ফতুল্লা মডেল থানার আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এস আই মিজানুর রহমান-২ এবং এ এস আই কামরুল হাসানের বদলীর সংবাদে অনেকটাই হতাশ হয়েছে ফতুল্লাবাসী। ফতুল্লার মাদক,সন্ত্রাস, অস্ত্রধারী সন্ত্রাস, মানবপাচারকারী, গ্রেফতারী পরোয়সাভূক্ত আসামি গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে বার বার জেলা পুলিশের শ্রেষ্ট এই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বদলী বাতিল করে ফতুল্লা মডেল থানায় পূর্ণ বহালের জন্য পুলিশের উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক বলেন, সন্ত্রাস, মাদক ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে আমাদের বিশেষ অভিযান চলছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। যেখানে অপরধা দেখা সেখানেই প্রতিহত করা হবে। আমাদের অভিযানগুলো সফল করতে নারায়ণগঞ্জবাসীর সহযোগীতা কামনা করছি।
এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি কামাল উদ্দিন জানান, সন্ত্রাস ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান জিরো টলারেন্সে। সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীরা সমাজের আর্বজনা। আর এই আর্বজনাদের অন্যত্র পূর্ণবাসনের দায়িত্ব নিয়েছে। আর আর্বজনার একমাত্র স্থান জেলা কারাগার। আমি মনে করি সন্ত্রাসী ও আর্বজনা যেখানে ছড়িয়ে পড়বে সেই এলাকার পরিবেশ দূষিত হয়। আর দূষনমুক্ত ফতুল্লা গড়ার মাধ্যমে ফতুল্লাবাসীকে সুন্দর ও শান্তিপ্রিয় এলাকা উপহার দেয়াই আমার দায়িত্ব। আর আর্বজনা পরিষ্কার করার জন্য কোন প্রভাবশালী মহল তদবীর করলে আমার দৃষ্টিতে সেই প্রভাবশালী ব্যাক্তির বসবাসও আর্বজনার মধ্যেই। যে কোন কিছুর বিনিময়ে ফতুল্লাবাসীর শান্তির নিশ্চিয়তা আমাকে করতে হবে। আর আমি সেদিক লক্ষ রেখেই কাজ করে যাচ্ছি। আর আমার কাজের ফলে কে মনক্ষুন্ন হলো এ বিষয়ে ভাবার সময় নেই।

