বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
‘তুই মালাউন”। এই দেশে কি করছ। ইন্ডিয়া যা”। সনাতন ধর্মালম্বী ৬৫ বছরের বৃদ্ধ সুভাস চন্দ্রকে প্রকাশ্যে চিহৃিত সন্ত্রাসী দারুন পিটানোর এক পর্যায়ে বৃদ্ধাকে উদ্দেশ্য করে এই কথা বলতে থাকে।
“বাবা আমাকে আর মারবেন না, আমি আপনাকে চিনতে পারি নাই। আমি অসুস্থ বাবা। তিন বার স্ট্রোক করেছি। বাবাগো তুমি আমাকে ছেড়ে দাও। আমি তোমার পায়ে পড়ছি”। গত সোমবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের ডিআইটি এলাকায় প্রকাশ্যে ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধকে পেটাচ্ছিলেন শহরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী দারুন। মার সহ্য করতে না পেরে এভাবেই আকুতি মিনতি করেও শেষ রক্ষায় হয়নি ওই বৃদ্ধের। শেষতক বৃদ্ধকে খায়েশমত পিটিয়ে স্থান ত্যাগ করে ওই সন্ত্রাসী। এ বিষয়ে কোথাও কোন অভিযোগ না করতে শাসানো হয় তাকে। উপায়ন্তর না পেয়ে ওই দিন রাতেই বৃদ্ধ সুভাস চন্দ্রের ছেলে সুবীর চন্দ্র নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। পুরো ঘটনা জানিয়ে এর প্রতিকার চাইলে তাৎক্ষণিক নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: শরফুদ্দিনের নির্দেশে ঘটনার হোতা শহরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী হুমায়ূন রশীদ দারুনকে (৩৫) গ্রেফতার করে পুলিশ। মারধরে শিকার বৃদ্ধ সুভাস চন্দ্র রায় ফতুল্লার পুলিশ লাইন এলাকার বাসিন্দা। তার ছেলে সুবীর চন্দ্র রায় শহরের টানবাজার এলাকার সূতা ব্যবসায়ি। এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার সূতা ব্যবসায়ি সুরীরের বন্ধু আকবর আলী বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনার শিকার সুভাস চন্দ্রের ছেলে সুরীর চন্দ্র বলেন, সোমবার বিকালে শহরের ডিআইটি করিম মার্কেটের সামনে বন্ধু আলী আকবরের প্রাইভেটকার দেখে শহরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী দারুন এসে চালক বিপ্লবকে জিজ্ঞাসা করে “এই গাড়ী কি আকবরের। বিপ্লব হ্যাঁ সূচক জবাবের পরেই দারুন বলে “তোরে চাকার নীচে পিষাইয়া মারমু। বিপ্লব কারণ জানতে চাইতেই তাকে বেধড়ক পেটাতে থাকেন দারুন। এ সময় ঘটনাস্থলে দিয়ে যাওয়ার আমার বাবা সুভাস চন্দ্র ঘটনা প্রত্যক্ষ করে দারুনকে বলে “বাবা তুমি ওকে মারছ কেন। ছেড়ে দাও। ও কোন দোষ করলে আমাকে বল”। এ কথা বলতেই বাবাকে ধাক্কা মেরে রাস্তায় ফেলে দিয়ে কিল, ঘুষি, লাথি পর লাথি মারতে থাকে। বাবা চিৎকার করে বলতে থাকে “বাবা আমি অসুস্থ স্ট্রোকের রোগী। ওই সময় দারুন বলতে থাকে তুই মালাউন”। এই দেশে কি করছ। ইন্ডিয়া যা।” বাবার চিৎকারে আশপাশের মানুষের সন্ত্রাসী দারুনকে অনুরোধ করেও কোন লাভ হয়নি। জানোয়ারের মত বাবাকে পেটাতে থাকে । এক পর্যায়ে খয়েশমত মারধর শেষে চলে যায় দারুন। গুরুতর আহত অবস্থায় চালক বিপ্লব ও বাবাকে হাসাপাতালে নিয়ে যায় স্থানীয়রা। ঘটনার পর আমি আমার ঘনিষ্ঠ দুই একজনকে বিষয়টি জানাই।
মামলার বাদী আলী আকবর বলেন, সুবীরের বাবাকে পেটানোর পর সন্ধ্যার পর দারুন আমার টানবাজারের লতিফ অ্যান্ড সন্স সূতার গদিতে ২০-২৫ জন সন্ত্রাসী পাঠিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। নইলে তারা শাসিয়ে যায়, “বুড়ার কপালে আরো মাইর আছে” রাত ১০ টা পর্যন্ত ধারাবাহিক হুমকির পর সুবীরকে নিয়ে সদর থানায় আশ্রয় নেই। পুরো ঘটনা জেনে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: শরফুদ্দীনের নির্দেশে রাত সাড়ে ১০ টার দিকে সন্ত্রাসী দারুনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় রাতেই সন্ত্রসাী দারুনের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করি।
এদিকে এ ঘটনার পরেই মঙ্গলবার সকালে মামলার বাদী আলী আকবরের বাড়ি ঘিরে ফেলে সন্ত্রাসীরা। তারা দারুনের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে পৌছে অপর সন্ত্রানী দেলুকে গ্রেফতার করে। বাকীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়।
বৃদ্ধ সুভাস চন্দ্রের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, পুরো শরীরের মারের দাগ। বিছানায় কাতরাচ্ছেন। প্রতিবেদককে বলেন, বাবারে অনেক অনুরোধ করছি ছেলেটারে, তার কোন মায়া নেই। না মারতে যত আকুতি করেছি ততই জানোয়ারের মত ঝাপিয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ক অঞ্চল) জানান, ঘটনাটি আমাদের পুলিশকে ব্যথিত করেছে। থানায় এসে হাউমাউ করে কেঁদেছে বৃদ্ধের ছেলে। আমরা ওই সন্ত্রাসীকে বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি। এ ঘটনায় জড়িতরা যত প্রভাবশালী হোক ছাড় দেওয়া হবে না।#
