বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
আবারো শুরু হলো নুনেরটেক এলাকায় বালু শকুনের থাবা। গত কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর গত কয়েক দিন ধরে পুরো ধূমে উত্তোলন করা হচ্ছে অবৈধ ভাবে বালু এ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত স্থানীয় আওয়ামীলীগ জাতীয় পার্টির কিছু নাম ধারী নেতা। ক্ষমতাসীন সরকারের নাম বিক্রি করে সাধারণ মানুষকে ধোকা দিয়ে। দিনের পর দিন প্রতারণা করে শেষ করা হচ্ছে মানুষের বসত বাড়িঘর ও ফসলী জমি। কিছু সংখ্যক নেতা নিজেদের পকেট ভাড়ি করতে শেষ করছে শত বছরের ঐতিহ্য।
অবধৈ বালু উত্তোলনের ফলে ঐতিহাসিক আনন্দ বাজার নুনেরটেক এলাকা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সোনারগাঁয়ের ইতিহাস থেকে বিলিন হয়ে যাবে বলে বিজ্ঞজন মনে করেন। আনন্দবাজার এলাকায় অবৈধ বালুর টাকা ভাগাভাগি নিয়ে কয়েক দিন আগে রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষ সংঘঠিত হয়। কয়েকজন টেঁটাবিদ্ধসহ গুরুতর আহত হয়। শপথ নেয় প্রাণ দিয়ে হলেও অবৈধ বালু উত্তোলন ঠেকাবে। কয়েক দিনের মধ্যেই সে শপথ ভুলে টাকার লোভে পরে সবাই এক হয়ে যায় বালু উত্তোলনে। মিশে একাকার হয়ে যায় বালু খেকোদের দলে। আনন্দবাজার এলাকার অবৈধ বালু উত্তোলন কারীরা হলো বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি নবী হোসেন, বহুরুপী বাসেদ মেম্বার, জাতীয় পার্টির নেতার ছেলে মাজহারুল, নাম ধারী নেতা আমিন হোসেন, দেলু, আক্তার। টাকার লোভে আত্মসম্মান বির্সজন কারী বৈদ্যরবাজার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি হোসেন মেম্বার, নুনেরটেক এলাকার জাকারিয়া, আকবরসহ আরো অনেকে।
রমজান মাসে বালু উত্তোলনের পক্ষে এক দল এবং বালু উত্তোলন ঠেকানোর পক্ষে একদল ছিল। সে ঘটনা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষও সংঘঠিত হয়। সে ঘটনায় উভয় পক্ষের ২০ জনের মতো টেঁটাবিদ্ধ হয়। এখনও টেঁটাবিদ্ধরা হাসপাতাল ছাড়েনি। অথচ বালু উত্তোলনের টাকার জন্য আপোস করে চলছে ধে-ধারচে বালু উত্তোলন। সোনারগাঁয়ের মেঘনা নদীর আনন্দবাজার এলাকায় বালুমহালের সীমানার বাইরে থেকে অবৈধভাবে বালু তুলতে বাধা দেওয়ায়। ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো.নবী হোসেন উপজেলার মেঘনা নদীর আনন্দবাজার বালু মহাল ইজারা পাওয়ার পর ৩০-৩৫ জনের একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। সিন্ডিকেটটি বরাদ্দ করা বালু মহালের সীমানা অতিক্রম করে নুনেরটেক গ্রাম ও ফসলি জমি ঘেঁষেও বালু তুলতে থাকে। ২০-২৫টি শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে এভাবে বালু তোলার ঘটনায় নুনেরটেক গ্রামবাসীর সঙ্গে তাদের একাধিক সংঘর্ষও হয়েছে। বালু উত্তোলনকারীরা নুনেরটেক গ্রামবাসীর ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে আনন্দবাজার এলাকায় এসে গ্রাম ঘেঁষে বালু তুলতে থাকে। সেখানেও গ্রামবাসী বাধা দিলে তারা তর্কবিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ইজারাদার মো. নবী হোসেনের নেতৃত্বে আমির হোসেন, সিরাজ, বাসেদ মেম্বার, দিলু, মাজহারুল, রকি, আইয়ুব আলী মেম্বারসহ ৩০-৩৫ জনের একটি দল টেঁটা, বল্লম, রামদা, চাপাতি ও লাঠিসোটা নিয়ে গ্রামবাসীর উপর হামলা চালায়।
নারায়ণগঞ্জ-৩ সোনারগাঁ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা আনন্দবাজার বালু মহালের ইজারা বাতিল করতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসককে ৩০ মে ডিও লেটার দিয়েছেন। সোনারগাঁয়ের নুনেরটেক এলাকায় নদী ভাঙ্গন ঠেকাতে সাংসদ খোকা জেলা প্রশাসককে ডিও লেটার দেন। এতে নদী ভাঙ্গনের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ নুনেরটেকের হাজার হাজার অধিবাসীর
সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্থির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। উপজেলার বারদী ইউনিয়নের নুনেরটেক মৌজাস্থিত আনন্দবাজার বালু মহাল থেকে বালু উত্তোলণের কারণে পার্শ্ববর্তী নুনেরটেক গ্রামের শতশত মানুষের ভিটে–বাড়ি ও ফসলি জমি ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া নদীর গভীরতা বৃদ্ধি পেয়ে প্রবল স্রোত সৃষ্টি হওয়ায় নদীতে মাছ থাকছে না। ফলে এলাকার জেলে সম্প্রদায় উপার্জনহীন হয়ে মানববেতর জীবনযাপন করছে।
গত ২০ মার্চ মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ শাখার একটি স্মারকে মেঘনা সেতুর উজান ও ভাটি এলাকার তিন কিলোমিটার নদীর তলদেশ বা উন্মুক্ত স্থান থেকে বালু ও মাটি উত্তোলণ বন্ধ রাখতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়া হয়।

