বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
আগামী সংসদ নির্বাচনেও জনগণের আস্থা এবং গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে চ্যালেঞ্জর সম্মুখীন হবে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ। বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে দলের মধ্যে ঘাঁপটি মেরে থাকা কতিপয় সুবিধাবাদী নেতার রহস্যজনক আচরনে দলটি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অস্তিত্বহীনতায় ভোগছে বলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। দুই মেয়াদে টানা নয় বছর ক্ষমতায় থাকা দলটির ভেতরে থাকা কতিপয় সুবিধাবাদীরা বিগত সময়ে নিশ্চুপ থাকলেও নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের কান্ডারী সাংসদ শামীম ওসমানের বিরুদ্ধচারন কতিপয় নেতাদের আচরনে নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়ছে। এদিকে নারায়ণঞ্জ বিএনপি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে মোতাবেক দলের নেতাদের একত্রিত করার মাধ্যমে কর্মী সংগ্রহের পথে ঐক্যবদ্ধ কাজ করলেও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের অনেকেই দলীয় সাংগঠনিক কার্য্যক্রমের খবর নেয়ারও প্রয়োজন মনে করছেন না। ফলে আগামি নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ কতটা সফলতার সাথে বিরোধীপক্ষকে মোকাবেলা করবেন তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে তৃনমূল আওয়ামীলীগের কর্মী সমর্থকদের মাঝে। এছাড়া এখন নেতাকর্মী-সমর্থকদের মধ্যে মূল আলোচনা আগামী বছর ডিসেম্বরের মধ্যে অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে। জেলা ‘আওয়ামী লীগে আাগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি কিভাবে শুরু করবে, সাধারন কর্মী সমর্থকদের উপর নির্দেশনা থাকবে কেমন, কর্মী সংগ্রহ কার্য্যক্রম শুরু কিভাবে, রাজপথে সক্রিয় থাকাসহ বিভিন্ন কর্মসূচী জেলা আওয়ামীলীগ থেকে না আশায় হতাশার মধ্যে ভোগছে নেতাকর্মীরা।
সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে কয়েকটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে দলীয় কোন্দল প্রকাশ্যে চলে এসেছে। নারায়ণগঞ্জ যুব মহিলালীগের পাল্টা পাল্টি কমিটি এবং জেলা কৃষকলীগের কমিটিকে কেন্দ্র করে দলের ভিতর ঘাঁপটি মেরে থাকা দীর্ঘদীনের ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির অস্থিত্ব রক্ষাসহ সাধারন নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে সাংসদ শামীম ওসমান দক্ষ রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বের দাবিদার হলেও তারই অনুগামী জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের কতিপয় রাজনীতিবীদরা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় দলীয় কোন্দল প্রকাশ্যে চলে আসে। আর চলমান কোন্দল আগামি জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থীদের বড় ধরনের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হবে বলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। নির্বাচনের প্রার্থিতাসহ নানা কারণে দলে রীতিমতো বিস্ফোরণোন্মুখ অবস্থান বিরাজ করছে। রাজনৈতিক নীতি-কৌশলগত বিতর্ক, তবে সর্বত্র ব্যক্তি ও গ্রুপের স্বার্থে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, আধিপত্যের লড়াই, দলীয় নেতাদের বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে তৃণমূল পর্যায়ের সাংগঠনিক অবস্থা অনেকটাই বেসামাল। এছাড়া সরব আলোচনা না থাকলেও নীতিগত একটি প্রশ্নই সামনে এসেছে, তা হলো হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলা নিয়ে দলের ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেক কর্মী-সমর্থকের মনে প্রশ্ন, কোথায় দাঁড়িয়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ? কর্মী-সমর্থকরা চান, বিভ্রান্তির কুয়াশা দূর করে আওয়ামী লীগ আত্মশক্তির উদ্বোধন ঘটিয়ে আগামী নির্বাচনে মেরুদ- সোজা করে জনগণের সামনে দাঁড়াক।
এদিকে দলের মধ্যে কতিপয় সিনিয়র নেতৃবৃন্দের রহস্যময় আচরনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আওয়ামীলীগের প্রবীন নেতা বলেন, এমনিতেই অভ্যন্তরীণ দ্বন্ধ-বিবাদে পর্যুদস্ত হয়ে আছে আওয়ামী লীগ। তাই এখনই গৃহদাহ মিটিয়ে দলকে দ্রুত আরও গুছিয়ে নেওয়া দরকার।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতাদের সাথে যোগোযোগ করা হলে উল্লেখিত সংবাদ বিষয়ে কোন ধরনের মন্তব্য করতে রাজী হয়নি তবে তারা বলেছেন সময়মত সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।
