বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
জাতীয় সাংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে নারায়ণগঞ্জবাসীর মধ্যে প্রার্থীতা নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা। বিশেষ করে জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে ১৪দল থেকে সদর-বন্দর আসনের প্রার্থী কে হচ্ছেন জাপা নাকি আ’লীগ এনিয়ে রাজনীতিবীদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার সাধারন মানুষ রয়েছে ধোঁয়াশার মধ্যে। ইতিমধ্যে এ আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ ইঙ্গিত দিয়েছেন। অপরদিকে বন্দরের শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের ইস্যুকে কেন্দ্র করে অনেকটাই কোনঠাসা হয়ে আছেন জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত সাংসদ একে এম সেলিম ওসমান। আর বিএনপি যদি একাদশ নির্বাচনে অংশগ্রহন করেন তাহলে নির্বাচনে হাড্ডা হাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ আসন থেকে ১৪ দলের হেভিওয়েট প্রার্থী নির্ধারন করা হবে এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সদর-বন্দর এলাকা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন। প্রয়াত সাংসদ একেএম নাসিম ওসমানের অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূন করার ওয়াদা বদ্ধতাই সেলিম ওসমানের নির্বাচনে জয় লাভের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন স্থাণীয় জাতীয় পার্টি এবং এলাকার সাধারন মানুষ। এ আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ার পর পরই সরকার কতৃক বরাদ্ধ অর্থের পাশাপাশি নিজ অর্থায়নে ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকার সাধারন মানুষের অন্তরে স্থান করে নিতে পারলেও শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের ইস্যুকে কেন্দ্র করে সেলিম ওসমানের উন্নয়নের চিত্র অনেকটাই অন্ধকারে নিমজ্জিত হওয়ার মত উপক্রম হয়েছে। এ ঘটনার পর পরই সাংসদ সেলিম ওসমানের জনসমর্থনে ভাটা পড়ে। আর ১৪ দল একাদশ সাংসদ নির্বাচনে যে কোন মূল্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটিকে তাদের দখলে আনতে যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নিবেন এমনটাই প্রত্যাশা ১৪দলসহ স্থাণীয় সাধারন ভোটারদের। অপরদিকে এ আসন থেকে আওয়ামীলীগ থেকে নির্বাচন করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই ইচ্ছে পোছন করেছেন মহানগর আওয়ামীলীগ নেতা এড. খোকন সাহা, জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি এড.আনিছুর রহমান দিপু, কেন্দ্রীয় শ্রমিকলীগ নেতা শুকুর মাহমুদসহ আরো কয়েকজন। আর একাদশ সাংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহন করলে তারাও এ আসনটিকে তাদের বলয়ে আনার জন্য হেভিওয়েট প্রার্থী বাছাই করবেন বলেও দলীয় সূত্রে জানা যায়।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার একটি অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান জানান, একাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচন নিয়ে এখনই তিনি কিছু ভাবছেন না। তবে সময় আসলে সবকিছুই আয়নার মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন।
এ ব্যাপারে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড.থোকন সাহার মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি। তবে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক তার ঘনিষ্ট এক সহচর জানান, গোঁপনে গোঁপনে এড.খোকন সাহা নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহন করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। দল যদি তাকে মনোনয়ন দেন তাহলে তিনি নির্বাচন করবেন অণ্যথায় দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন।
জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি এড.আনিছুর রহমান দিপুর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কেন্দ্রীয় শ্রমিকলীগ নেতা শুকুর মাহমুদ জানান, দশম জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে দল তাকে দলীয় নেীকার টিকেট দিয়েছিলেন। একাদশ সাংসদ নির্বাচনেও দল তাকেই নৌকার টিকেট দিবেন বলে তিনি আশাবাদী। আর দল যদি তাকে নৌকার টিকেট দেন তাহলে দলকে বিজয় উপহার দিবেন বলেও শতভাগ নিশ্চয়তা প্রদান করেন।
এদিকে বন্দরের শাবদী এলাকার নওশের আলী বলেন, আমরা চাই, যে সব সময় আমাদের দেখবে তাদের কে ভোট দিবো যার কাছে যাওয়ার ক্ষমতা নেই তাকে ভোট দিবো না। যে প্রার্থী হক মনের মত না হলে ভোট দিতে যাবো না।
সদরের নিতাইগঞ্জ এলাকার নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা চাই ১৪দল থেকে বর্তমান সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান পূনরায় এমপি হোক। তিনি সাংসদ থাকাকালীন সময়ে যত কাজ করেছে তা ইতিহাস হয়ে থাকবে। আর আমাদের মতো সাধারন জনগনের স্বার্থে যে ব্যাক্তিই ভালো কাজ করবে তাই তার এমপি হওয়ার দরকার।
এদিকে সদর-বন্দর এলাকার একাধিক আওয়ামী লীগের নেতা নাম না বলার শর্তে বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসলেও এ আসনে এবার আওয়ামী লীগ জয় হবে। কারণ গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে এমপি না হওয়ায় জনগন বুঝেছে আওয়ামী লীগ থেকে এমপি না হলে এলাকার উন্নয়ন হবে না।
মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল বলেন, সুষ্ঠ নির্বাচন হলে বিএনপি থেকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীই এমপি হবে আর সুষ্ঠ না হলে কি হবে বলা যায় না।
