বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
সোনারগাঁয়ের মেঘনা নদীর আনন্দবাজার এলাকায় বালু মহালের নিদিষ্ট সীমানা অতিক্রম করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসী ও বালু উত্তোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধসহ ২০জন আহত হয়েছে। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশংস্কাজনক বলে জানা যায়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মেঘনা নদীর আনন্দবাজার বালু মহাল ইজার পায় বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. নবী হোসেন। ইজারাদার নবী হোসেন ইজারা পাওয়ার পর থেকে ৩০-৩৫জনের একটি সিন্ডিকেট করে মেঘনা নদীর আনন্দবাজার বালু মহালের সীমানা অতিক্রম করে নুনেরটেক গ্রাম ও ফসলী জমি ঘেঁষে রাতদিন ২০-২৫টি শক্তিশালী ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় নুনেরটেক গ্রামবাসীর সঙ্গে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়।
মঙ্গলবার সকালে আনন্দ বাজার বালু মহালের সীমানা অতিক্রম করে নুনেরটেক গ্রাম ঘেষে বালু উত্তোলনের চেষ্টাকালে গ্রামবাসী লাঠিসোটা, টেঁটা, বল্লম ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বালু ্উত্তোলনকারীদের ধাওয়া করে। বালু উত্তোলনকারীরা নুনেরটেক গ্রামবাসীর ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে এসে আনন্দবাজার এলাকায় পুনরায় গ্রাম ঘেষে বালু উত্তোলন শুরু করলে আন্দবাজার গ্রামবাসী তাদের বাঁধা দেয়। এসময় উভয় পক্ষ তর্ক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে আনন্দবাজার বালু মহালের ইজারাদার মো. নবী হোসেনের নেতৃত্বে আমির হোসেন, সিরাজ, বাসেদ মেম্বার, দিলু, মাজহারুল, রকি, আইয়ুব আলী মেম্বারসহ ৩০-৩৫জনের একটি দল টেঁটা, বল্লম, রামদা, চাপাতিসহ লাঠিসোটা নিয়ে গ্রামবাসীর উপর হামলা চালায়। হামলায় শফিকুল ইসলাম, রনি, শামীম টেঁটাবিদ্ধসহ মজিবুর রহমান, ফুল মিয়া, ইয়ানুস, শাহাদাত হোসেন মেম্বার, কামাল, শাহজালালসহ উভয় পক্ষের ২০জন আহত হয়। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৩জনের অবস্থা আশংস্কাজনক বলে জানা যায়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আইযুব আলী মেম্বার, বাসেদ মেম্বার ও রকি নামের ৩জনকে আটক করেছে সোনারগাঁ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এ বিষয়ে আনন্দবাজার বালু মহালের ইজারাদার নবী হোসেন বলেন, আমি জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছি। ইজারা পাওয়ার পর থেকে হোসেন মেম্বার ও তার লোকজন আমার কাছ থেকে চাঁদা দাবী করে আসছে। দাবীকৃত চাঁদা না দেওয়ার আমাদের বালু উত্তোলনকারী ড্রেজারে হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের লোকজন আহত হয়।
গ্রামবাসীর পক্ষের শাহাদাত হোসেন মেম্বার বলেন, নবী হোসেন তার ইজারকৃত বালু মহালের সীমানা অতিক্রম করে গ্রাম ও ফসলী জমির কাছ থেকে বালু উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের বাঁধা দেওয়ার গ্রামবাসীকে কুপিয়ে ও টেঁটাবিদ্ধ করে আহত করেছে।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীনুর ইসলাম বলেন, কোন অবস্থাতেই বালু মহালের সীমানা অতিক্রম করে বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না। সীমানা অতিক্রম করে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোনারগাঁ থানার ওসি শাহ মো. মঞ্জুর কাদের পিপিএম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
