বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
জঙ্গী ও সন্ত্রাস দমনে পুলিশ প্রশাসনকে সহযোগীতা করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ সকলের প্রতি আহবান রেখেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। সেই সাথে শহরে চলমান সমস্যা গুলো সম্পর্কে শুধু আলোচনায় সীমাবদ্ধ না রেখে ভবিষ্যত পরিকল্পনার মাধ্যমে বর্তমানের সমস্যা গুলো সমাধানের তাগিদ দিয়েছেন।
রোববার ১১ জুন দুপুর ১টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলার আইন শৃঙ্খলার সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারনী ফোরাম জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেছেন সমাজ এবং দেশের প্রতি আমাদের সকলের দায়িত্ব আছে। কিন্তু আমরা সেই দায়িত্বটা অবহেলা করে সেটা পুলিশ প্রশাসনের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। সরকারী একটি বিধান হয়েছে ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়া কিন্তু আমরা কেউ এটা করছি না। আমাদের সকলকেই ভাড়াটিয়ার তথ্য সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিতে হবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে অনেক মাদ্রাসা রয়েছে। যেগুলোতে ৫ শতাংশও নারায়ণগঞ্জের স্থানীয়রা লেখাপড়া করছে না। আমি বলবো না মাদ্রাসা বন্ধ করে দিতে। আমি বলবো মাদ্রাসায় যারা পড়ালেখা করছেন তাদের তথ্য গুলো যেন সংগ্রহ করে সংরক্ষিত রাখা হয়। এছাড়াও দেখা যায় শহরের মসজিদ গুলোর ইমাম সাহেবদের মধ্যে ৫ ভাগও নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় নন। যদি মসজিদের ইমাম সাহেবেরা নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় হতেন তাহলে তাদের এই শহরের জন্য তাদের দরদটা আরো অন্যরকম হতো। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে যে সকল বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়ার তথ্য প্রদান করছেন না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
শহরের ফুটপাত দখল ও যানজট সম্পর্কে তিনি বলেন, গত ঈদেও আমি যানজট নিরসনের জন্য টাকা দিয়ে ছিলাম। এ বছর তা সম্ভব হয়নি। কারন সব কিছুর জন্য পূর্ব পরিকল্পনা প্রয়োজন। আগামীতে আরো একটি ঈদ এবং দূর্গাপূজা রয়েছে সেই সময় রাস্তাঘাট যানমুক্ত রাখার জন্য আমাদেরকে আগের থেকেই পরিকল্পনা করতে হবে। রাস্তায় গেলে দেখা যায় রাস্তর দুপাশে ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো হয়েছে। এরপর আবার ভ্যানগাড়ি করে রাস্তার মাঝখানে দোকান বসানো হয়েছে। এর জন্য জনপ্রতিনিধিরা অনেকাংশে দায়ী। জনপ্রতিনিধিরা মনে করছেন নির্বাচন এলে তারা ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে। কিন্তু আমি হলফ করে বলতে পারি তাদের মধ্যে ৫ ভাগও নারায়ণগঞ্জের ভোটার না। আমার কিছু দালাল প্রকৃতির লোক আছে যারা তাদেরকে কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের দোকান বসানোর ব্যবস্থা করে দিয়ে নিজেরা পাজারো গাড়ি দিয়ে ঘুরে বেড়ায়। আমার কিছু কিছু কাজ করতে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এসব সমস্যা গুলো যার যার এলাকায় নিজেদেরই করতে হবে। সিটি করপোরেশনে এলাকায় হলে দায় সিটি করপোরেশনের আর ইউনিয়ন এলাকায় হলে দায় ওই ইউনিয়ন পরিষদের। তবে আজকে যদি পুলিশ সুপার তাদের সবাইকে উঠিয়ে দেন তাতেও দোষ হবে। আবার তাদের উঠিয়ে দিলে তারা নানা অপকর্মে লিপ্ত হবে। তাই তাদের জন্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের বিকল্প ব্যবস্থা করে দিয়ে তখন নির্দেশনা দিতে হবে নতুন করে রাস্তার পাশে আর কোন দোকান বসতে পারবে না।
যানজট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সভায় সিটি করপোরেশনের কোন প্রতিনিধি রয়েছেন কিনা জানতে চান সেলিম ওসমান। তখন জেলা প্রশাসক জানান সিটি করপোরেশনের কোন প্রতিনিধি নেই বলে জানালে তিনি বলেন, কোথায় কার সাথে কি ঝগড়া আমি জানি না। কিন্তু আপসোস একটি মিটিংয়েও আমরা সামনা সামনি হতে পারলাম না। যদি মিটিংয়ে না আসেন তাহলে আমি প্রস্তাব দিচ্ছি আপনি আমাকে ডাকেন। সেখানে গিয়েই নয়তো নগরীর সমস্যা সমাধানে আলোচনা করবো।
১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যা সম্পর্কে তিনি বলেন, যতদিন না ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল পরিচালনার জন্য কোন কমিটি গঠন করা যাচ্ছে ততদিন হাসপাতালের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। খানপুর হাসপাতালে ডিসি, এসপি, চিকিৎসা এবং দুইজন সংসদ সদস্যকে নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা সকলে সম্মিলিতভাবে কাজ করে হাসপাতালের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করেছি। সকলের প্রচেষ্টার সরকারী অর্থায়নে হাসপাতালে একটি বহুতল ভবন হতে যাচ্ছে। এটি অবশ্যই কমিটির সকলেই প্রশংসনীয় কাজ করেছেন।
জেলা প্রশাসক রাব্বি মিঞার সভাপেিত্ব সভায় রূপগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়া তার বক্তব্যে রূপগঞ্জে বিপুল পরিমান গোলা বারুদ উদ্ধারে পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদ জানান। সেই সাথে তিনি উল্লেখ করেন, রূপগঞ্জে আদর্শ নগরে একটি কওমি মাদ্রাসা রয়েছে। যে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক জামায়াতের রোকন। একটি মামলায় জেলও খেটেছেন। কিছু আহলে মাদ্রাসা রয়েছে যেগুলোর ব্যাপারে আমি প্রশাসনকে খোঁজ খবর রাখার অনুরোধ জানাবো। সেই সাথে কিছুদিন পূর্বে আমাদের এলাকার সংসদ সদস্য গাজী গোলাম দস্তগীর সাহেবের কার্যালয়ে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে ছিল। সেই অস্ত্রের ঝনঝনানি রূপগঞ্জের সর্বত্র। রূপগঞ্জ থেকে যেমন বিপুল পরিমান গোলা বারুদ উদ্ধার করা হয়েছে ঠিক তেমনি রূপগঞ্জ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান চালানো হোক।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ইউএনও তাসমিন জেবিন বিনতে শেখ তার বক্তব্যে যানজট নিরসনে নিতাইগঞ্জের পাশাপাশি পঞ্চবটি, ফতুল্লা বাজার, ও পাগলা বাজার এলাকায় রাস্তার দুইপাশে ট্রাক স্ট্যান্ড করে রাখার বিষয়টির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ জানান।
জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক তার বক্তব্যে বলেন, রূপগঞ্জে যে পরিমান গোলা বারুদ উদ্ধার করা হয়েছে তা দিয়ে যে কোন ধরনের বড় নাশকতা ঘটনা সম্ভব ছিল। পুলিশের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে একটি ঝুঁকি থেকে দেশকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এমন অসংখ্য ঝুঁকি রয়ে গেছে। এ অস্ত্র উদ্ধারের পূর্বে রূপগঞ্জে অস্ত্রের ব্যাপারে সর্বত্র একটি গুঞ্জন ছিল। সেই তথ্যটি আমাদের পুলিশের কাছে আরো আসা উচিত ছিল। আমি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সকলের কাছে অনুরোধ রাখবো আপনারা সব সময় জনগনের সাথে মিশে থাকেন। তাই মাঠ পর্যায়ের তথ্য গুলো আমাদের আগে আপনারা জানতে পারেন। জঙ্গীদের ব্যাপারে আপনারা সব সময় চোখ কান খোলা রাখবেন। আমাদের শুধু একটু তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করবেন বাকী কাজ টুকু আমরা সম্মিলিতভাবে করে নেব।
জেলা প্রশাসক রাব্বি মিঞা তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, নারায়ণগঞ্জকে একটি প্রথম শ্রেনীর জেলা রূপান্তরিত করতে যে সকল উন্নয়ন কাজ গুলো করা প্রয়োজন সেই ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। যার মধ্যে ২নং রেলগেইট, চাষাঢ়া, সাইনবোর্ড এলাকায় ফুটওভার ব্রিজ, নারায়ণগঞ্জ-কমলাপুর ডাবল রেললাইন, সাইনবোর্ড থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত ৪ লেন রাস্তা সহ বেশ কয়েকটি উন্নয়ন কাজের জন্য প্রকল্প দেওয়া হয়েছে বলে তিনি সভায় উপস্থিত সকলকে অবহিত করেন সেই সাথে সেগুলো বাস্তবায়ন হতে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সহযোগীতা কামনা করেন।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, র্যাব ১১ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন, সিভিল সার্জন এহছানুল হক, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জ্যোতি বিকাশ, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ সভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল, সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজদ বিশ্বাস, বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যন আতাউর রহমান মুকুল, সোনারগাঁ উপজেলার চেয়ারম্যান আজারুল ইসলাম মান্নান, বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী হাবিব, সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা ইসলাম, প্রমুখ।

