বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ বুধবার ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলমোড়ের একাংশ অবৈধ স্থাপনা বহাল রেখে আরেক অংশের ৫ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করায় তীব্র সমালোচনা করছেন স্থানীয়রা সওজের উচ্ছেদ নেতৃত্বদানকারী প্রকৌশলীদের। ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইলমোড়ের দক্ষিণ পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলেও উত্তর পাশে উচ্ছেদ না করে উচ্ছেদে পক্ষপাতিত্ব করায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে উচ্ছেদের দোকানপাট হারানো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় আমজনতা। তাদের অভিযোগ শিমরাইলমোড়ের উত্তর পাশের দোকানপাট ও বাস কাউন্টার এর কাছ থেকে সওজের ওই প্রকৌশলীরা মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা নেওয়ার কারণে সেখানে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালায়নি।
গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টায় নারায়ণগঞ্জ সওজের ভিটিকান্দি সড়ক উপ বিভাগের সকারী প্রকৌশলী ইমরান ফারহান সোমেল এবং উপসহকারী প্রকৌশলী সোহেল মাহমুদ এর নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। উচ্ছেদের সময় কোন পুলিশ না থাকায় সড়ক মহাসড়ক ও ফুটপাত ঘেঁষে গড়ে উঠা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা উচ্ছেদকারীদের উচ্ছেদে বাধাঁ প্রদান করে রমজান মাস এবং ঈদের দোহাই দিয়ে। এ সময় হাজারো মানুষ উচ্ছেদকারী প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। এ সময় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সাদেকুর রহমান ছাদেক সওজের উপসহকারী প্রকৌশলী সোহেল মাহমুদ এর সাথে তর্ক বিতর্কের এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি হয় এতে কিছুক্ষনের জন্য উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ থাকে। পরে ওই প্রকৌশলী শিমরাইলমোড়ে কতর্বরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মোল্ল্যা তাসলিম হোসেনকে তাৎক্ষনিক ফোন করলে তিনি শিমরাইলমোড়ে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ সার্জেন্ট পাঠলে পুনরায় উচ্চেদ অভিযান চলে। পরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। বেলা ২ টা পর্যন্ত শিমরাইলমোড়ের দক্ষিণপাশের প্রায় ৫ শতাধিক অস্থায়ী দোকানপাট ভেকু দিয়ে গুড়িঁয়ে দেয়। কিন্তু মহাসড়কের উত্তরপাশে শত শত অবৈধ দোকানপাট ও বাস কাউন্টার থাকলেও উপসহকারী প্রকৌশলী সোহেল মাহমুদ উত্তর পশে ভেঁকু নিয়ে গিয়েও সেগুলো উচ্ছেদ না করে উচ্ছেদ অভিযান সমাপ্ত করে শিমরাইল ট্রাফিক পুলিশ বক্সে বসে খোশগল্প করে চলে যান। মহাসড়কের উত্তপাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না কেন করা হয়নি এ প্রসঙ্গে উপসহকারী প্রকৌশলী সোহেল মাহমুদ কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। শিমরাইলমোড়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ সাধারন মানুষের অভিযোগ যে সকল অবৈধ স্থাপনা থেকে সওজের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের আর্থিক ভাবে ম্যানেজ করা হয়েছে তাদের অবৈধ স্থাপনা বহাল রেখেছে। আর যারা তাদেরকে ম্যানেজ করেনি তাদের অবৈধ স্থাপনা গুড়িঁয়ে দিয়েছে। তবে এ ব্যাপারে উপসহকারী প্রকৌশলী সোহেল মাহমুদ বলেন কোন প্রকার আর্থিক সম্পর্ক নেই অবৈধ স্থাপনার সঙ্গে জড়িতদের সাথে। মহাসড়কের দক্ষিণপাশে সড়ক-মহাসড় ও ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্চেদ করায় পথচারীসহ সাধারণ মানুষ খুশি। তাদের দাবি উচ্ছেদে পক্ষপাতিত্ব না করে কিংবা আর্থিকভাবে ম্যানেজ না হয়ে মহাসড়কের উত্তর পাশের সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সর্বসাধারনের চলাচলের পথকে সুগম করে দেওয়ার দাবি। সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা জবর দখল করে শিমরাইলমোড়ের মার্কেট মালিকরা মার্কেটের সামনে আন্ডার গ্রাউন্ডে স্থায়ী পাকা ভবন হিসেবে দোকানপাট গড়ে তুলে পজিশন বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ওয়ান ইলেভেনের সময় সেনাবাহিনী মার্কেটের ওই সকল স্থাপনা বুল ডোজার দিযে গুঁড়িযে দিযে ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে সওজের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের মোটা অংকের টাকা দিযে আবারো গড়ে তোলে স্থায়ী ওই সব ইমারত।
