বিজয় বার্তা২৪ ডটকমঃ
২০১০ সালের ৩ জুনের এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিমতলীতে ১২৪ জন মানুষ প্রাণ হারান।
আহত হন অর্ধশতাধিক। পুড়ে যায় ২৩টি বসতবাড়ি, দোকানপাট ও কারখানা। দিবসটিতে নিহতদের স্মরণে দোয়া-মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনার সাত বছর পরও ওই এলাকার রাসায়নিক গুদামগুলো সরানো হয়নি।
২০১১ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে ঢাকার আবাসিক এলাকা থেকে রাসায়নিক কারখানা ও গুদামগুলো কামরাঙ্গীরচর ও কেরাণীগঞ্জে সরানোর সিদ্ধান্ত হলেও এখনও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
নীমতলীতে ঢুকতেই দেতালা পোড়া বাড়িটি আজও সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ২০১০ সালের ৩রা জুনের ভয়াভয় অগ্নিকান্ডের। পুড়ে যাওয়া দেয়ালগুলো মনে করিয়ে দেয়, সেদিন নিহত হওয়া ১২৪ জনেরও বেশি মানুষের কথা।
জীবন থেমে থাকে না, তাই সময়ের বহমান যাত্রায় গত সাত বছরে অনেক পুড়ে যাওয়া ভবন নিজেদের চেষ্টায় মেরামত করে নিয়েছেন নিমতলীবাসী। কিন্তু স্বজন হারানোর যে ক্ষত, তা কখনোই মলিন হবার নয়। এখন সেসব স্মৃতির বহিঃপ্রকাশ হয় কখনো নীরবতায়, আবার কখনো শব্দে-ক্ষোভে ফেটে পড়েন নিমতলীবাসী।
সেদিন আগুণ নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিলো সরু গলিতে আগুণ নির্বাপণের কাজ করতে গিয়ে। সে সমস্যা আজও দৃশ্যমান। শুধু নীমতলী নয়, ঘনবসতি আর ৬৫ শতাংশেরও বেশি সরু রাস্তার কারণে পুরাণ ঢাকার বেশিরভাগ এলাকা ও বসবাসকারী মানুষরা রয়েছে ঝুঁকিতে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের (অপারেশন) পরিচালক মেজর শাকিল নেওয়াজ বলেন, ‘পুরাতন ঢাকায় তো রাস্তা বলতে কিছুই নেই। এখানকার ৭৬ শতাংশ রাস্তা সরু। যেভাবে আমরা যুদ্ধ করে যাচ্ছি, যদি ভূমিকম্পের মতো একটা বড় ধরণের দুর্ঘটনা হয় তাহলে এটা খুবই কঠিন হয়ে যাবে।’
পুরাণ ঢাকার অলিগলিতে এখনো দেখা যায় দাহ্য জাতীয় জিনিসপত্রের দোকানপাট আর কারখানা। এসব কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন।
তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের দাবি, এটা অগ্নি ঝুঁকিপূর্ণ নয় কিন্তু যে সমস্ত প্রতিনিধি আমাদের অভিযানের সঙ্গে থাকেন তারা বলেন যে, এটা ঝুঁকিপূর্ণ।’
ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে নিহত স্মরণে আর সচেতনতা সৃষ্টির সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে এই স্মৃতি ফলক। নীমতলীর অগ্নিকান্ডের মতো কোন ঘটনা যেনো আর না ঘটে তাই এখানকার মানুষের দাবি, সচেতনতা হোক প্রতিদিনের, প্রতিটি মানুষের।

