বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জ বন্দরের চাঞ্চল্যকর হাফেজ আনিস হত্যা মামলার মূল আসামীরা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। সোমবার লৌমহর্ষক এ হত্যাকান্ডের ৪দিন অতিবাহিত হতে চললেও পুলিশ আনিসের হত্যাকারী পারভেজ, শাহ আলম, সজল, রাজু, ফয়সাল ও শামীমকে গ্রেফতারে ব্যার্থতার পরিচয় দিচ্ছে। এদিকে আনিস হত্যার পর হতে সাবদী বাজার ও তার আশ পাশের এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অপরদিকে আনিস হত্যাকান্ডকে ঘিরে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। মূলতঃ ড্রেজার ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নৃশংসভাবে সহযোগীদের হাতে খুন হয়েছে বন্দর থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও মহানগর বিএনপির নেতা মোঃ মহিউদ্দিন শিশিরের ছোট ভাই হাফেজ আনিস। খুন হওয়ার আগে আনিসের সঙ্গে কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধাণ ও কথিত জাতীয় পার্টির নেতা শাহ আলমের ড্রেজরর ব্যবসা নিয়ে বিরোধ হয়। এছাড়াও সর্বশেষ কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আনিসের ভাই মহিউদ্দিন শিশির বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে দেলোয়ার প্রধাণের বিপক্ষে নির্বাচন করে। এসব কারণে আনিসকে খুন করা হয়েছে কিনা কিংবা পারভেজ, শাহ আলম ও অন্যান্যদের সঙ্গে তার ড্রেজার ব্যবসা অথবা অন্য কোন বিরোধ রয়েছে কি পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর আলমগীর হোসেন জানান, আনিস হত্যাকান্ডের মূল হোতা পারভেজ ও শাহ আলম গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত হত্যাকান্ডের প্রকৃত বিবরণ পাওয়া যাবেনা। আমরা আসামীদের গ্রেফতারে তৎপরতা চলছে। সূত্র মতে, গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টায় সাবদী বাজারে কালি মন্দির সংলগ্ন সাইদুরের কনফেকশনারী দোকান থেকে স্পীড কিনে নিয়ে তাতে নেশাজাতদ্রব্য মিশিয়ে আনিসকে পান করায় পারভেজের ছোট ভাই শামীম। পরবর্তীতে কালি মন্দিরের ভিতরে নিয়েই প্রথমে সজল রড দিয়ে আনিসের মাথায় আঘাত করে। প্লাস দিয়ে জিহবা ধরে রাখে শাহ আলম। পরবর্তীতে অন্যান্যরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাতে পায়ের রগ কেটে ফেলে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি কোপায়। এ সময় আনিস বাঁচার জন্য ডাক চিৎকার করলে আশ পাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে গেলেও সন্ত্রাসীদের ভয়ে তারা আনিসকে উদ্ধারে এগিয়ে যায়নি। এ ঘটনার পর পরই শাহ আলম-পারভেজ গং বীরদর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে উপস্থিত লোকজন আনিসকে ধরাধরি করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তার হাত ও পায়ের রগ কাটা পাওয়া যায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সোমবার দুপুরে ওই মামলায় ধৃত রুবেলকে ২দিনের রিমান্ডে এনেছে পুলিশ।
